إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يُنَادَوۡنَ لَمَقۡتُ ٱللَّهِ أَكۡبَرُ مِن مَّقۡتِكُمۡ أَنفُسَكُمۡ إِذۡ تُدۡعَوۡنَ إِلَى ٱلۡإِيمَٰنِ فَتَكۡفُرُونَ

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূইউনা-দাওনা লামাকতুল্লা-হি আকবারু মিম্মাকতিকুম আনফুছাকুম ইয তুদ‘আওনা ইলাল ঈমা-নি ফাতাকফুরূন।উচ্চারণ

যারা কুফরী করেছে কিয়ামতের দিন তাদের ডেকে বলা হবে, “আজ তোমরা নিজেদের ওপর যতটা ক্রোধান্বিত হচ্ছো, আল্লাহ‌ তোমাদের ওপর তার চেয়েও অধিক ক্রোধান্বিত হতেন তখন যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান জানানো হতো আর তোমরা উল্টা কুফরী করতে।” ১৪ তাফহীমুল কুরআন

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে, (আজ) তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের যে ক্ষোভ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ক্রোধ হত আল্লাহর, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়া হত আর তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে।মুফতী তাকী উসমানী

কাফিরদেরকে উচ্চ কন্ঠে বলা হবেঃ তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক, যখন তোমাদের ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল, আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।মুজিবুর রহমান

যারা কাফের তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা কুফরী করছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় কাফিরদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহ্ র অপ্রসন্নতা ছিল অধিক-যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করা হয়েছিল আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে; ‘তোমাদের নিজদের প্রতি তোমাদের (আজকের) এ অসন্তোষ অপেক্ষা অবশ্যই আল্লাহর অসন্তোষ অধিকতর ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল তারপর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে’।আল-বায়ান

যারা কুফুরী করেছিল তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে- তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভের চেয়ে (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর ক্ষোভ অধিক, (কেননা) তোমাদেরকে যখন ঈমানের দিকে আহবান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অস্বীকার করেছিলে।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের ঘোষণা করা হবে -- "আল্লাহ্‌র বিরূপতা তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের বিরক্তির চেয়েও অনেক বেশী ছিল, কেননা ধর্মবিশ্বাসের প্রতি তোমাদের আহ্বান করা হচ্ছিল অথচ তোমরা প্রত্যাখ্যান করছিলে!"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন কাফেররা যখন দেখবে যে, তারা পৃথিবীতে শিরক, নাস্তিকতা, আখেরাত অস্বীকৃতি এবং নবী রসূলদের বিরোধিতার ওপর নিজেদের গোটা জীবনের তৎপরতার ভিত্তি স্থাপন করে যারপরনাই নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে এবং সে নির্বুদ্ধিতার কারণে এখন চরম অকল্যাণকর ও অশুভ পরিণামের সম্মুখীন হয়েছে তখন তারা নিজেদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে এবং বিরক্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদেরই অভিশাপ দিতে থাকবে। তখন ফেরেশতারা তাদের ডেকে বলবে, আজ তোমরা নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হচ্ছো। কিন্তু ইতিপূর্বে পৃথিবীতে তোমাদেরকে এ পরিণাম থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ‌ তা’আলা এবং সৎকর্মশীল লোকেরা সঠিক পথের দিকে আহবান জানাতেন আর তোমরা সে আহবান প্রত্যাখ্যান করতে তখন আল্লাহ‌ তা’আলার ক্রোধ এর চেয়েও বেশী করে প্রজ্জ্বলিত হতো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

একথা বলা হবে সেই সময়, যখন কাফেরগণ জাহান্নামে পৌঁছে শাস্তি ভোগ করতে শুরু করবে। তখন তারা নিজেরা নিজেদের প্রতি ক্ষুব্ধ হবে যে, আমরা দুনিয়ায় কেন কুফরের পথ অবলম্বন করেছিলাম!

তাফসীরে জাকারিয়া

১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে উচ্চ কণ্ঠে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের অসন্তোষের চেয়ে আল্লাহ্‌র অসন্তোষ ছিল অধিকতর— যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি ডাকা হয়েছিল কিন্তু তোমরা তার সাথে কুফরী করেছিলে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০) অবিশ্বাসীদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর ক্ষোভ ছিল অধিক; যখন তোমাদেরকে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছিল এবং তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।’ (1)

(1) مَقْتٌ চরম অসন্তুষ্টিকে বলা হয়। কাফেররা যখন নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হতে দেখবে, তখন তারা নিজেদের উপর চরম অসন্তুষ্ট ও ক্ষোভিত হবে। তখন তাদেরকে বলা হবে যে, দুনিয়াতে যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি দাওয়াত দেওয়া হত এবং তোমরা তা অস্বীকার করতে, তখন মহান আল্লাহ এর থেকেও অনেক বেশী তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হতেন, যেমন আজ তোমরা নিজেদের উপর হচ্ছ। আর তোমাদের আজ জাহান্নামে যাওয়াও আল্লাহর সেই অসন্তুষ্টির ফল।