যা-লিকুমবিমা- কুনতুম তাফরহূনা ফিল আরদি বিগাইরিল হাক্কি ওয়া বিমা-কুনতুম তামরহূন।উচ্চারণ
তাদের বলা হবে, তোমাদের এ পরিণতির কারণ হচ্ছে, তোমরা পৃথিবীতে অসত্য নিয়ে মেতে ছিলে এবং সেজন্য গর্ব প্রকাশ করতে। ১০৪ তাফহীমুল কুরআন
এসব হয়েছে এ কারণে যে, পৃথিবীতে তোমরা অন্যায় বিষয় নিয়ে উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা অহমিকা দেখাতে। #%২৪%#মুফতী তাকী উসমানী
এটা এ কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা দম্ভ করতে।মুজিবুর রহমান
এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এটা এই কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাস করতে এবং এইজন্যে যে, তোমরা দম্ভ করতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এটা এ জন্য যে, তোমরা যমীনে অযথা উল্লাস করতে এবং এজন্য যে, তোমরা অহঙ্কার করতে।আল-বায়ান
এর কারণ এই যে, তোমরা অসত্য নিয়ে উল্লাস করতে, আর এজন্য যে, তোমরা গর্ব অহংকার করতে।তাইসিরুল
এমনটাই তোমাদের জন্য কেননা তোমরা দুনিয়াতে বেপরোয়া ব্যবহার করতে কোনো যুক্তি ব্যতীত, আর যেহেতু তোমরা হামবড়াই করতে।মাওলানা জহুরুল হক
১০৪
অর্থাৎ যা ন্যায় ও সত্য ছিল না তোমরা শুধু তার আনুগত্য ও অনুসরণ করেই ক্ষান্ত হওনি বরং সে অসত্য নিয়ে তোমরা এতটা মগ্ন ছিলে যে, তোমাদের সামনে ন্যায় ও সত্য পেশ করা হলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করনি এবং নিজেদের বাতিল পূজার জন্য উল্টো গর্ব করেছো।
সরাসরিভাবে যদিও এ সতর্কবাণী কাফেরদের সম্পর্কে উচ্চারিত, কিন্তু এ দোষ যেসব মুমিনদের মধ্যেও আছে, যারা শরীআতবিরোধী মত ও পথ নিয়ে উল্লাস করে, হারাম রোজগার ও নিষিদ্ধ পানাহার নিয়ে ফুর্তি করে এবং অহমিকাপূর্ণ আচার-আচরণ করে, তারাও এর আওতায় পড়ে যায়। সুতরাং সাবধান হওয়া দরকার সকলেরই। -অনুবাদক
৭৫. এটা এ জন্যে যে, তোমরা যমীনে অযথা উল্লাস করতে(১) এবং এজন্যে যে, তোমরা অহংকার করতে।
(১) فرح এর অর্থ আনন্দিত ও উল্লাসিত হওয়া এবং مرح এর অর্থ দম্ভ করা, অর্থ-সম্পদের অহংকারী হয়ে অপরের অধিকার খর্ব করা। مرح সর্বাবস্থায় নিন্দনীয় ও হারাম। পক্ষান্তরে فرح অর্থাৎ আনন্দ যদি ধন-সম্পদের নেশায় আল্লাহকে ভুলে গোনাহের কাজ দ্বারা হয়, তবে হারাম ও না জায়েয। আলোচ্য আয়াতে এই আনন্দই বোঝানো হয়েছে। কারূনের কাহিনীতেও فرح এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়েছে, (لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ) (সূরা আল-কাসাস: ৭৬) অর্থাৎ আনন্দ- উল্লাস করো না। নিশ্চয় আল্লাহ আনন্দ উল্লাসকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আনন্দ উল্লাসের আরেক স্তর হল পার্থিব নেয়ামত ও সুখকে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ও দান মনে করে তজ্জন্যে আনন্দ প্রকাশ করা। এটা জায়েয, মোস্তাহাব বরং আদিষ্ট কর্তব্য। এ আনন্দ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, (قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا) অর্থাৎ বলুন, আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে (তা হয়েছে), সুতরাং এ কারণে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। (সূরা ইউনুস: ৫৮)
(৭৫) এটা এ কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা আনন্দ করতে ও দম্ভ করতে। (1)
(1) অর্থাৎ, তোমাদের এই বিভ্রান্তি এই কথার কুফল যে, তোমরা কুফরী ও অন্যায়-অনাচারে এত এগিয়ে গিয়েছিলে যে, এতে তোমরা আনন্দ ও গর্ববোধ করতে। দম্ভ ও গর্ববোধের মধ্যে অতিরিক্ত আনন্দের প্রকাশ থাকে, যাতে অহংকারের মিশ্রণ থাকে।