ফা‘বুদূমা-শি’তুম মিন দূ নিহী কুল ইন্নাল খা-ছিরীনাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ওয়া আহলীহিম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আলা-যা-লিকা হুওয়াল খুছর-নুল মুবীন।উচ্চারণ
তোমরা তাঁর ছাড়া আর যাদের ইচ্ছা দাসত্ব করতে থাকো। বলো, প্রকৃত দেউলিয়া তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ভাল করে শুনে নাও, এটিই হচ্ছে স্পষ্ট দেউলিয়াপনা। ৩৪ তাফহীমুল কুরআন
অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত কর। বলে দাও, (ব্যবসায়ে) ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের প্রাণ ও নিজেদের পরিবারবর্গের সবই হারাবে। মনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।মুফতী তাকী উসমানী
অতএব তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদাত কর। বলঃ কিয়ামাত দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিবারবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।মুজিবুর রহমান
অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার এবাদত কর। বলুন, কেয়ামতের দিন তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা নিজেদের ও পরিবারবর্গের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আর তোমরা আল্লাহ্ র পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ‘ইবাদত কর।’ বল, ‘ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অতএব তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যা কিছুর ইচ্ছা তোমরা ‘ইবাদাত কর’। বল, ‘নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত যারা কিয়ামত দিবসে নিজদেরকে ও তাদের পরিবারবর্গকে ক্ষতিগ্রস্ত পাবে। জেনে রেখ, এটাই স্পষ্ট ক্ষতি’।আল-বায়ান
অতএব, তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ইচ্ছে ‘ইবাদাত কর (এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না, ক্ষতি তোমাদেরই হবে)। বল- যারা নিজেদেরকে আর নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্বিয়ামতের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। জেনে রেখ, এটাই হল স্পষ্ট ক্ষতি।তাইসিরুল
"অতএব তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যাকে ইচ্ছা কর, তার উপাসনা কর।" বলো -- "নিঃসন্দেহ ক্ষতিগ্রস্ত তারা যারা কিয়ামতের দিনে ক্ষতিসাধন করেছে তাদের নিজেদের ও তাদের পরিজনদের। এটিই কি খোদ স্পষ্ট ক্ষতি নয়?”মাওলানা জহুরুল হক
৩৪
কোন ব্যক্তির কারবারে খাটানো সমস্ত পুঁজি যদি নষ্ট হয়ে যায় এবং বাজারে তার পাওনাদারের সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে, নিজের সবকিছু দিয়েও সে দায়মুক্ত হতে পারে না তাহলে এরূপ অবস্থাকেই সাধারণভাবে দেউলিয়াত্ব বলে। এখানে আল্লাহ তা’আলা কাফের ও মুশরিকদের জন্য এ রূপক ভাষাটিই ব্যবহার করেছেন। মানুষ এ পৃথিবীতে জীবন, আয়ু, জ্ঞান-বুদ্ধি, শরীর, শক্তি, যোগ্যতা উপায়-উপকরণ এবং সুযোগ-সুবিধা যত জিনিস লাভ করেছে তার সমষ্টি এমন একটি পুঁজি যা সে পার্থিব জীবনের কারবারে খাটায়। কেউ যদি এ পুঁজির সবটাই এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে খাটায় যে, কোন ইলাহ নেই কিংবা অনেক আছে আর সে তাদের বান্দা। তাকে কারো কাছে হিসেব দিতে হবে না, কিংবা হিসেব-নিকেশের সময় অন্য কেউ এসে তাকে রক্ষা করবে, তাহলে তার অর্থ হচ্ছে সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং নিজের সবকিছু খুইয়ে বসলো। এটা হচ্ছে প্রথম ক্ষতি। দ্বিতীয় ক্ষতি হচ্ছে, এ ভ্রান্ত অনুমানের ভিত্তিতে সে যত কাজই করলো সেসব কাজের ক্ষেত্রে সে নিজেকে সহ দুনিয়ার বহু মানুষ, ভবিষ্যৎ বংশধর এবং আল্লাহর আরো বহু সৃষ্টির ওপর জীবনভর জুলুম করলো। তাই তার বিরুদ্ধে অসংখ্য দাবী আসলো। কিন্তু তার কাছে এমন কিছুই নেই যে, সে এসব দাবী পূরণ করতে পারে। তাছাড়া আরো একটি ক্ষতি হচ্ছে, সে নিজেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হলো না, বরং নিজের সন্তান-সন্ততি, প্রিয়জন ও আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধব ও স্বজাতিকেও তার ভ্রান্ত শিক্ষা-দীক্ষা এবং ভ্রান্ত দৃষ্টান্ত দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করলো। এ তিনটি ক্ষতির সমষ্টিকে আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্ট ক্ষতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এর অর্থ এ নয় যে, কাফেরদেরকে কুফর করার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেননা পরের বাক্যেই তো পরিষ্কার বলা হয়েছে, এটা লোকসানের ব্যবসা এবং পূর্বে ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কুফরকে পছন্দ করেন না। বরং এর অর্থ হল, তোমাদেরকে স্বাধীন ক্ষমতা অবশ্যই দেওয়া হয়েছে। তোমরা যদি কুফর অবলম্বন করতে চাও, তবে তা করার ক্ষমতা তোমাদের আছে। তোমাদেরকে জোরপূর্বক মুমিন বানানো হবে না। কিন্তু তার পরিণাম হবে এই যে, তোমরা কিয়ামতের দিন সবকিছু হারাবে। হযরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, জান্নাতে প্রত্যেকের জন্য বাড়ি, পরিবার ও দাস-দাসী আছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে সে তা পাবে আর যে ব্যক্তি অবাধ্যতা করে সে জাহান্নামে যাওয়ার কারণে তা হারাবে। -অনুবাদক
১৫. অতএব তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছে তার ইবাদত কর। বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে।(১) জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।
(১) কারণ তারা এবং তাদের পরিবারের মধ্যে স্থায়ী বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এরা আর কোন দিন একত্রিত হতে পারবে না। চাই তাদের পরিবার জান্নাতে যাক বা তারা সবাই জাহান্নামে যাক। কোন অবস্থাতেই তাদের আর একসাথে হওয়া ও আনন্দিত হওয়া সম্ভব নয়। (ইবন কাসীর)
(১৫) অতএব তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদত (দাসত্ব) কর।’ বল, ‘আসল ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই; যারা কিয়ামতের দিন নিজেদেরকে ও নিজেদের পরিজনবর্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জেনে রাখ, এটিই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’