ইয়াওমা হুম বা-রিঝূনা লা-ইয়াখফা-‘আলাল্লা-হি মিনহুম শাইউল লিমানিল মুলকুল ইয়াওমা লিল্লা-হিল ওয়া-হিদিল কাহহা-র।উচ্চারণ
সেটি এমন দিন যখন সব মানুষের সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে। আল্লাহর কাছে তাদের কোন কথাই গোপন থাকবে না। (সেদিন ঘোষণা দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে)। আজ রাজত্ব কার? ২৭ (সমস্ত সৃষ্টি বলে উঠবে) একমাত্র আল্লাহর যিনি কাহ্হার। তাফহীমুল কুরআন
যে দিন তারা সকলে প্রকাশ্যে এসে যাবে। আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (বলা হবে) আজ রাজত্ব কার? (উত্তর হবে একটিই যে,) কেবল আল্লাহর, যিনি এক, পরাক্রমশালী।মুফতী তাকী উসমানী
যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে। সেদিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবেনা। ঐ দিন কর্তৃত্ব কার? এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।মুজিবুর রহমান
যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে সেদিন আল্লাহ্ র নিকট এদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ কর্তৃত্ব কার ? আল্লাহরই, যিনি এক, পরাক্রমশালী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে দিন লোকেরা প্রকাশ হয়ে পড়বে। সে দিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। ‘আজ রাজত্ব কার’? প্রবল প্রতাপশালী এক আল্লাহর।আল-বায়ান
মানুষ যেদিন (ক্ববর থেকে) বের হয়ে আসবে, আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (সেদিন ঘোষণা দেয়া হবে) আজ একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার? (উত্তর আসবে) এক ও একক মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর।তাইসিরুল
যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহ্র সমক্ষে তাদের সন্বন্ধে কিছুই লুকোনো থাকবে না। "আজকের দিনে কার রাজত্ব?" "একক সার্বভৌম কর্তৃত্বশীল আল্লাহ্র।"মাওলানা জহুরুল হক
২৭
অর্থাৎ পৃথিবীতে তো বহু অহংকারী ভ্রান্ত লোক নিজেদের বাদশাহী ও শক্তিমত্তার ডঙ্কা বাজাতো আর বহু সংখ্যক নির্বোধ তাদের বাদশাহী ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতো। এখন বলো প্রকৃতপক্ষে বাদশাহী কার? ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকৃত মালিক কে? আর হুকুমই বা চলে কার? এটা এমন একটা বিষয় যে কোন ব্যক্তি যদি তা বুঝার চেষ্টা করে তাহলে সে যত বড় বাদশাহ কিংবা একনায়ক হয়ে থাকুক না কেন, ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং তার মন-মগজ থেকে শক্তিমত্তার সমস্ত অহংকার উবে যাবে। এখানে ঐতিহাসিক এ ঘটনাটা উল্লেখ্য যে, সামানী খান্দানের শাসক নাসর ইবনে আহমাদ (৩০১-৩৩১হিঃ) নিশাপুরে প্রবেশ করলে একটি দরবার ডাকেন এবং সিংহাসনে বসার পর কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে কাজকর্ম শুরু হবে বলে আদেশ দেন। একথা শুনে একজন সম্মানিত জ্ঞানী ব্যক্তি অগ্রসর হন এবং এ রুকূ’টি তিলাওয়াত করেন। যখন তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন তখন নাসর ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি কাঁপতে কাঁপতে সিংহাসন থেকে নামলেন এবং মাথার মুকুট খুলে সিজদায় পড়ে বললেনঃ হে আমার প্রভু, বাদশাহী তোমারই, আমার নয়।
আল্লাহ তাআলার কাছে তো কোনও দিনই কারও কিছু গোপন থাকে না, তা সত্ত্বেও হাশর দিবস সম্পর্কে বিশেষভাবে একথা বলা হয়েছে এজন্য যে, দুনিয়ায় মানুষ গুপ্তস্থানে, প্রাচীরের ভেতর, ঘরের মধ্যে বা এরকম লোকচক্ষুর আড়ালে যেসব কাজ করে সে সম্পর্কে মনে করে কেউ তা দেখছে না। কিন্তু হাশরের ময়দানে এ রকম কোনো আড়াল থাকবে না। সকলেই উন্মুক্ত স্থানে সমবেত হয়ে থাকবে। ফলে এদিন কেউ এ রকম কিছু ভাবতে পারবে না। সকলেই নিশ্চিত থাকবে যে, তাদের সব কিছুই আল্লাহ তাআলার দৃষ্টির সামনে রয়েছে। -অনুবাদক
১৬. যেদিন তারা (লোকসকল) প্রকাশিত হবে সেদিন আল্লাহ্র কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ কর্তৃত্ব কার? আল্লাহরই, যিনি এক, প্রবল প্ৰতাপশালী।(১)
(১) উল্লেখিত আয়াতসমূহে এ বাক্যটি (يَوْمَ التَّلَاقِ) ও (يَوْمَ هُمْ بَارِزُونَ) এর পরে এসেছে। বলাবাহুল্য, (يَوْمَ التَّلَاقِ) তথা সাক্ষাত ও সমাবেশের দিন দ্বিতীয় ফুঁকের পরে হবে। এমনিভাবে (يَوْمَ هُمْ بَارِزُونَ) এর ঘটনাও তখন হবে, যখন দ্বিতীয় ফুৎকারের পরে নতুন ভূপৃষ্ঠ সমতল করে দেয়া হবে, যাতে কোন আড়াল থাকবে না। এরপরে (لِمَنِ الْمُلْكُ) বাক্যটি আনার কারণে বাহ্যত: বোঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলার এ বাণী দ্বিতীয় ফুকের মাধ্যমে সবকিছু পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পরে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু একটি হাদীসে এসেছে “কিয়ামতের প্রারম্ভে আহবানকারী আহবান করে বলবেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কিয়ামত এসেছে, তখন জীবিত মৃত সবাই শুনতে পাবে। আর আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে এসে বললেনঃ আজকের দিনে কার রাজত্ব? একমাত্র পরাক্রম আল্লাহর জন্যই। (মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৭৫, ৩৬৩৭)
তাছাড়া অন্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা’আলা এ উক্তি তখন করবেন, যখন প্রথম ফুকের পর সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং জিবরীল, মীকাইল, ইস্রাফীল, প্রমূখ নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণও মারা যাবে এবং আল্লাহর সত্ত্বা ব্যতীত কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আল্লাহ বলবেন, আজকের দিন রাজত্ব কার? আল্লাহ নিজেই জওয়াব দেবেন: প্ৰবল পরাক্রান্ত এক আল্লাহর!” হাদীস থেকে এর সমর্থন পাওয়া যায়। ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা সমগ্ৰ পৃথিবী এবং সমগ্র আসমানসমূহকে হাতে গুটিয়ে বলবেন: আমিই বাদশাহ! আমিই পরাক্রমশালী, আমি অহংকারী, দুনিয়ার বাদশারা কোথায়? কোথায় পরাক্রমশালীরা? কোথায় অহংকারকারীরা? (বুখারী: ৭৪১২; মুসলিম: ২৭৮৮)
(১৬) যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে(1) সেদিন আল্লাহর নিকট ওদের কিছুই গোপন থাকবে না। (বলা হবে,) আজ কর্তৃত্ব কার?(2) এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই। (3)
(1) অর্থাৎ, জীবিত হয়ে কবরসমূহ থেকে বের হয়ে দন্ডায়মান হবে।
(2) এ কথা কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, যখন সমস্ত মানুষ হাশরের ময়দানে তাঁর সামনে একত্রিত হবে। ‘‘আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে তাঁর মুষ্ঠির মধ্যে এবং আকাশমন্ডলীকে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেন, ‘আমিই বাদশাহ। পৃথিবীর বাদশাহরা আজ কোথায়?’’ (সহীহ বুখারী, তাফসীর সূরা যুমার)
(3) যখন কেউ কিছুই বলবে না, তখন এই উত্তর আল্লাহ তাআলা নিজেই দেবেন। কেউ কেউ বলেন, আল্লাহ তাআলার নির্দেশে একজন ফিরিশতা ঘোষণা দেবেন এবং তাঁর সাথে সাথে সমস্ত কাফের ও মুসলিম সম্মিলিত কণ্ঠে এই উত্তরই দেবে। (ফাতহুল ক্বাদীর)