রফী’উদ্দাজা-তি যুল ‘আরশি ইউলকির রূহা মিন আমরিহী ‘আলা-মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী লিইউনযির ইয়াওমাত্তালা-ক।উচ্চারণ
তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ২৩ আরশের অধিপতি। ২৪ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার কাছে ইচ্ছা নিজের হুকুমে ‘রূহ’ নাযিল করেন ২৫ যাতে সে সাক্ষাতের দিন ২৬ সম্পর্কে সাবধান করে দেয়। তাফহীমুল কুরআন
তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ ওহী) নাযিল করেন। এই জন্য যে, সে সাক্ষাত দিবস সম্পর্কে সতর্ক করবেমুফতী তাকী উসমানী
তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামাতের দিন সম্পর্কে –মুজিবুর রহমান
তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ, যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার প্রতি ইচ্ছা আপন নির্দেশে তিনি ওহী পাঠান, যেন সে মহামিলন সম্পর্কে সতর্ক করেন।আল-বায়ান
তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছে ওয়াহী প্রেরণ করেন যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করে।তাইসিরুল
তিনি স্তরে স্তরে উন্নয়ণকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর আদেশক্রমে রূহ পাঠিয়ে থাকেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যার প্রতি তিনি ইচ্ছা করে থাকেন, যেন সে সতর্ক করতে পারে মহামিলনের দিন সম্পর্কে --মাওলানা জহুরুল হক
২৩
অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টি থেকে তার মর্যাদা অনেক উচ্চে। এ বিশ্ব-জাহানে বিদ্যমান কোন সত্তাই সে ফেরেশতা, নবী, অলী বা অন্য কোন সৃষ্টি যাই হোক না কেন আর তার মর্যাদা অন্য সব সৃষ্টিকুলের তুলনায় যত উচ্চ ও উন্নতই হোক না কেন, আল্লাহ তা’আলার গুণাবলী এবং ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের তাঁর শরীক হওয়ার ধারণা করা তো দূরের কথা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার ধারে কাছে পৌঁছার কথাও কল্পনা করা যায় না।
২৪
অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব-জাহানের বাদশাহ ও শাসক এবং এ সাম্রাজ্যের সিংহাসনের অধিপতি। (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আ’রাফ, টীকা ৪১; ইউনুস, টীকা ৪; আর রা’দ, টীকা ৩ ; ত্বা-হা, টীকা ২)।
২৫
রূহ অর্থ অহী ও নবুওয়াত। (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, আন-নাহল, টীকা ২ ; বনী ইসরাঈল, টীকা ১০৩।) আর “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা এ রূহ নাযিল করেন।” এ বাণীর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর মেহেরবাণী ও অনুগ্রহের ওপর করো কোন ইজারাদারী নেই। অমুক ব্যক্তিকে সৌন্দর্য দান করা হয়েছে কেন এবং অমুক ব্যক্তিকে স্মরণ শক্তি বা অসাধারণ মেধা শক্তি দান করা হয়েছে কেন, একথা বলার অধিকার যেমন কেউ রাখে না, তেমনি কেউ একথা বলারও অধিকার রাখে না যে, অমুক ব্যক্তিকে নবুওয়াতের পদমর্যাদার জন্য বাছাই করা হয়েছে কেন এবং আমরা যাকে চাই তাকে নবী বানানো হয়নি কেন?
২৬
অর্থাৎ যেদিন সমস্ত মানুষ, জিন ও শয়তান একই সময় তাদের রবের সামনে উপস্থিত হবে এবং তাদের কাজ-কর্মের সমস্ত সাক্ষীও উপস্থিত হবে।
ওহীকে রূহ বলা হয় এ কারণে যে, তা মানবাত্মায় সঞ্চারিত হয়, যেমন রূহ সঞ্চারিত হয় মানুষের দেহে। অতঃপর দেহ যেমন রূহের দ্বারা জীবন লাভ করে তেমনি মানবাত্মাও ওহীর হিদায়াত দ্বারা সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে। বস্তুত ওহীর স্পর্শবিহীন মানুষ তার দেহ ও আত্মাসমেত নিষ্প্রাণ জড়পিণ্ড তুল্য। তাতে সত্যিকারের মানবিক প্রাণসঞ্চারের জন্যই আল্লাহ ‘ওহী’ নামক রূহের ব্যবস্থা করেন এবং ডাক দিয়ে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে ডাক দেন সেই জিনিসের দিকে যা তোমাদেরকে প্রাণবান করে তুলবে’ (সূরা আনফাল ৮ : ২৪)। -অনুবাদক
১৫. তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি(১), তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছে স্বীয় আদেশ হতে ওহী প্রেরণ করেন(২), যাতে তিনি সতর্ক করেন সম্মেলন দিবস(৩) সম্পর্কে।
(১) এর আরেক অর্থ ‘তাঁর মহান আরশ সমুচ্চ’। আল্লাহর আরশ সমস্ত পৃথিবী ও আকাশসমূহে পরিব্যাপ্ত এবং সবার ছাদস্বরূপ উচ্চ। সূরা আল-মা'আরেজে (৪ নং আয়াতে) বলা হয়েছেঃ (تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ) এ আয়াতে উল্লেখিত পঞ্চাশ হাজার বছরের পরিমাণ হলে সে দূরত্বের বিশ্লেষণ যা মাটির সপ্তম স্তর থেকে আরশ পর্যন্ত রয়েছে। এ ব্যাখ্যা বহু সংখ্যক পুর্ববর্তী ও পরবর্তী তফসীরবিদদের কাছে অগ্রগণ্য। কোন কোন তফসীরবিদ বলেন, এর অর্থ আল্লাহ তাআলা মুমিন মুত্তাকীদের মর্যাদা বৃদ্ধিকারী। যেমন, কুরআনের অন্যান্য আয়াত এর সাক্ষ্য বহন করে। এক আয়াতে আছে, (نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ) (সূরা আল-আন’আম: ৮৩) অন্য এক আয়াতে আছে, (هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللَّهِ) (সূরা আলে ইমরান: ১৬৩)
(২) রূহ অর্থ অহী ও নবুওয়াত। (কুরতুবী)
(৩) কিয়ামতের একটি নাম (يَوْمَ التَّلَاقِ) বা সম্মেলন দিবস। (তাবারী)
(১৫) তিনি সুউচ্চ মর্যাদাসমূহের অধিকারী, আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর দাসদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় আদেশসহ অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করেন,(1) যাতে সে সাক্ষাতের দিন (কিয়ামত) সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।
(1) رُوْحٌ থেকে ‘অহী’ বুঝানো হয়েছে; যা বান্দার মধ্য থেকে কাউকে রিসালাতের জন্য নির্বাচন করে মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করেন। অহীকে ‘রূহ’ বলে এই জন্য আখ্যায়িত করেছেন যে, যেভাবে মানব জীবনের বিদ্যমানতা ও সুস্থতার মূল রহস্য এই রূহের মধ্যে নিহিত, অনুরূপ অহীর মাধ্যমে মানুষের অন্তঃকরণে জীবন-প্রবাহ সৃষ্টি হয়; যা কুফরী ও শিরকের কারণে মৃত হয়ে থাকে।