أَمۡ يَقُولُونَ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبٗاۖ فَإِن يَشَإِ ٱللَّهُ يَخۡتِمۡ عَلَىٰ قَلۡبِكَۗ وَيَمۡحُ ٱللَّهُ ٱلۡبَٰطِلَ وَيُحِقُّ ٱلۡحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

আম ইয়াকূলূনাফ তার-‘আলাল্লা-হি কাযিবান ফাইয়ঁইয়াশাইল্লা-হু ইয়াখতিম ‘আলাকালবিকা ওয়া ইয়ামহুল্লা-হুল বা-তিলা ওয়া ইউহিক্কুল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।উচ্চারণ

এ লোকেরা কি বলে, এই ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে অপবাদ তৈরী করেছে? ৪৩ আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার দিলের ওপর মোহর মেরে দিতেন। ৪৪ তিনি বাতিলকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং নিজের আদেশে সত্যকে সত্য প্রমাণ করে দেখান। ৪৫ তিনি মনের গোপন বিষয়ও জানেন। ৪৬ তাফহীমুল কুরআন

তবে কি তারা বলে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করেছে? অথচ আল্লাহ চাইলে তোমার অন্তরে মোহর করে দিতে পারেন। আল্লাহ তো মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন ও সত্যকে নিজ বাণীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরে লুকায়িত বিষয়াবলীও জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি বলে যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে? যদি তা’ই হত তাহলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার হৃদয় মোহর করে দিতেন। আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্তরে যা আছে সেই বিষয়ে তিনি সবিশেষ অবহিত।মুজিবুর রহমান

নাকি তারা একথা বলে যে, তিনি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করেছেন? আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনার অন্তরে মোহর এঁটে দিতেন। বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তর্নিহিত বিষয় সম্পর্কে সর্বিশেষ জ্ঞাত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা কি বলে যে, সে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে ? যদি তাই হত তবে আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তোমার হৃদয় মোহর করে দিতেন। আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দিয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্তরে যা আছে সে বিষয়ে তিনি তো সবিশেষ অবহিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি একথা বলে যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে? অথচ যদি আল্লাহ চাইতেন তোমার হৃদয়ে মোহর মেরে দিতেন। আর আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে, সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।আল-বায়ান

তারা কি বলে যে, এ লোক আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করেছে? আল্লাহ চাইলে তোমার হৃদয়ে মোহর মেরে দিতেন। বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি (সকলের) অন্তরে নিহিত বিষয় সম্পর্কে খুবই অবগত।তাইসিরুল

অথবা তারা কি বলে -- "সে আল্লাহ্ সম্পর্কে এক মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে?" কিন্ত আল্লাহ্ যদি চাইতেন তাহলে তোমার হৃদয়ে তিনি মোহর মেরে দিতেন। বস্তুত আল্লাহ্ মিথ্যাকে মুছে ফেলেন এবং সত্যকে সত্য প্রতিপন্ন করবেন তাঁর বাণীর দ্বারা। নিঃসন্দেহ তাদের অন্তরে যা রয়েছে সে-সন্বন্ধে তিনি সম্যক জ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৩

এই প্রশ্নবোধক বাক্যাংশে তীব্র তিরস্কার প্রচ্ছন্ন আছে, যার সারকথা হলো, হে নবী, এসব লোক কি এতই দুঃসাহসী ও নির্ভিক যে তোমার বিরুদ্ধে আল্লাহ‌ সম্পর্কে মিথ্যা বলার মত ঘৃণিত অপবাদ আরোপ করতে আদৌ লজ্জা অনুভব করলো না? এরা তোমার বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে যে তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তা আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করছো?

৪৪

অর্থাৎ এত বড় মিথ্যা কেবল তারাই বলে যাদের হৃদয়ে মোহর করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ‌ ইচ্ছা করলে তোমাকেও তাদের মধ্যে শামিল করে দেবেন। কিন্তু এটা তাঁর মেহেরবানী যে তিনি তোমাকে এই দল থেকে আলাদা করে রেখেছেন। এই জবাবের মাধ্যমে সেই সব লোকদের প্রতি তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ অপবাদ আরোপ করছিলো। এর তাৎপর্য হচ্ছেঃ হে নবী, এরা তোমাকেও তাদের মত স্বভাবের মানুষ মনে করে নিয়েছে। এরা যেমন নিজ স্বার্থের জন্য বড় বড় মিথ্যা বলতে কুন্ঠিত হয় না। তেমনি মনে করে নিয়েছে তুমিও অনুরূপ আপন স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি মিথ্যা সাজিয়ে এনেছো। কিন্তু এটা আল্লাহরই মেহেরবানী যে তিনি তাদের মত তোমার হৃদয়ে তো মোহর লাগাননি।

৪৫

অর্থাৎ এটা আল্লাহর নিয়ম যে তিনি বাতিলকে কখনো স্থায়িত্ব দান করেন না এবং পরিশেষে ন্যায় ও সত্যকে ন্যায় ও সত্য হিসেবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। অতএব, হে নবী (সা.), তুমি এসব মিথ্যা অপবাদের আদৌ পরোয়া করো না এবং নিজের কাজ করতে থাকো। এমন এক সময় আসবে যখন এসব মিথ্যা ধূলিকণার মত উড়ে যাবে। কিন্তু তুমি যা পেশ করছো তার ন্যায় ও সত্য হওয়া স্পষ্ট হয়ে যাবে।

৪৬

অর্থাৎ তিনি জানেন, তোমার বিরুদ্ধে এসব অপবাদ কেন আরোপ করা হচ্ছে এবং তোমাকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তার পেছনে কি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কাজ করছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি নিজের পক্ষ থেকে এ কুরআন রচনা করতেন (নাউযুবিল্লাহ) তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে মোহর করে দিতেন, ফলে তাঁর পক্ষে এরূপ বাণী পেশ করা সম্ভবই হত না। কেননা আল্লাহ তাআলার রীতিই হল মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদারকে সফল হতে না দেওয়া। যখনই কেউ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে, তিনি তার কথাবার্তাকে অকার্যকর করে দেন এবং তার মিথ্যাচারকে মিটিয়ে দেন। পক্ষান্তরে যার নবুওয়াত দাবি সত্য হয়, তাকে নিজ বাণীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪. নাকি তারা বলে যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, যদি তা-ই হত। তবে আল্লাহ ইচ্ছে করলে আপনার হৃদয় মোহর করে দিতেন। আর আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে তিনি সবিশেষ অবগত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪) ওরা কি বলতে চায় যে, ‘সে (মুহাম্মাদ) আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে’? (যদি তাই হত) তাহলে (হে মুহাম্মাদ!) আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার হৃদয়ে মোহর করে দিতেন।(1) আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন(2) এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্তরে যা আছে সে বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহে সবিশেষ অবহিত।

(1) অর্থাৎ, এই অপবাদে যদি সত্যতা থাকত, তবে আমি তোমার অন্তরে মোহর মেরে দিতাম। যার ফলে সেই কুরআনই মিটে যেত, যা তোমার নিজের মনগড়া বলে দাবী করা হয়। অর্থাৎ, আমি তোমাকে এর কঠিন শাস্তি দিতাম।

(2) এই কুরআনও যদি বাতিল হত (যা মিথ্যুকদের দাবী), তবে অবশ্যই মহান আল্লাহ একেও মিটিয়ে দিতেন। কারণ, এটাই (বাতিলকে মিটিয়ে দেওয়া হল) তাঁর নীতি।