وَجَزَـٰٓؤُاْ سَيِّئَةٖ سَيِّئَةٞ مِّثۡلُهَاۖ فَمَنۡ عَفَا وَأَصۡلَحَ فَأَجۡرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلظَّـٰلِمِينَ

ওয়া জাঝাউ ছাইয়িআতিন ছাইয়িআতুম মিছলুহা- ফামান ‘আফা-ওয়া আসলাহা ফাআজরুহূ‘আলাল্লা-হি ইন্নাহূলা-ইউহিবজ জা-লিমীন।উচ্চারণ

খারাপের ৬৪ প্রতিদান সমপর্যায়ের খারাপ। ৬৫ অতঃপর যে মাফ করে দেয় এবং সংশোধন করে তাকে পুরস্কৃত করা আল্লাহর দায়িত্ব। ৬৬ আল্লাহ জালেমদের পছন্দ করেন না। ৬৭ তাফহীমুল কুরআন

মন্দের বদলা অনুরূপ মন্দ। #%১১%# তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধনের চেষ্টা করে, তার সওয়াব আল্লাহর যিম্মায়। নিশ্চয়ই তিনি জালেমদেরকে পছন্দ করেন না।মুফতী তাকী উসমানী

মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ দ্বারা এবং যে ক্ষমা করে ও আপোষ-নিস্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আল্লাহ যালিমদের পছন্দ করেন না।মুজিবুর রহমান

আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোস-নিষ্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহ্ র নিকট আছে। আল্লাহ্ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপোস নিস্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ যালিমদের পছন্দ করেন না।আল-বায়ান

অন্যায়ের প্রতিবিধান হল অনুরূপ অন্যায়। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং সমঝোতা করে, তার প্রতিদান দেয়া আল্লাহর যিম্মায়। সীমাঙ্ঘনকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।তাইসিরুল

আর মন্দের প্রতিফল তার অনুরূপ মন্দ, কিন্ত যে কেউ ক্ষমা করে আর সদ্ভাব সৃষ্টি করে, তাহলে তার পুরস্কার রয়েছে আল্লাহ্‌র নিকটে। নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীদের তিনি ভালবাসেন না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৪

এখান থেকে শেষ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত গোটা বক্তব্য পূর্ববর্তী আয়াতের ব্যাখ্যা স্বরূপ।

৬৫

এটা প্রথম নিয়মতান্ত্রিক বিধান, প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রে যা মনে রাখা দরকার। প্রতিশোধ গ্রহণের বৈধ সীমা হচ্ছে কারো প্রতি যতটুকুন অন্যায় করা হয়েছে সে তার প্রতি ঠিক ততটুকুন অন্যায় করবে। তার চেয়ে বেশী অন্যায় করার অধিকার তার নেই।

৬৬

এটা প্রতিশোধ গ্রহণের দ্বিতীয় বিধান। এর অর্থ অন্যায়কারী থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ যদিও বৈধ, তবে যেখানে ক্ষমা করে দিলে তা সংশোধনের কারণ হতে পারে সেখানে সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রতিশোধ গ্রহণের পরিবর্তে মাফ করে দেয়া অধিক উত্তম। যেহেতু মানুষ নিজেকে কষ্ট দিয়ে এই ক্ষমা প্রদর্শন করে তাই আল্লাহ‌ বলেন, এর প্রতিদান দেয়া আমার দায়িত্ব। কারণ, সত্য পথ থেকে বিচ্যুত মানুষকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে তুমি এই তিক্ততা হজম করেছো।

৬৭

এই সতর্ক বাণীর মধ্যে প্রতিশোধ গ্রহণ সম্পর্কে তৃতীয় আরেকটি বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে, অন্যের কৃত জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে করতে কোন ব্যক্তির নিজেরই জালেম না হয়ে যাওয়া উচিত। একটি অন্যায়ের পরিবর্তে তার চেয়ে বড় অন্যায় করে ফেলা বৈধ নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অপর কাউকে একটি চপটেঘাত করে তাহলে সে তাকে একটি চপেটাঘাতই করতে পারে, অসংখ্য লাথি ও ঘুষি মারতে পারে না। অনুরূপ গোনাহর, প্রতিশোধ গোনাহর কাজের মাধ্যমে নেয়া ঠিক নয় যেমন কোন জালেম যদি কারোর পুত্রকে হত্যা করে তাহলে তার পুত্রকে হত্যা করা জায়েয না। কিংবা কোন দুরাচার যদি কারো বোন বা কন্যার সাথে ব্যাভিচার করে তাহলে সেই ব্যক্তির তার বোন বা কন্যার সাথে ব্যভিচার করা হালাল হবে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ কারও উপর কোন জুলুম করা হলে, সেই মজলুমের এ অধিকার আছে যে, জালেম তাকে যে পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে, সেও তাকে সেই পরিমাণ কষ্ট দেবে। কিছুতেই তার বেশি কষ্ট দেওয়া যাবে না। আর এ প্রতিশোধ গ্রহণ তার অধিকার মাত্র। পরের বাক্যে জানানো হয়েছে যে, প্রতিশোধ না নিয়ে যদি সবর করে ও জালেমকে ক্ষমা করে দেয়, তবে সেটা খুবই ফযীলতের কাজ।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪০. আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় ও আপস-নিষ্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে আছে। নিশ্চয় তিনি যালিমদেরকে পছন্দ করেন না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪০) মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।(1) আর যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোস-নিস্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

(1) এটা হল ‘কেসাস’ (অনুরূপ প্রতিশোধ নেওয়া)এর অনুমতি। মন্দের বদলা যদিও মন্দ নয়, তবুও (শব্দে ও কর্মে) সাদৃশ্য বর্তমান থাকার কারণে এটাকেও মন্দ বলা হয়েছে।