وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحۡدَهُ ٱشۡمَأَزَّتۡ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ

ওয়া ইযা-যুকিরল্লা-হু ওয়াহদাহুশমাআঝঝাত কুলূবুল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআখিরতি ওয়া ইযা-যুকিরল্লাযীনা মিন দূ নিহী ইযা-হুম ইয়াছতাবশিরূন।উচ্চারণ

যখন শুধু আল্লাহর কথা বলা হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মন কষ্ট অনুভব করে। আর যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের কথা বলা হয় তখন তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। ৬৪ তাফহীমুল কুরআন

যখন এক আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের অন্তর বিরক্ত হয় আর যখন তাঁকে ছাড়া অন্যের কথা বলা হয়, অমনি তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।মুফতী তাকী উসমানী

একক আল্লাহর কথা বলা হলে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।মুজিবুর রহমান

যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শুধু এক আল্লাহ্ র কথা বলা হলে যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহ্ র পরিবর্তে উপাস্যগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।আল-বায়ান

এক আল্লাহর উল্লেখ করা হলেই যারা ক্বিয়ামতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় ভরে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যের উল্লেখ করা হলেই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।তাইসিরুল

আর যখন আল্লাহ্‌র, তাঁর একত্বের উল্লেখ করা হয় তখন, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের হৃদয় সংকূচিত হয়, পক্ষান্তরে যখন তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয় তখন দেখো! তারা উল্লাস করে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৪

গোটা পৃথিবীর মুশরেকী রুচি ও ধ্যান-ধারণার অধিকারী প্রায় সব মানুষের মধ্যেই এটি বিদ্যমান। এমনকি মুসলমানদের মধ্যেও যে দুর্ভাগাদের এ রোগ পেয়ে বসেছে তারাও এ দোষ থেকে মুক্ত নয়। মুখে বলে আমরা আল্লাহকে মানি। কিন্তু অবস্থা এই যে, শুধু আল্লাহর কথা বলুন, দেখবেন তাদের চেহারা বিকৃত হতে শুরু হয়েছে। এরা বলে বসবে, এ ব্যক্তি নিশ্চয়ই বুযুর্গ ও আওলিয়াদের মানে না। সেজন্য শুধু আল্লাহর কথাই আওড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যদি আল্লাহ‌ ছাড়া অন্যদের কথাও বলা হয় তাহলে আনন্দে ও প্রফুল্লতায় তাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে তাদের আগ্রহ ও ভালবাসা কার প্রতি তা এ কর্মপন্থার মাধ্যমেই পরিষ্কার প্রকাশ পায়। আল্লামা আলুসী তাফসীরে রূহুল মা’আনীতে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাঁর নিজের একটি অভিজ্ঞতার বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদিন আমি দেখলাম, কোন বিপদে পড়ে এক ব্যক্তি সাহায্যের জন্য এক মৃত বুযুর্গকে ডাকছে। আমি বললাম হে আল্লাহর বান্দা, আল্লাহকে ডাকো। আল্লাহ‌ বলেছেনঃ

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

----আমার একথা শুনে সে ভীষণ চটে গেল। পরে লোকজন আমাকে বলেছে, সে বলছিলোঃ এ ব্যক্তি আওলিয়াদের মানে না। তাছাড়া কিছু সংখ্যক লোক তাকে একথাও বলতে শুনেছে যে, অলীরা আল্লাহর চাইতে দ্রুত শুনে থাকেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৫. আর যখন শুধু এক আল্লাহর কথা বলা হয় তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়। আর আল্লাহর পরিবর্তে অন্য মাবুদগুলোর উল্লেখ করা হলে তখনই তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৫) ‘আল্লাহ এক’ --এ কথা উল্লেখ করা হলে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়।(1) আর আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের উপাস্যদের কথা) উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।(2)

(1) অথবা কুফরী ও অহংকার করে অথবা তাদের মন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, মুশরিকদেরকে যখন বলা হয় যে, উপাস্য কেবল একজনই, তখন তাদের মন তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না।

(2) তবে হ্যাঁ, যখন বলা হয় যে, অমুক অমুকরাও উপাস্য অথবা তারাও তো আল্লাহরই ওলীই বটে, তাদেরও কিছু এখতিয়ার আছে, তারাও বিপদাপদ দূর এবং প্রয়োজনাদি পূরণ করার সামর্থ্য রাখে, তখন মুশরিকরা বড়ই আনন্দিত হয়। সঠিক পথচ্যুত লোকদের এই অবস্থা আজও বিদ্যমান। যখন তাদেরকে বলা হয়, কেবল বল, ‘ইয়া আল্লাহ মদদ’ কারণ তিনি ছাড়া তো কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তখন তারা চরম অসন্তুষ্ট হয়। এ বাক্য তাদের কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘ইয়া আলী মদদ’ অথবা ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ মদদ’ অনুরূপভাবে অন্যান্য মৃতদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় যেমন, যদি বলা হয়, ‘হে পীর আব্দুল ক্বাদের! আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু দিন!’ তবে তাদের অন্তর আনন্দে নেচে ওঠে। বস্তুতঃ এদেরও চিন্তা-চেতনা ওদেরই মতই।