ওয়াল্লাযীনা ইযাআসা-বাহুমুল বাগইউহুম ইয়ানতাসিরূন।উচ্চারণ
এবং তাদের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করা হলে তার মোকাবিলা করে। ৬৩ তাফহীমুল কুরআন
এবং যখন তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হয় তখন তারা তা প্রতিহত করে। #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী
এবং যারা অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে –মুজিবুর রহমান
যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং যারা অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদের উপর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা হলে তারা তার প্রতিবিধান করে।আল-বায়ান
আর তাদের উপর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা হলে নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে।তাইসিরুল
আর যারা তাদের প্রতি যখন বিদ্রোহ আঘাত হানে তারা তখন আত্মরক্ষা করে।মাওলানা জহুরুল হক
৬৩
এটাও ঈমানদারদের একটা সর্বোৎকৃষ্ট গুণ। তারা জালেম ও নিষ্ঠুরদের জন্য সহজ শিকার নয়। তাদের কোমল স্বভাব এবং ক্ষমাশীলতা দুর্বলতার কারণে নয়। তাদের ভিক্ষু ও পাদরীদের মত মিসকীন হয়ে থাকার শিক্ষা দেয়া হয়নি। তাদের ভদ্রতার দাবী হচ্ছে বিজয়ী হলে বিজিতের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। সক্ষম হলে প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মাফ করে এবং অধীনস্ত ও দুর্বল ব্যক্তির দ্বারা কোন ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হলে তা উপেক্ষা করে যায়। কিন্তু কোন শক্তিশালী ব্যক্তি যদি তার শক্তির অহংকারে তার প্রতি বাড়াবাড়ি করে তাহলে বুক টান করে দাঁড়িয়ে যায় এবং তাকে উচিত শিক্ষা দান করে। মু’মিন কখনো জালেমের কাছে হার মানে না এবং অহংকারীর সামনে মাথা নত করে না। এ ধরনের লোকদের জন্য তারা বড় কঠিন খাদ্য যা চিবানোর প্রচেষ্টাকারীর মাড়িই ভেঙে দেয়।
কারও প্রতি জুলুম করা হলে সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রতিহত করাও ঈমানের দাবি। কেননা জুলুম সয়ে যাওয়ার অর্থ নিজেকে অপমানিত করা। নিজেকে অপমানিত করা কোন মুমিনের জন্য শোভন নয়। তা ছাড়া জুলুমকে প্রতিহত করা না হলে জুলুমকারী স্পর্ধিত হয়ে ওঠে। ফলে তার জুলুমের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় সে ব্যক্তি-বিশেষকেই নয়; বরং গোটা মুসলিম সমাজকেই নিজ অত্যাচারে জর্জরিত করে তোলে এমনকি আল্লাহ তাআলার দীনও তার সীমালংঘনের শিকার হয়। যাতে এই পর্যায়ে পৌঁছতে না পারে তাই প্রথম যাত্রাতেই তাকে থামিয়ে দেওয়া উচিত। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রতিশোধ গ্রহণ সীমালংঘনে পর্যবসিত না হয়, যেমন পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী, কুরতুবী, রূহুল মাআনী প্রভৃতি তাফসীর গ্রন্থ অবলম্বনে)।
৩৯. আর যারা, যখন তাদের উপর সীমালঙ্গন হয় তখন তারা তার প্ৰতিবিধান করে।
(৩৯) এবং যারা অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।(1)
(1) অর্থাৎ, তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করতে অপারগ নয়। প্রতিশোধ নিতে চাইলে নিতে পারে। কিন্তু শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষমা করে দেওয়াকে প্রাধান্য দেয়। যেমন, নবী করীম (সাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন এমন লোকদের ব্যাপারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, যারা ছিল তাঁর রক্তপিপাসু। হুদাইবিয়ার সন্ধির দিন তিনি সেই ৮০জন লোককে মাফ করে দিয়েছিলেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। লাবীদ ইবনে আ’স্বাম ইয়াহুদীর কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, যে তাঁকে যাদু করেছিল। সেই ইয়াহুদী মহিলাকেও তিনি মাফ করে দিয়েছিলেন, যে তাঁর খাদ্যে বিষ মাখিয়ে দিয়েছিল। যার কষ্ট তিনি জীবনের শেষে মরণ-মুহূর্তেও অনুভব করেছিলেন। (ইবনে কাসীর) (অবশ্য পরবর্তীতে তারই বিষে এক সাহাবীর মৃত্যু হলে তার খুনের বদলে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।)