ওয়ানা-দা-ফির‘আওনুফী কাওমিহী ক-লা ইয়া-কাওমি আলাইছা লী মুলকুমিসর ওয়া হাযিহিল আনহা-রু তাজরী মিন তাহতী আফালা-তুবসিরূন।উচ্চারণ
একদিন ফেরাউন তার কওমের মাঝে ঘোষণা করলোঃ ৪৫ হে জনগণ, মিসরের বাদশাহী কি আমার নয় এবং এসব নদী কি আমার অধীনে প্রবাহিত হচ্ছে না? তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ না? ৪৬ তাফহীমুল কুরআন
ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার কওম! মিসরের রাজত্ব কি আমার হাতে নয়? এবং (দেখ) এইসব নদ-নদী আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না? #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী
ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করলঃ হে আমার সম্প্রদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা কি দেখনা?মুজিবুর রহমান
ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ফির‘আওন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার সম্প্রদায় ! মিসর রাজ্য কি আমার নয় ? আর এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত ; তোমরা এটা দেখ না ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর ফির‘আউন তার কওমের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বলল, ‘হে আমার কওম, মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদ-নদী কি আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না, তোমরা কি দেখছ না’?আল-বায়ান
ফেরাউন তার সম্প্রদায়ের মাঝে ঘোষণা দিল। বলল- হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদনদী আমার নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, তোমরা কি তা দেখ না?তাইসিরুল
আর ফির'আউন তার লোকদলের মধ্যে ঘোষণা করে বললে -- "হে আমার স্বজাতি! মিশরের রাজ্য কি আমার নয়, আর এইসব নদনদী যা আমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে? তোমরা কি তবে দেখতে পাচ্ছ না?মাওলানা জহুরুল হক
৪৫
গোটা জাতির মধ্যে ঘোষণার বাস্তব রূপ সম্ভবত এই ছিল যে, ফেরাউন তার দরবারে সাম্রাজ্যের উচ্চ পদস্থ কর্মচারি ও জাতির বড় বড় নেতাদের উদ্দেশ্য করে যে কথা বলে ছিলো ঘোষকদের মাধ্যমে তা গোটা দেশের সমস্ত শহর ও জনপদে প্রচার করা হয়েছিলো। সেই যুগে তার কাছে তো তোষামুদে প্রেস, নিজের পোষা সংবাদ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী বেতার ছিল না যে তার মাধ্যমে ঘোষণা করতো।
৪৬
ঘোষণার এই বিষয়বস্তু থেকেই প্রকাশ পায় যে “হিজ ম্যাজেষ্টির” পায়ের নীচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছিলো। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের একের পর মু’জিযা দেখানো দেবতাদের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও বিশ্বাস নড়বড়ে করে দিয়েছিলো এবং যে তেলেসমাতির মাধ্যমে ফেরাউনদের খান্দান আল্লাহর অবতার সেজে মিসরে তাদের খোদায়ী চালিয়ে যাচ্ছিলো তা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। এই পরিস্থিতি দেখে ফেরাউন বলে উঠেছিলোঃ হতভাগারা, এ দেশে কার রাজত্ব চলছে এবং নীল নদ থেকে উৎপন্ন যে সব নদী-নালার ওপর তোমাদের গোটা আর্থিক কায়-কারবার নির্ভরশীল তা কার নির্দেশে প্রবাহিত হচ্ছে তা তোমরা চোখে দেখতে পাও না? এসব উন্নয়নমূলক কাজ তো করেছি আমি এবং আমার খান্দান আর তোমরা ভক্ত অনুরক্ত হচ্ছো এই ফকীরের।
অর্থাৎ তোমরা কি দেখছ না কত বড় আমার রাজত্ব ও ঐশ্বর্য এবং কী বিপুল আমার ক্ষমতা আর আমার বিপরীতে কত ক্ষুদ্র এই মূসা? এবার তোমরাই বল, তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কী আমার মতো সম্রাটের পক্ষে শোভা পায় এবং এটা কি কোনো যুক্তির কথা? বস্তুত ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের মোহ এভাবেই মানুষের অন্তর্দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ফলে সত্যগ্রহণের নসীব তার হয় না। -অনুবাদক
৫১. আর ফিরআউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘোষণা করে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? আর এ নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত; তোমরা কি দেখছি না?
(৫১) ফিরআউন তার সম্প্রদায়কে সম্বোধন করে বলেছিল,(1) ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি কি মিশরের অধিপতি নই? এই নদীগুলি আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত, (2) তোমরা কি দেখ না?
(1) যখন মূসা (আঃ) এমন কয়েকটি নিদর্শন পেশ করেছিলেন, যার পরেরটি ছিল প্রথমটির চেয়ে আরো বৃহত্তর, তখন ফিরআউন নিজ জাতির মূসা (আঃ)-এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ার আশঙ্কা বোধ করল। তাই সে তার পরাজয়ের গ্লানিকে ঢাকার জন্য এবং অব্যাহতভাবে স্বীয় জাতিকে ধোকায় পতিত রাখার জন্য নতুন ফন্দি এই আঁটল যে, স্বীয় সার্বভৌমত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে মূসা (আঃ)-এর অমর্যাদা ও অপদস্থতাকে প্রকাশ করা হোক, যাতে জাতি তার প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ভয় করে।
(2) এ থেকে বুঝানো হয়েছে নীল-নদ অথবা তার কিছু শাখা-প্রশাখা (অববাহিকা) যা ফিরআউনের মহলের নীচে দিয়ে অতিক্রম করত।