ওয়াযকুর ইছমা-‘ঈলা ওয়াল ইয়াছা‘আ ওয়াযাল কিফলি ওয়া কুল্লুম মিনাল আখইয়া-র।উচ্চারণ
আর ইসমাঈল, আল ইয়াসা’ ৫০ ও যুল কিফ্ল-এর ৫১ কথা স্মরণ করা। এরা সবাই সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাফহীমুল কুরআন
এবং স্মরণ কর ইসমাঈল, আল- ইয়াসা ও যুল-কিফলকে। #%২৭%# তারা সকলে ছিল উত্তম ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত।মুফতী তাকী উসমানী
স্মরণ কর ইসমাঈল, আল ইয়াসাআ’ ও যুলকিফলের কথা, তারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।মুজিবুর রহমান
স্মরণ করুণ, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুনীজন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আরো স্মরণ কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা। এরা প্রত্যেকেই ছিল সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।আল-বায়ান
স্মরণ কর ইসমাঈল, ইয়াসা‘আ ও যুলকিফলের কথা- এরা সবাই ছিল উত্তমদের মধ্যে গণ্য।তাইসিরুল
আর স্মরণ কর ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল-কিফলকে, কারণ তাঁরা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম।মাওলানা জহুরুল হক
৫০
কুরআন মজীদে মাত্র দু’জায়গায় তাঁর কথা বলা হয়েছে। সূরা আল আন’আমের ৮৬ আয়াতে এবং এ জায়গায়। উভয় জায়গায় কোন বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। বরং কেবলমাত্র নবীদের কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে তাঁর নাম নেয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন বনী ইসরাঈলের নেতৃস্থানীয় নবীদের একজন। জর্দান নদীর উপকূলে আবেল মেহুলা (Abel Meholeh) এর অধিবাসী ছিলেন। ইহুদী ও খৃস্টানরা তাঁকে ইলীশার (Elisha) নামে স্মরণ করে। হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালাম যে সময় সিনাই উপদ্বীপে আশ্রয় নিয়েছিলেন তখন কয়েকটি বিশেষ কাজে তাঁকে সিরিয়ায় ও ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি কাজ ছিল হযরত আল ইয়াসা’কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ হুকুম অনুযায়ী হযরত ইলিয়াস তাঁর জনবসতিতে গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি দেখলেন, বারো জোড়া গরু সামনে নিয়ে হযরত আল ইয়াসা’ জমিতে চাষ দিচ্ছেন এবং তিনি নিজে বারোতম জোড়ার সাথে আছেন। হযরত ইলিয়াস তাঁর পাশ দিয়ে যাবার সময় তাঁর ওপর নিজের চাদর নিক্ষেপ করলেন এবং তিনি তৎক্ষণাত ক্ষেতখামার ছেড়ে দিয়ে তাঁর সাথে চলে এলেন। (রাজাবলি ১৯: ১৫-২১) প্রায় দশ বারো বছর তিনি তাঁর প্রশিক্ষণের অধীনে থাকলেন। তারপর আল্লাহ তাঁকে উঠিয়ে নেবার পর তিনি হযরত ইলিয়াসের স্থলে নিযুক্তি লাভ করলেন। (২-রাজাবলিঃ ২) বাইবেলের ২-রাজাবলি পুস্তকের ২ থেকে ১৩ অধ্যায় পর্যন্ত তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তা থেকে জানা যায়, উত্তর ফিলিস্তিনের ইসরাঈলী সালাতানাত যখন শিরক ও মূর্তি পূজা এবং নৈতিক অপবিত্রতায় ডুবে যেতে থাকলো তখন শেষ পর্যন্ত তিনি নিমশির পৌত্র যিহোশাফটের পুত্র যেহুকে রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড় করালেন। এ রাজ পরিবারের মাধ্যমেই ইসরাঈলে এসব দুষ্কৃতি বিস্তার লাভ করেছিল। যেহু কেবল বা’আলপূজাই বন্ধ করলো না বরং এ দুষ্কৃতিকারী পরিবারের প্রত্যেককে হত্যা করলো, একটি শিশুকেও জীবিত ছাড়লো না। কিন্তু ইসরাঈলের শিরায় উপশিরায় যে দৃষ্কৃতি অনুপ্রবেশ করেছিল এ সংস্কার বিপ্লব তাকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারলো না। হযরত আল আয়াসা’আর মৃত্যুর পর তার ঝড়ের বেগে অগ্রসর হলো। এমনকি এরপর সামোরিয়দের ওপর আসিরীয়রা একের পর এক হামলা শুরু করে দিল। (আরো বেশী জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, নবী ইসরাঈল, ৭ এবং সাফফাত, ৭০-৭১ টীকা।)
৫১
হযরত যুল কিফল এর উল্লেখও কুরআনে দু’জায়গায়ই এসেছে। সূরা আল আম্বিয়ায় এবং এখানে। এ সম্পর্কে আমার অনুসন্ধালব্ধ আলোচনা আমি সূরা আল আম্বিয়াতেই করে এসেছি। (দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সুরা আল আম্বিয়া, ৮১ টীকা।)
আল-ইয়াসা আলাইহিস সালাম একজন নবী। কুরআন মাজীদে মাত্র দু’ জায়গায় তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক তো এই স্থানে এবং আরেক সূরা আনআমে (৬ : ৮৬)। উভয় স্থানে তার শুধু নামই বলা হয়েছে। বিস্তারিত কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহ দ্বারা জানা যায় তিনি ছিলেন বনী ইসরাঈলের একজন নবী এবং হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালামের চাচাত ভাই। বাইবেলের ‘রাজাবলী’ পুস্তকের ১৯ নং পরিচ্ছেদে তাঁর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে হযরত যুলকিফল আলাইহিস সালামের নামও কেবল দু’ জায়গায়ই পাওয়া যায়। এখানে এবং সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৮৫)। কোন কোন মুফাসসির তাঁকে হযরত আল-ইয়াসা আলাইহিস সালামের খলীফা বলেছেন। কারও মতে তিনি নবী নন, বরং একজন ওলী ছিলেন।
৪৮. আর স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা'আ ও যুল-কিফলের কথা, আর এরা প্ৰত্যেকেই ছিলেন সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
(৪৮) স্মরণ কর, ইসমাঈল, য়্যাসা’ ও যুল-কিফলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন। (1)
(1) য়্যাসা’ (আঃ) ইলয়্যাস (আঃ)-এর নায়েব ছিলেন, আল-য়্যাসা’তে ال নির্দিষ্টীকরণের জন্য এবং এটা একটি অনারবী নাম। যুল-কিফল সম্পর্কে জানার জন্য সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নং আয়াতের টীকা দেখুন। أَخْيَارٌ خَيْرٌ অথবা خَيَّرٌ এর বহুবচন যেমন مَيِّتٌ এর বহুবচন أَمْوَاتٌ ।