ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।উচ্চারণ
আর তাদেরকে মন্দ কাজসমূহ থেকে রক্ষা করো। ১২ কিয়ামতের দিন তুমি যাকে মন্দ ও অকল্যাণসমূহ ১৩ থেকে রক্ষা করেছো তার প্রতি তুমি বড় করুণা করেছো। এটাই বড় সফলতা। তাফহীমুল কুরআন
এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।মুফতী তাকী উসমানী
এবং আপনি তাদেরকে পাপ হতে রক্ষা করুন, সেই দিন আপনি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবেন তাকেতো অনুগ্রহই করবেন, এটাইতো মহাসাফল্য।মুজিবুর রহমান
এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হতে রক্ষা কর। সেই দিন তুমি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে, তাকে তো অনুগ্রহই করবে; এটাই তো মহাসাফল্য।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর আপনি তাদের অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য।’আল-বায়ান
সমস্ত খারাবী থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে সমস্ত খারাবী থেকে রক্ষা করলে, তার উপর তো দয়াই করলে। ওটাই হল বিরাট সাফল্য।তাইসিরুল
আর তাদের রক্ষা করো মন্দ থেকে। আর সেইদিন যাকে তুমি মন্দ থেকে রক্ষা করবে তাকে তো তুমি আলবৎ করুণা করেছ। আর এইটিই খোদ মহাসাফল্য।মাওলানা জহুরুল হক
১২
سَيِّئَات (মন্দ কাজসমূহ) তিনটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে তিনটি অর্থই প্রযোজ্য। এক, ভুল আকীদা-বিশ্বাস, বিকৃত নৈতিক চরিত্র এবং মন্দ কাজ কর্ম। দুই, গোমরাহী ও মন্দ কাজের পরিণাম। তিন, বিপদাপদ ও দুঃখ কষ্ট-----তা এ পৃথিবীর হোক, আলমে বারযাখ বা মৃত্যুর পরের জীবনের হোক কিংবা কিয়ামতের দিনের হোক। ফেরেশতাদের দোয়ার লক্ষ্য হলো, যেসব জিনিস তাদের জন্য অকল্যাণকর সেরূপ প্রতিটি জিনিস থেকে তাদের রক্ষা করো।
১৩
কিয়ামতের দিনের অকল্যাণ অর্থ হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা ছাড়াও অন্যান্য আরাম-আয়েশ ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া, হিসেবে-নিকেশের কঠোরতা, সমস্ত সৃষ্টির সামনে জীবনের গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার লাঞ্ছনা ও অপমান এবং সেখানে অপরাধীরা আর যেসব লাঞ্ছনা ও কষ্টের সম্মুখীন হবে তাও।
‘মন্দ বিষয়’ দ্বারা জাহান্নামের কষ্ট বোঝানো হয়েছে অথবা তারা দুনিয়ায় যেসব মন্দ কাজ করেছে তা। দ্বিতীয় অবস্থায় এর অর্থ হবে, তাদেরকে দুনিয়ায় কৃত মন্দ কাজের পরিণাম থেকে রক্ষা কর, তথা সেগুলো ক্ষমা করে দাও।
৯. আর আপনি তাদেরকে অপরাধের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে (অপরাধের) খারাপ পরিণতি হতে রক্ষা করবেন, তাকে অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন; আর এটাই মহাসাফল্য!
(৯) এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হতে রক্ষা কর।(1) সেদিন তুমি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে তাকে তো দয়াই করবে। আর এটিই তো মহাসাফল্য।’ (2)
(1) سَيِّئات (পাপরাশি) বলতে এখানে তার শাস্তি বুঝানো হয়েছে। অথবা جَزَاء শব্দ ঊহ্য আছে। অর্থাৎ, তাদেরকে পাপরাশির (শাস্তি) থেকে, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে নাও।
(2) অর্থাৎ, আখেরাতের আযাব থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যাওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করাই হল সবচেয়ে বড় সফলতা। কারণ, এর মত আর কোন সফলতা নেই এবং এর তুলনায় আর কোন মুক্তি নেই। এই আয়াতগুলোতে ঈমানদারদের জন্য রয়েছে দু’টি মহা সুসংবাদ। একটি হল, ফিরিশতাগণ তাদের জন্য তাদের অদৃশ্যে দু’আ করেন (যার বড় ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)। দ্বিতীয়টি হল, ঈমানদারদের পরিবারের লোকেরা জান্নাতে এক সাথে বাস করবে। جَعَلَنَا اللهُ مِنَ الَّذِيْنَ يُلْحِقُهُمُ اللهُ بِآبَائِهِمُ الصَّالِحِيْنَ।