ওয়া জা‘আলাহা-কালিমাতাম বা-কিয়াতান ফী ‘আকিবিহী লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।উচ্চারণ
ইবরাহীম এ কথাটি ২৬ তাঁর পেছনে তাঁর সন্তানদের মধ্যেও রেখে গিয়েছিলো, যাতে তারা এ দিকে ফিরে আসে। ২৭ তাফহীমুল কুরআন
ইবরাহীম এ বিশ্বাসকে এমনই এক বাণী বানিয়ে দিল, যা তার আওলাদের মধ্যে স্থায়ী হয়ে থাকল, #%১০%# যাতে মানুষ (শিরক থেকে) ফিরে আসে।মুফতী তাকী উসমানী
এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণী রূপে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্য যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।মুজিবুর রহমান
এ কথাটিকে সে অক্ষয় বাণীরূপে তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা আল্লাহর দিকেই আকৃষ্ট থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণীরূপে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্যে, যাতে এরা প্রত্যাবর্তন করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর এটিকে সে তার উত্তরসূরীদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী বানিয়ে রেখে গেল, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করতে পারে।আল-বায়ান
এ কথাটিকে সে স্থায়ী বাণীরূপে তার পরবর্তীদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে।তাইসিরুল
আর তিনি এটিকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে একটি চিরন্তন বাণী বানিয়েছিলেন, যেন তারা ফিরতে পারে।মাওলানা জহুরুল হক
২৬
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাস্য হওয়ার অধিকারী নয়, একথাটা।
২৭
অর্থাৎ সঠিক পথ থেকে যখনই সামান্য একটু পদস্খলনও ঘটেছে এ বাণী তখনই তার পথনির্দেশনার জন্য সামনে রয়েছে। আর তারাও সেদিকেই ফিরে এসেছে। এখানে এ ঘটনাটি যে উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে তা হচ্ছে, কুরাইশ গোত্রের কাফেরদের অযৌক্তিকতাকে পুরোপুরি উলংগ করে দেয়া এবং একথা বলে তাদের লজ্জা দেয়া যে, তোমরা পূর্ব-পুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করে থাকলেও এ উদ্দেশ্যে সর্বোত্তম পূর্ব-পুরুষদের বাদ দিয়ে নিজেদের জঘন্যতম পূর্ব-পুরুষদের বেছে নিয়েছো। আরবে যে কারণে কুরাইশদের পৌরোহিত্য চলছিলো তা হচ্ছে, তারা হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈলের বংশধর এবং তাদের নির্মিত কা’বার তত্বাবধায়ক। তাই কুরাইশদের উচিত ছিল তাদের অনুসরণ করা। যারা হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈলের পথ ছেড়ে আশেপাশের মূর্তি পূজরী জাতিসমূহের নিকট থেকে শিরকের শিক্ষা লাভ করেছিলো তাদের অনুসরণ কুরাইশদের জন্য সঠিক ছিল না। এই ঘটনা বর্ণনা করে আরো একটি দিক থেকেও এসব পথভ্রষ্ট লোকদের ভ্রান্তি সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সেটি হচ্ছে, হক ও বাতিল যাচাই বাছাই না করেই যদি চোখ বন্ধ করে বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ ঠিক হতো তাহলে সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীমই এ কাজ করতেন। কিন্তু তিনি তাঁর বাপ-দাদা ও কওমকে পরিষ্কার ভাষায় একথা বলে দিয়েছিলেন, আমি তোমাদের অজ্ঞতা প্রসূত ধর্মের অনুসরণ করতে পারি না যার বিধান অনুসারে তোমরা স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে যারা স্রষ্টা নয় সেই সব সত্তাকে উপাস্য বনিয়ে নিয়েছো। এ থেকে জানা যায়, হযরত ইবরাহীম বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণের সমর্থক নন। বরং তাঁর নীতি ছিল বাপ-দাদার অনুসরণের পূর্বে ব্যক্তিকে চোখ খুলে দেখতে হবে তারা সঠিক পথে আছে কিনা। যদি যুক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তারা সঠিক পথে চলছে না তখন তাদের অনুসরণ বাদ দিয়ে যুক্তি অনুসারে যেটা ন্যায় ও সত্যের পথ সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
অর্থাৎ তাওহীদের বিশ্বাস ও لَا اِلٰهَ اِلَّا الله এর বাণীকে জোরদার প্রচার ও ওসিয়তের মাধ্যমে নিজ বংশধরদের মধ্যে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আওলাদের মধ্যে একদল না একদল দৃঢ়ভাবে এ বাণীকে আঁকড়ে ধরে রাখবে। সুতরাং বিশেষভাবে তার পুত্র হযরত ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালামের মহান বংশধর শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বব্যাপী এ বাণীর এমনই জয়ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বাসে, উচ্চারণে ও কর্মে কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এর পরাক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। -অনুবাদক
২৮. আর এ ঘোষণাকে তিনি চিরন্তন বাণীরূপে রেখে গিয়েছেন তার উত্তরসূরীদের মধ্যে, যাতে তারা ফিরে আসে।
(২৮) এ ঘোষণাকে সে চিরন্তন বাণীরূপে তার পরবর্তীদের জন্য রেখে গেছে;(1) যাতে ওরা (সৎপথে) প্রত্যাবর্তন করে।(2)
(1) অর্থাৎ, এই কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র অসিয়ত তাঁর সন্তানদেরকে করে গেছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, {وَوَصَّى بِهَآ اِبْرَهِِيْمُ بَنِيْهِ وَيَعْقُوْبُ} (البقرة: ১৩২) কেউ কেউ جَعَلَهَا (ক্রিয়া)এর ফায়েল (কর্তৃকারক) আল্লাহকে বানিয়েছেন। অর্থাৎ, আল্লাহ এই কালেমাকে ইবরাহীম (আঃ)-এর পর তাঁর সন্তানদের মধ্যেও বাকী রাখেন এবং তা হল, তারা যেন কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত করে।
(2) অর্থাৎ, ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে তাওহীদবাদীদের এই দল এই জন্য সৃষ্টি করেন যে, এঁদের তাওহীদের নসীহতে মানুষ শিরক থেকে ফিরে আসবে। لَعَلَّهُمْ এর সর্বনামের লক্ষ্য মক্কাবাসী। অর্থাৎ, হতে পারে মক্কাবাসী সেই দ্বীনের প্রতি ফিরে আসবে, যে দ্বীন ছিল ইবরাহীম (আঃ)-এর এবং যে দ্বীনের ভিত্তি ছিল তাওহীদের উপর, শিরকের উপর নয়।