هُوَ ٱلَّذِي يُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ رِزۡقٗاۚ وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ

হুওয়াল্লাযী ইউরীকুম আ-য়া-তিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুলাকুম মিনাছ ছামাই রিঝকাওঁ ওয়ামা-ইয়াতাযাক্কারু ইল্লা-মাইঁ ইউনীব।উচ্চারণ

তিনিই তো তোমাদের নিদর্শনসমূহ দেখান ১৯ এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযিক নাযিল করেন ২০ (কিন্তু এসব নিদর্শন দেখে) কেবল তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ২১ তাফহীমুল কুরআন

তিনিই তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযক অবতীর্ণ করেন। উপদেশ তো সেই গ্রহণ করে, যে (হেদায়াতের জন্য) আন্তরিকভাবে রুজু হয়।মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্য রিযক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।মুজিবুর রহমান

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা-ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্যে রিযিক, আল্লাহ্্-অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযক পাঠান। আর যে আল্লাহ অভিমুখী সেই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।আল-বায়ান

তিনি তাঁর নিদর্শনাবলী তোমাদেরকে দেখান আর আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযক অবতীর্ণ করেন. আল্লাহ-অভিমুখীরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।তাইসিরুল

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পাঠিয়ে থাকেন রিযেক। আর কেউ মনোনিবেশ করে না সে ব্যতীত যে ফেরে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৯

নিদর্শনসমূহ বলতে সেসব নিদর্শনকে বুঝানো হয়েছে যা থেকে এ বিশ্ব-জাহানের নির্মাতা, কারিগর, প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক যে একমাত্র আল্লাহ‌ তা’আলা তা জানা যায়।

২০

এখানে রিযিক অর্থ বৃষ্টিপাত। কেননা, মানুষ এ পৃথিবীতে যত প্রকার রিযিক লাভ করে থাকে তা সবই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ‌ তা’আলা তাঁর অসংখ্য নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে এ একটি মাত্র নিদর্শনের কথা তুলে ধরে এ মর্মে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তোমরা যদি কেবল এ একটি জিনিসের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করো তাহলে বুঝতে পারবে, কুরআনে তোমাদেরকে বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধানের যে ধারণা দেয়া হচ্ছে সেটিই বাস্তব ও সত্য। পৃথিবী ও তার সমস্ত সৃষ্টিকুল এবং পানি, বাতাস, সূর্য, উষ্ণতা ও শীতলতা সবকিছুর স্রষ্টা যদি একমাত্র আল্লাহ‌ হন কেবল সে ক্ষেত্রেই এ ধরনের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধান সম্ভব। আর সে অনাদি অনন্ত আল্লাহই যদি চালু রাখেন কেবল তখনই এ ব্যবস্থা লক্ষ কোটি বছর পর্যন্ত একাধারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠাকারী কেবল একমাত্র আল্লাহই হতে পারেন যিনি মহাজ্ঞানী, অতি দয়াবান ও পালনকর্তা। যিনি পৃথিবীতে মানুষ, জীবজন্তু ও উদ্ভিদরাজি সৃষ্টি করার সাথে সাথে তাদের প্রয়োজন অনুসারে পানিও সৃষ্টি করেছেন এবং তা নিয়মিতভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছিয়ে দেয়া ও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিস্ময়কর এ ব্যবস্থাপনাও দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এসব দেখে শুনেও আল্লাহকে অস্বীকার করে কিংবা আরো কিছু সত্তাকে তাঁর প্রভুত্বে অংশীদার বানায় তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে?

২১

অর্থাৎ আল্লাহ‌ বিমুখ ব্যক্তি যার জ্ঞান বুদ্ধির ওপর গাফলতি এবং গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার পর্দা পড়ে আছে সে কোন জিনিস দেখেও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। তার পশু-চক্ষু এ দৃশ্য অবশ্যই দেখবে যে, বাতাস বয়ে গেল, মেঘরাশি উড়ে আসলো, বিদ্যুৎ চমকালো ও বজ্র ধ্বনি হলো এবং বৃষ্টিপাত হলো কিন্তু তার মানবিক মন-মগজ ভেবে দেখবে না, এসব কেন হচ্ছে, কে করছে এবং আমার কাছে তার কি কি অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. তিনিই তোমাদেরকে তার নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে তোমাদের জন্য রিযিক নাযিল করেন। আর যে আল্লাহ-অভিমুখী সেই কেবল উপদেশ গ্ৰহণ করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে তোমাদের জন্য রুযী প্রেরণ করেন;(1) আর (আল্লাহর) (2) অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।

(1) অর্থাৎ, পানি; যা তোমাদের রুযীর উপকরণ। এখানে মহান আল্লাহ একত্রে নিদর্শনাবলীর প্রকাশ ও রুযী অবতরণের কথা পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন। কেননা, মহাশক্তির নিদর্শনাবলীর প্রকাশে রয়েছে দ্বীনের বুনিয়াদ এবং রুযী হল দেহের বুনিয়াদ। এইভাবে এখানে উভয় বুনিয়াদকেই একত্রিত করে দেওয়া হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

(2) আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি অভিমুখী, যার দ্বারা তাদের অন্তরে আখেরাতের ভয় সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর বিধি-বিধান ও তাঁর ফরয কার্যাদি পালনে যত্নবান হয়।