কুল আরআইতুম ইন ক-না মিন ‘ইনদিল্লা-হি ছু ম্মা কাফারতুম বিহী মান আদাল্লুমিম্মান হুওয়া ফী শিক-কিম বা‘ঈদ।উচ্চারণ
হে নবী, এদের বলে দাও, তোমরা কি কখনো একথা ভেবে দেখেছো যে, সত্যিই এ কুরআন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার করতে থাকো তাহলে সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হবে যে এর বিরোধিতায় বহুদূর অগ্রসর হয়েছে। ৬৯ তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল! কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা ভেবে দেখেছ কি এ কুরআন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে, তারপরও তোমরা এটাকে অস্বীকার কর, তবে যে ব্যক্তি (এর) ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত থাকে, তার চেয়ে বেশি বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে?মুফতী তাকী উসমানী
বলঃ তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এই কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ হয়ে থাকে এবং তোমরা ইহা প্রত্যাখ্যান কর, তাহলে যে ব্যক্তি ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত সে অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে?মুজিবুর রহমান
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, অতঃপর তোমরা একে অমান্য কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এই কুরআন আল্লাহ্ র নিকট হতে অবতীর্ণ হয়ে থাকে আর তোমরা এটা প্রত্যাখ্যান কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত আছে, তার অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা কি লক্ষ্য করেছ, তা যদি (কুরআন) আল্লাহর কাছ থেকে এসে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত তার চেয়ে অধিক ভ্রষ্ট আর কে’?আল-বায়ান
বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ এ (কুরআন) যদি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসে থাকে, আর তোমরা সেটাকে অস্বীকার করতেই থাক, তাহলে সে ব্যক্তি ছাড়া অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে বিরোধিতায় বহু দূরে চলে গেছে?তাইসিরুল
তুমি বলো -- "তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি আল্লাহ্র কাছ থেকে হ’য়ে থাকে এবং তোমরা এতে অবিশ্বাস কর, তাহলে তার চাইতে কে বেশী পথভ্রান্ত যে সুদূরব্যাপী বিরুদ্ধাচরণে রয়েছে?"মাওলানা জহুরুল হক
৬৯
এর অর্থ এ নয় যে, কুরআন সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়ে থাকলে এর বিরোধিতার ফলে আমাদের ওপর দুর্ভাগ্য নেমে আসতে পারে শুধু এই ভয়ে এর ওপর ঈমান আনো। বরং এর অর্থ হলো, যেভাবে তোমরা না বুঝে-শুনে, কোন প্রকার ভাবনা-চিন্তা না করে কুরআনকে অস্বীকার করছো, বুঝার চেষ্টা করার পরিবর্তে কানে আঙ্গুল দিচ্ছো এবং অযথা জিদ করে বিরোধিতায় বদ্ধপরিকর হয়েছো তা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি এবং আল্লাহ তা পাঠাননি বলে জানতে পেরেছো এ দাবীও তোমরা করতে পারো না। একথা সুস্পষ্ট যে, কুরআনকে আল্লাহর বাণী বলে মেনে নিতে তোমাদের অস্বীকৃতি নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে নয়, ধারণার ভিত্তিতে। বাহ্যত এ ধারণা যেমন অভ্রান্ত হওয়া সম্ভব তেমনি ভ্রান্ত হওয়াও সম্ভব। এই উভয় সম্ভাবনাকে একটু পর্যালোচনা করে দেখো। মনে করো তোমাদের ধারণাই সঠিক প্রমাণিত হলো। এক্ষেত্রে তোমাদের ধারণা অনুসারে বড় জোর এতটুকু হবে যে, মান্যকারী ও অমান্যকারী উভয়ের পরিণাম একই হবে। কারণ, মৃত্যুর পর উভয়েই মাটিতে মিশে যাবে। এরপরে আর কোন জীবন থাকবে না। যেখানে কুফর ও ঈমানের কোন ভাল মন্দ ফলাফল দেখা দিতে পারে। কিন্তু সত্যি সত্যিই যদি এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং কুরআন যা বলছে তা যদি বাস্তব রূপ নিয়ে সামনে আসে তাহলে বলো তা অস্বীকার করে ও বিরোধিতার ক্ষেত্রে এতদূর অগ্রসর হয়ে তোমরা কোন্ পরিণামের মুখোমুখি হবে? কাজেই তোমাদের আপন স্বার্থই দাবী করে, জিদ ও হঠকারিতা পরিত্যাগ করে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কুরআন সম্পর্কে ভেবে দেখো। চিন্তা-ভাবনার পরও যদি তোমরা ঈমান না আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাও তবে তাই করো। কিন্তু বিরোধিতায় বদ্ধপরিকর হয়ে এ আন্দোলনের পথ রুদ্ধ করার জন্য এতটা অগ্রসর হয়ো না যে মিথ্যা, চক্রান্ত, প্রতারণা এবং জুলুম-নির্যাতনের অস্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করে দেবে এবং শুধু নিজেদের ঈমান আনা থেকে বিরত থাকা যথেষ্ট মনে না করে অন্যদেরকেও ঈমান আনা থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালাতে থাকবে।
৫২. বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছি কি, যদি এ কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল হয়ে থাকে। আর তোমরা এটা প্রত্যাখ্যান কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত আছে, তার চেয়ে বেশী বিভ্রান্ত আর কে?
(৫২) বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এ (কুরআন) আল্লাহর নিকট হতে (অবতীর্ণ) হয়ে থাকে এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত আছে(1) তার অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? (2)
(1) شِقاق এর অর্থ হল জিদ, হঠকারিতা এবং বিরোধিতা। بَعِيد শব্দ সংযোগ করে তাতে আরো আধিক্য (গাঢ়তা) বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ, যে চরম বিরোধিতা এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করে। এমন কি, অবতীর্ণকৃত কুরআনকেও মিথ্যাজ্ঞান করে। এর থেকে অধিক বড় পথভ্রষ্ট ও হতভাগা আর কে হতে পারে?
(2) অর্থাৎ, এমত অবস্থায় তোমাদের থেকে অধিক ভ্রষ্ট ও শত্রু আর কে হতে পারে?