লাহুম মা-ইয়াশাঊনা ‘ইনদা রব্বিহিম যা-লিকা জাঝাউল মুহছিনীন।উচ্চারণ
তারা তাদের রবের কাছে যা চাইবে তা-ই পাবে। ৫৩ এটা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান। তাফহীমুল কুরআন
তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে পাবে বাঞ্ছিত সবকিছু- এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।মুফতী তাকী উসমানী
তাদের বাঞ্ছিত সব কিছুই আছে তাদের রবের নিকট। এটাই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার।মুজিবুর রহমান
তাদের জন্যে পালনকর্তার কাছে তাই রয়েছে, যা তারা চাইবে। এটা সৎকর্মীদের পুরস্কার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই আছে এদের প্রতিপালকের নিকট। এটাই সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার।আল-বায়ান
তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে যা তারা ইচ্ছে করবে। তা-ই হল সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।তাইসিরুল
তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তারা যা চায় তাই। এটিই হচ্ছে সৎকর্মীদের পুরস্কার, --মাওলানা জহুরুল হক
৫৩
একথা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এখানে فِى الْجَنَّةِ (জান্নাতে) না বলে عِنْدَ رَبِّهِمْ (তাদের রবের কাছে) কথাটি বলা হয়েছে। একথা সুস্পষ্ট যে মৃত্যুর পরেই কেবল বান্দা তার রবের কাছে পৌঁছে। তাই জান্নাতে পৌঁছার পর এ আচরণ করা হবে না। বরং মৃত্যুর পর থেকে জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত সময়েও মু’মিন নেককার বান্দার সাথে আল্লাহ তা’আলা এ আচরণ করবেন। এটাই আয়াতের প্রতিপাদ্য বিষয় বলে মনে হয়। ঈমানদার সৎকর্মশীল বান্দা বরযখের আযাব থেকে, কিয়ামতের দিনের কষ্ট থেকে, হিসেবের কঠোরতা থেকে, হাশরের ময়দানের অপমান থেকে এবং নিজের দুর্বলতা ও অপরাধের কারণে পাকড়াও থেকে অবশ্যই রক্ষা পেতে চাইবে, আর মহিমান্বিত আল্লাহ তার এসব আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন।
৩৪. তাদের জন্য তা-ই থাকবে যা চাইবে তারা তাদের রবের নিকট। এটাই মুহসিনদের পুরস্কার।
(৩৪) এদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই এদের প্রতিপালকের নিকট বর্তমান,(1) এটিই সৎকর্মপরায়ণদের প্রতিদান।(2)
(1) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তাদের পাপগুলো মাফ করে দেবেন এবং তাদের মর্যাদাও বাড়িয়ে দেবেন। কেননা, প্রত্যেক মুসলিম আল্লাহর কাছে এটাই আশা রাখে। এ ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার পর তো প্রত্যেক বাঞ্ছিত জিনিস পাওয়া যাবে।
(2) مُحْسِنيْنَ এর একটি অর্থ হল, যাঁরা নেক কাজ করেন। দ্বিতীয় অর্থ হল, যাঁরা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করেন। যেমন, হাদীসে ‘ইহসান’এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, (أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ) ‘‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ। যদি এ রকম ভাব সৃষ্টি করা সম্ভব না হয়, তবে এটা যেন অবশ্যই মনে করা হয় যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।’’ তৃতীয় অর্থ, যাঁরা মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ ও উত্তম ব্যবহার করেন। চতুর্থ অর্থ হল, যাঁরা প্রত্যেক নেক কাজকে সুন্দরভাবে বিনয়-নম্রতা এবং নবী করীম (সাঃ)-এর সুন্নত অনুযায়ী সম্পাদন করেন। ইবাদতে আধিক্যের পরিবর্তে (যেটুকু করেন তাতে) সৌন্দর্যের খেয়াল রাখেন।