وَجَعَلُواْ لَهُۥ مِنۡ عِبَادِهِۦ جُزۡءًاۚ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَكَفُورٞ مُّبِينٌ

ওয়া জা‘আলূলাহূমিন ‘ইবা-দিহী জুঝআন ইন্নাল ইনছা-না লাকাফূরুম মুবীন।উচ্চারণ

(এসব কিছু জানা এবং মানার পরেও) এসব লোক তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকেই কোন কোন বান্দাকে তাঁর অংশ বানিয়ে দিয়েছে। ১৫ প্রকৃত সত্য এই যে, মানুষ সুস্পষ্ট অকৃতজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন

এবং তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অর্থাৎ সন্তান) স্থির করে নিয়েছে। নিশ্চয়ই মানুষ প্রকাশ্য অকৃতজ্ঞ।মুফতী তাকী উসমানী

তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। মানুষতো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।মুজিবুর রহমান

তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে। বাস্তবিক মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।আল-বায়ান

আর তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে কতককে আল্লাহর অংশ মনে করে নিয়েছে (যেমন ‘ঈসা (আঃ)-কে তারা আল্লাহর পুত্র মনে করে)। মানুষ অবশ্যই স্পষ্টতঃ অকৃতজ্ঞ।তাইসিরুল

তথাপি তারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে থেকে তাঁর সঙ্গে অংশীদার বানিয়েছে। নিঃসন্দেহ মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৫

অংশ বানিয়ে দেয়ার অর্থ আল্লাহর কোন বান্দাকে তাঁর সন্তান ঘোষণা করা। কেননা সন্তান অনিবার্যরূপেই পিতার স্বগোত্রীয় এবং তার অস্তিত্বের একটি অংশ। তাই কোন ব্যক্তিকে আল্লাহর কন্যা বা পুত্র বলার অর্থ এই যে, তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তায় শরীক করা হচ্ছে। এছাড়াও কোন সৃষ্টিকে আল্লাহর অংশ বানানোর আরেকটি রূপ হচ্ছে, যেসব গুণাবলী ও ক্ষমতা ইখতিয়ার শুধু আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট সেই সব গুণাবলী ও ক্ষমতা-ইখতিয়ারে তাকেও শরীক করা এবং এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তার কাছে প্রার্থনা করা, কিংবা তার সামনে ইবাদাত-বন্দেগীর অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করা, অথবা তার ঘোষিত হালাল ও হারামকে অবশ্য পালনীয় শরীয়ত মনে করে নেয়া। কারণ, ব্যক্তি এক্ষেত্রে ‘উলুহিয়াত’ ও ‘রবুবিয়াত’ কে আল্লাহ‌ এবং বান্দার মধ্যে ভাগ করে দেয় এবং তার একটা অংশ বান্দার হাতে তুলে দেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আরবের মুশরিকরা বিশ্বাস করত ফেরেশতাগণ আল্লাহ তাআলার কন্যা। এখান থেকে তাদের সেই বিশ্বাস খণ্ডন করা হচ্ছে। তাদের এ বিশ্বাস যে ভ্রান্ত, সামনের আয়াতসমূহে (২১নং আয়াত পর্যন্ত) সে সম্পর্কে চারটি দলীল পেশ করা হয়েছে। (এক) আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সম্ভব নয়। কেননা সন্তান পিতা-মাতার অংশ হয়ে থাকে। কারণ সন্তান তাদের শুক্র ও ডিম্বানু দ্বারা সৃষ্টি হয়। কাজেই আল্লাহ তাআলার কোন অংশ থাকতে পারে না। তিনি সর্বপ্রকার অংশত্ব হতে পবিত্র। সুতরাং তার কোন সন্তান থাকা অসম্ভব। (দুই) মুশরিকদের নিজেদের অবস্থা হল, তারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানের জন্মকে লজ্জার ব্যাপার গণ্য করে। কারও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে সে যারপরনাই দুঃখিত হয়। আজব ব্যাপার হল, যারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানকে গ্লানিকর মনে করে, তারাই আবার আল্লাহ সম্পর্কে বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার কন্যা সন্তান আছে। (তিন) তাদের এই বিশ্বাস অনুযায়ী ফেরেশতাগণ নারী সাব্যস্ত হয়। অথচ তারা নারী নয়। (চার) যদিও প্রকৃতপক্ষে নারী হওয়াটা লজ্জার কোন বিষয় নয়। কিন্তু সাধারণত পুরুষ অপেক্ষা নারীর যোগ্যতা কম হয়ে থাকে। তাদের দৃষ্টি থাকে বেশ-ভূষা ও অলংকারাদির দিকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা নিজের কথাটাও ভালোভাবে স্পষ্ট করতে পারে না। সুতরাং কথার কথা যদি আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান গ্রহণের ইচ্ছা থাকতও, তবে নারীকে কেন বেছে নেবেন?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫. আর তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তার অংশ সাব্যস্ত করেছে।(১) নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।

(১) অংশ বানিয়ে দেয়ার অর্থ আল্লাহর কোন বান্দাকে তাঁর সন্তান ঘোষণা করা। কেননা সন্তান অনিবার্যরূপেই পিতার স্বগোত্রীয় এবং তার অস্তিত্বের একটি অংশ। তাই কোন ব্যক্তিকে আল্লাহর কন্যা বা পুত্র বলার অর্থ এই যে, তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তায় শরীক করা। মুশরিকরা ফেরেশতাগণকে ‘আল্লাহর কন্যা-সন্তান’ আখ্যা দিত। (দেখুন: জালালাইন, আল-মুয়াসসার)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৫) ওরা তাঁর দাসদের মধ্য হতে (কিছুকে) তাঁর সত্তার অংশ গণ্য করে।(1) মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।

(1) عِبَادٌ বলতে ফিরিশতাগণ। আর جُزْءٌ বলতে কন্যাগণ; অর্থাৎ, ফিরিশতাগণ যাঁদেরকে মুশরিকরা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে তাঁদের ইবাদত করত। এইভাবে তারা সৃষ্টিকে আল্লাহর শরীক এবং তাঁর অংশ মনে করত। অথচ তিনি এ সব থেকে পাক ও পবিত্র। কেউ কেউ جزء বলতে সেই সব পশুকে বুঝিয়েছেন, যার এক অংশকে নযর-নিয়ায স্বরূপ মুশিরকরা আল্লাহর নামে এবং আর এক অংশকে মূর্তিদের নামে বের করত। এর উল্লেখ সূরা আনআমের ১৩৬নং আয়াতে হয়েছে।