ওয়া ইন্নাইলা-রব্বিনা লামুনকালিবূন।উচ্চারণ
এক দিন আমাদের রবের কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে। ১৪ তাফহীমুল কুরআন
নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে। মুফতী তাকী উসমানী
আমরা আমাদের রবের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।মুজিবুর রহমান
আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।আল-বায়ান
আর আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যেতে হবে।তাইসিরুল
আর অবশ্য আমরা আমাদের প্রভুর দিকেই তো ফিরে যাব।মাওলানা জহুরুল হক
১৪
অর্থাৎ প্রতিটি সফরে যাওয়ার সময় স্মরণ করো যে, সামনে আরো একটি বড় সফর আছে এবং সেটিই শেষ সফর। তাছাড়া প্রত্যেকটি সওয়ারী ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনাও যেহেতু থাকে যে, হয়তো বা কোন দুর্ঘটনা এ সফরকেই তার শেষ সফর বানিয়ে দেবে। তাই উত্তম হচ্ছে, প্রত্যেকবারই সে তার রবের কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিকে স্মরণ করে যাত্রা করবে। যাতে মরতে হলেও একেবারে অবচেতনার মৃত্যু যেন না হয়।
এখানে কিছুক্ষণ থেমে এই শিক্ষার নৈতিক ফলাফল ও কিছুটা অনুমান করুন। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, ব্যক্তি কোন সওয়ারীতে আরোহণের সময় জেনে বুঝে পূর্ণ অনুভূতির সাথে এভাবে আল্লাহকে এবং তাঁর কাছে নিজের ফিরে যাওয়া ও জবাবদিহি করার কথা স্মরণ করে যাত্রা করে সে কি অগ্রসর হয়ে কোন পাপাচার অথবা জুলুম নির্যাতনে জড়িত হবে? কোন চরিত্রহীনার সাথে সাক্ষাতের জন্য, কিংবা কোন ক্লাবে মদ্য পান বা জুয়াখেলার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়ও কি কোন মানুষের মুখ থেকে একথা উচ্চারিত হতে পারে অথবা সে তা ভাবতে পারে? কোন শাসক কিংবা কোন সরকারী কর্মচারী অথবা ব্যবসায়ী যে মনে মনে এসব কথা ভেবে এবং মুখে উচ্চারণ করে বাড়ী থেকে বের হলো সেকি তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছে মানুষের হক নষ্ট করতে পারে? কোন সৈনিক নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঘটানো এবং দুর্বলদের স্বাধীনতা নস্যাত করার উদ্দেশ্যে যাত্রার সময়ও কি তার বিমানে আরোহণ কিংবা ট্যাংকে পা রাখতে গিয়ে মুখে একথা উচ্চারণ করতে পারে? যদি না পারে, তাহলে এই একটি মাত্র জিনিস গোনাহর কাজের প্রতিটি তৎপরতায় বাঁধা সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।
এটা যানবাহনে চড়ার দুআ। চড়ার সময় এ দুআ পড়তে হয়। এতে প্রথমত স্বীকার করা হয়েছে যে, যানবাহন আল্লাহ তাআলার নেয়ামত। তিনি এ নি‘আমত দান না করলে মানুষের পক্ষে একে আয়ত্ত করা সম্ভব ছিল না আর সেক্ষেত্রে মানুষকে অশেষ কষ্টের সম্মুখীন হতে হত। দ্বিতীয়ত দুআর শেষ বাক্যে এ দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, যে-কোনও সফরকালে তাকে মনে রাখতে হবে, তার একটি আখেরী সফরও আছে, যখন তাকে এ দুনিয়া ছেড়ে নিজ প্রতিপালকের কাছে চলে যেতে হবে। তখন তাঁর কাছে নিজের সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে। কাজেই এখানে থাকা অবস্থায় এমন কোন কাজ করা উচিত হবে না, যদ্দরুন সেখানে লজ্জিত হতে হয়।
১৪. আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।
(১৪) আর আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।’ (1)
(1) নবী করীম (সাঃ) যখন বাহনে আরোহণ করতেন, তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং سُبْحَانَ الَّذِي থেকে لَمُنْقَلِبُوْنَ পর্যন্ত আয়াতের অংশটুকু পড়তেন। এ ছাড়াও কল্যাণ ও নিরাপত্তা চেয়ে দু’আ করতেন। দু’আগুলো দু’আর বইগুলোতে দ্রষ্টব্য। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ)