إِنَّآ أَخۡلَصۡنَٰهُم بِخَالِصَةٖ ذِكۡرَى ٱلدَّارِ

ইন্নাআখলাসনা-হুম বিখা-লিসাতিন যিকরদ্দা-র।উচ্চারণ

আমি একটি নির্ভেজাল গুণের ভিত্তিতে তাদেরকে নির্বাচিত করেছিলাম এবং তা ছিল পরলোকের স্মরণ। ৪৯ তাফহীমুল কুরআন

আমি একটি বিশেষ গুণের জন্য তাদেরকে বেছে নিয়েছিলাম। তা ছিল (আখেরাতের) প্রকৃত নিবাসের স্মরণ।মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, ওটা ছিল পরকালের স্মরণ।মুজিবুর রহমান

আমি তাদের এক বিশেষ গুণ তথা পরকালের স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, তা ছিল পরলোকের স্মরণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি তাদেরকে বিশেষ করে পরকালের স্মরণের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম।আল-বায়ান

বস্তুত আমি তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছিলাম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে- তা হল পরলোকের স্মরণ।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ আমরা তাঁদের বানিয়েছিলাম এক অকৃত্রিম গুণে নিষ্ঠাবান -- বাসস্থানের স্মরণ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৯

অর্থাৎ তাঁদের যাবতীয় সাফল্যের মূল কারণ ছিল এই যে, তাঁদের মধ্যে বৈষয়িক স্বার্থলাভের আকাঙ্ক্ষা ও বৈষয়িক স্বার্থপূজার সামান্যতম গন্ধও ছিল না। তাঁদের সমস্ত চিন্তা ও প্রচেষ্টা ছিল আখেরাতের জন্য। তাঁরা নিজেরাও আখেরাতের কথা স্মরণ করতেন এবং অন্যদেরকেও স্মরণ করিয়ে দিতেন। তাই আল্লাহ‌ তাঁদেরকে দু’টি মর্যাদা দান করেছেন। বৈষয়িক স্বার্থ চিন্তায় ব্যাপৃত লোকদের ভাগ্যে কখনো এটা ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে এ সূক্ষ্ম বিষয়টিও দৃষ্টি সমক্ষে থাকা উচিত যে, এখানে আল্লাহ‌ আখেরাতের জন্য কেবলমাত্র “আদদার” (সেই ঘর বা আসল ঘর) শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে এখানে এ সত্যটি বুঝানোই উদ্দেশ্য যে, এ দুনিয়া আদতে মানুষের ঘর নয় বরং এটি নিছক একটি অতিক্রম করার জায়গা এবং একটি মুসাফিরখানা মাত্র। এখান থেকে মানুষকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। আসল ঘর হচ্ছে সেই আখেরাতের ঘর। যে ব্যক্তি তাকে সুসজ্জিত কারার চিন্তা করে সে-ই দুরদৃষ্টির অধিকারী এবং আল্লাহর কাছে তাকে অবশ্যই পছন্দনীয় মানুষ হওয়া উচিত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি এ মুসাফিরখানায় নিজের সামান্য কয়েক দিনের অবস্থানস্থলকে সুসজ্জিত করার জন্য এমনসব কাজ করে যার ফলে আখেরাতের আসল ঘর তার জন্য বিরাণ হয়ে যায়, তার বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ‌ পছন্দ করতে পারেন না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৬. নিশ্চয় আমরা তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, তা ছিল আখিরাতের স্মরণ(১)।

(১) অর্থাৎ তাদেরকে আখেরাত স্মরণের জন্য বিশেষ লোক হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। সুতরাং তারা আখেরাতের জন্যই আমার আনুগত্য করত ও আমল করত। মানুষদেরকে তারা এর জন্য উপদেশ দিত এবং আখেরাতের প্রতি আহবান জানাত। (মুয়াস্‌সার)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৬) আমি তাদেরকে এক বিশেষ গুণের অধিকারী করেছিলাম; তা ছিল পরকালের স্মরণ। (1)

(1) আমি তাদেরকে আখেরাত স্মরণ করার জন্য বেছে নিয়েছিলাম। সুতরাং আখেরাত সর্বদা তাঁদের সামনেই থাকত। (সর্বদা আখেরাত স্মরণে থাকা, আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ এবং বিষয়-বিতৃষ্ণা ও পরহেযগারির ভিত্তি।) অথবা তাঁরা মানুষকে আখেরাত ও আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন।