ওয়া খুযবিয়াদিকা দিগছান ফাদরিব্বিহী ওয়ালা-তাহনাছ ইন্না-ওয়াজাদনা-হু সাবিরন নি‘মাল ‘আবদু ইন্নাহূআওওয়া-ব।উচ্চারণ
(আর আমি তাঁকে বললাম) এক আটি ঝাড়ু নাও এবং তা দিয়ে আঘাত করো এবং নিজের কসম ভঙ্গ করো না। ৪৬ আমি তাঁকে সবরকারী পেয়েছি, উত্তম বান্দা ছিল সে, নিজের রবের অভিমুখী। ৪৭ তাফহীমুল কুরআন
(আমি তাকে আরও বললাম) তোমার হাতে এক মুঠো তৃণ নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর আর শপথ ভঙ্গ করো না। #%২৬%# বস্তুত আমি তাকে পেয়েছি একজন সবরকারী। সে ছিল অতি উত্তম বান্দা। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।মুফতী তাকী উসমানী
আমি তাকে আদেশ করলামঃ এক মুষ্টি তৃণ তুলে নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর ও শপথ ভঙ্গ করনা। আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।মুজিবুর রহমান
তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণশলা নাও, তদ্বারা আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেলাম সবরকারী। চমৎকার বান্দা সে। নিশ্চয় সে ছিল প্রত্যাবর্তনশীল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি তাকে আদেশ করলাম, ‘একমুষ্টি তৃণ লও ও তা দিয়ে আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ কর না।’ আমি তো তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভংগ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী।আল-বায়ান
(আমি তাকে বললাম) কিছু ঘাস লও আর তা দিয়ে আঘাত কর, (আর তোমার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ) ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেয়েছিলাম পূর্ণ ধৈর্যশীল, কতই না উত্তম বান্দাহ, প্রকৃতই (আল্লাহ) অভিমুখী।তাইসিরুল
আর "তোমার হাতে একটি ডাল নাও এবং তা দিয়ে আঘাত করো, আর তুমি সংকল্প ত্যাগ করো না।" নিঃসন্দেহ আমরা তাঁকে পেয়েছিলাম অধ্যবসায়ী। কত উত্তম বান্দা! তিনি নিশ্চয়ই বারবার ফিরতেন।মাওলানা জহুরুল হক
৪৬
এ শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হযরত আইয়ূব (আ) রুগ্ন অবস্থায় নারাজ হয়ে কাউকে মারার কসম খেয়েছিলেন। (কথিত আছে, স্ত্রীকে মারার কসম খেয়েছিলেন) আর এ কসম খাওয়ার সময় তিনি একথাও বলেছিলেন যে, তোমাকে এতো ঘা দোররা মারবো। আল্লাহ যখন তাঁকে সুস্থতা দান করলেন এবং যে রোগগ্রস্ত অবস্থায় ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি এ কসম খেয়েছিলেন এ ক্রোধ স্তিমিত হয়ে গেলো তখন তিনি একথা মনে করে অস্থির হয়ে পড়লেন যে, কসম পুরা করতে গেলে অযথা একজন নিরপরাধকে মারতে হয় এবং কসম ভেঙে ফেললেও গোনাহগার হতে হয়। এ উভয় সংকট থেকে আল্লাহ তাঁকে উদ্ধার করলেন। আল্লাহ তাঁকে হুকুম দিলেন, একটি ঝাড়ু নাও, তাতে তুমি যে পরিমাণ কোড়া মারার কসম খেয়েছিলে সে পরিমাণ কাঠি থাকবে এবং সে ঝাড়ু দিয়ে কথিত অপরাধীকে একবার আঘাত করো এর ফলে তোমার কসমও পুরা হয়ে যাবে এবং সেও অযথা কষ্টভোগ করবে না।
কোন কোন ফকীহ এ রেওয়ায়াতটিকে একমাত্র হযরত আইয়ূবের জন্য নির্ধারিত মনে করেন। আবার কতিপয় ফকীহের মতে অন্য লোকেরাও এ সুবিধাদান থেকে লাভবান হতে পারে। প্রথম অভিমতটি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে আসাকির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং আবু বকর জাসসাস মুজাহিদ থেকে। ইমাম মালেকেরও অভিমত এটিই। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম যুফার ও ইমাম শাফেঈ দ্বিতীয় অভিমতটি অবলম্বন করেছেন। তাঁরা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি তার খাদেমকে দশ ঘা কোড়া মারার কসম খেয়ে বসে এবং পরে দশটি কোড়া মিলিয়ে তাকে এমনভাবে কেবলমাত্র একটি আঘাত করে যার ফলে কোড়াগুলোর প্রত্যেকটির কিছু অংশ তার গায়ে ছুঁড়ে যায় তাহলে তার কসম পুরো হয়ে যাবে।
বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ বেশী রোগগ্রস্ত বা দুর্বল হবার কারণে যে যিনাকারী একশো দোররার আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা রাখতো না তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ব্যাপারে এ আয়াতে বিবৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। আল্লামা আবু বকর জাসসাস হযরত সাঈদ ইবনে সা’দ ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনী সা ’য়েদে এক ব্যক্তি যিনা করে। সে এমন রুগ্ন ছিল যে, তাকে অস্থি-চর্মসার বলা যেতো। এ কারণে নবী ﷺ হুকুম দিলেনঃ
خذوا عثقالا فيه ماة شمراخ فاضربوه بها ضرية واحدة
“খেজুরের একটি ডাল, নাও, যার একশোটি শাখা রয়েছে এবং তা দিয়ে একবার এ ব্যাক্তিকে আঘাত করো।” (আহকামূল কুরআন)
মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ ইবনে মাজাহ, তাবারানী, আবদুল রাজ্জাক ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহেও এ সমর্থক কতিপয় হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে একথা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় যে, নবী ﷺ রোগী ও দুর্বলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিই অবলম্বন করেছিলেন। তবে ফকীহগণ এক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছেন যে, প্রত্যেকটি শাখা বা পাতার কিছু না কিছু অংশ অপরাধীর গায়ে অবশ্যই লাগা উচিত এবং একটি আঘাতই যথেষ্ট হলেও অপরাধীকে তা যেন কোন না কোন পর্যায়ে আহত করে। অর্থাৎ কেবল স্পর্শ করা যথেষ্ট নয় বরং আঘাত অবশ্যই করতে হবে।
এখানে এ প্রশ্নও দেখা দেয় যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খেয়ে বসে এবং পরে জানা যায় যে, সে বিষয়টি অসঙ্গত, তাহলে তার কি করা উচিত। নবী ﷺ প্রত্যেকে এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ অবস্থায় মানুষের পক্ষে যা ভালো, তাই করা উচিত এবং এটিই তার কাফফারা। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে, এ অসঙ্গত কাজের পরিবর্তে মানুষের ভাল কাজ করা এবং নিজের কসমের কাফফারা আদায় করে দেয়া উচিত। এ আয়াতটি এ দ্বিতীয় হাদীসটিকে সমর্থন করে। কারণ একটি অসঙ্গত কাজ না করাই যদি কসমের কাফফরা হতো তাহলে আল্লাহ আইয়ূবকে একথা বলতেন না যে, তুমি একটি ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করে নিজের কসম পুরা করে নাও। বরং বলতেন, তুমি এমন অসঙ্গত কাজ করো না এবং এটা না করাই তোমার কসমের কাফফরা। (আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আন নূর, ২০ টীকা)
এ আয়াত থেকে একথাও জানা যায় যে, কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খেলে সঙ্গে সঙ্গেই তা পুরা করা অপরিহার্য হয় না। হযরত আইয়ূব রোগগ্রস্ত অবস্থায় কসম খেয়েছিলেন এবং তা পূর্ণ করেন পুরোপুরি সুস্থ হবার পর এবং সুস্থ হবার পরও তাও সঙ্গে সঙ্গেই পুরা করেননি।
কেউ কেউ এ আয়াতকে শরয়ী বাহানাবাজীর সপক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। সন্দেহ নেই, হযরত আইয়ূবকে যা করতে বলা হয়েছিল তা একটি বাহানা ও ফন্দিই ছিল। কিন্তু তা কোন ফরয থেকে বাঁচার জন্য করতে বলা হয়নি বরং বলা হয়েছিল একটি খারাপ কাজ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। কাজেই শরীয়াতে একমাত্র এমন বাহানা ও ফন্দি জায়েয যা মানুষের নিজের সত্তা থেকে অথবা অন্য কোন ব্যক্তি থেকে জুলুম, গোনাহ ও অসৎ প্রবণতা দূর করার জন্য করা হয়ে থাকে। নয়তো হারামকে হালাল বা ফরয বাতিল অথবা সৎকাজ থেকে রেহাই পাবার জন্য বাহানাবাজি করা বা ফন্দি আঁটা গোনাহর উপরি গোনাহ। বরং এর সূত্র গিয়ে কুফরীর সাথে মেলে।
কারণ এসব অপবিত্র উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বাহানা করে সে যেন অন্য কথায় আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়। যেমন যে ব্যক্তি যাকাত দেয়া থেকে রেহাই পাবার জন্য বছর শেষ হবার আগে নিজের সম্পদ অন্য কারো কাছে স্থানান্তর করে সে নিছক একটি ফরয থেকেই পালায়ন করে না বরং সে একথাও মনে করে যে, আল্লাহ তার এ প্রকাশ্য কাজ দেখে প্রতারিত হবে এবং তাকে ফরযের আওতাভুক্ত মনে করবে না। এ ধরনের ‘হীলা’ বা বাহানার বিষয়সমূহ যেসব ফকীহ তাদের কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, শরীয়াতের বিধান থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করার জন্য এসব বাহানাবাজীর আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয় বরং তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যদি কোন ব্যাক্তি গোনাহকে আইনের রূপ দান করে গা বাঁচিয়ে বের হয়ে আসে, তাহলে কাযী বা শাসক তাকে পাকড়াও করতে পারেন না। তার শাস্তির ভার আল্লাহর হাতে সোপর্দ হয়ে যায়।
৪৭
এ প্রেক্ষাপটে একথা বলার জন্য হযরত আইয়ূবের কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহর নেক বান্দারা যখন বিপদের ও কঠিন সংকটের মুখোমুখি হন তখন তাঁরা তাঁদের রবের কাছে অভিযোগ করেন না বরং ধৈর্য সহকারে তাঁর চাপিয়ে দেয়া পরীক্ষাকে মেনে নেন এবং তাতে উত্তীর্ণ হবার জন্য তাঁর কাছেই সাহায্য চান। কিছুকাল আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পর যদি বিপদ অপসারিত না হয় তাহলে তাঁর থেকে নিরাশ হয়ে অন্যদের দরবারে হাত পাতবেন, এমন পদ্ধতি তাঁরা অবলম্বন করেন না। বরং তারা ভাল করেই জানেন, যা কিছু পাওয়ার আল্লাহর কাছ থেকেই পাওয়া যাবে। তাই বিপদের ধারা যতই দীর্ঘ হোক না কেন তারা তাঁরই করুণা প্রার্থী হন। এজন্য তারা এমন দান ও করুণা লাভে ধন্য হন যার দৃষ্টান্ত হযরত আইয়ূবের জীবনে পাওয়া যায়। এমনকি যদি তারা কখনো অস্থির হয়ে কোন প্রকার নৈতিক দ্বিধা-দন্দ্বের শিকার হয়ে পড়েন তাহলেও আল্লাহ তাদেরকে দুষ্কৃতিমুক্ত করার জন্য একটি পথ বের করে দেন যেমন হযরত আইয়ূবের জন্য বের করে দিয়েছিলেন।
একবার শয়তান হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে এভাবে প্ররোচনা দিল যে, সে এক চিকিৎসকের বেশে তার কাছে আসল। স্বামীর রুগ্নাবস্থার কারণে তিনি খুবই পেরেশান ছিলেন। কাজেই শয়তানকে সত্যিকারের চিকিৎসক মনে করে বললেন, আমার স্বামীর চিকিৎসা করুন। আসলে তো সে ছিল শয়তান। কাজেই এখানেও সে শয়তানী চাল চালল। বলল, চিকিৎসা করতে রাজি আছি। তবে শর্ত হল, আরোগ্য লাভের পর তোমাকে বলতে হবে, এই চিকিৎসকই তাকে ভালো করে দিয়েছে। তিনি যেহেতু স্বামীর অসুস্থতার কারণে পেরেশান ছিলেন, তাই তার কথা মানার প্রতি তার মনে ঝোঁক সৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি বিষয়টা হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালামকে জানালে তিনি খুবই মর্মাহত হলেন। তাঁর মনে আক্ষেপ জাগল যে, শয়তান তার স্ত্রীর কাছেও পৌঁছে গেল এবং এমনকি স্ত্রীর মনে তার কথা মানার প্রতি ঝোঁকও সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে! এই বেদনাহত অবস্থায় তিনি কসম খেয়ে ফেললেন, আরোগ্য লাভের পর আমি স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করব। কিন্তু যখন তিনি আরোগ্য লাভ করলেন, তখন এ কসমের জন্য তাঁর খুব অনুশোচনা হল। তিনি চিন্তা করতে লাগলেন, এ রকম অসাধারণ বিশ্বস্ত স্ত্রীকে তিনি কিভাবে শাস্তি দেবেন? আর যদি শাস্তি না দেন তবে তো কসম ভেঙ্গে যাবে! তাঁর এ রকম কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আল্লাহ তাআলা মেহেরবানী করলেন। ওহীর মাধ্যমে তাকে হুকুম দেওয়া হল, তিনি যেন একশ তৃণের একটি মুঠো নিয়ে তা দ্বারা স্ত্রীকে মাত্র একবার আঘাত করেন। এ পন্থায় তার কসমও রক্ষা করা হবে আবার স্ত্রীও তাতে বিশেষ কষ্ট পাবে না।
৪৪. আর (আমি তাকে আদেশ করলাম) একমুঠ ঘাস নিন এবং তা দ্বারা আঘাত করুন এবং শপথ ভঙ্গ করবেন না। নিশ্চয় আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল।(১) কতই উত্তম বান্দা তিনি ! নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমার অভিমুখী।
(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, আইয়ুব আলাইহিস সালামের অসুস্থতার সময় একদা শয়তান চিকিৎসকের বেশে আইয়ুব আলাইহিস সালামের পত্নীর সাথে সাক্ষাত করেছিল। তিনি ওকে চিকিৎসক মনে করে স্বামীর চিকিৎসা করতে অনুরোধ করেন। শয়তান বলল, এই শর্তে চিকিৎসা করতে পারি যে, আরোগ্য লাভ করলে একথার স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আমিই তাকে আরোগ্য দান করেছি। এ স্বীকৃতিটুকু ছাড়া আমি আর কোন পারিশ্রমিক চাই না। স্ত্রী আইয়ুবকে একথা বললে, তিনি বললেন -তোমার সরলতা দেখে সত্যই দুঃখ হয়। ওতো শয়তান ছিল। এ ঘটনার বিশেষতঃ তার স্ত্রীর মুখ দিয়ে শয়তান কর্তৃক এমন একটা প্রস্তাব তার সামনে উচ্চারিত করানোর বিষয়টা তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারলেন না। তিনি খুব দুঃখ পেলেন। কারণ, প্রস্তাবটা ছিল শেরেকীতে লিপ্ত করার একটা সূক্ষ্ম অপপ্রয়াস।
তাই তিনি শপথ করে বসলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে সুস্থ করে তুললে স্ত্রীর এ অপরাধের জন্য তাকে একশত বেত্ৰাঘাত করব। সে ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ পাক নির্দেশ দিচ্ছেন, শপথ ভঙ্গ করো না, বরং হাতে এক মুঠো তৃণশলাকা নিয়ে তদ্বারা স্ত্রীকে একশত বেত্ৰাঘাত করে শপথ পূর্ণ করা। তবে কোন অসমীচীন কাজের প্রতিজ্ঞা করলে তা ভেঙ্গে কাফফারা আদায় করাই শরীআতের বিধান। এক হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি কোন প্ৰতিজ্ঞা করে, অতঃপর দেখে যে, এ প্রতিজ্ঞার বিপরীত কাজ করাই উত্তম, তবে তার উচিত উত্তম কাজটি করা এবং প্রতিজ্ঞার কাফফারা আদায় করা। (মুসলিম: ১৬৫০)
(৪৪) আমি তাকে আদেশ করলাম, ‘এক মুষ্ঠি ঘাস নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর, আর শপথ ভঙ্গ করো না।’(1) নিশ্চয় আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম দাস সে! নিশ্চয় সে ছিল আল্লাহ-অভিমুখী।
(1) অসুস্থ অবস্থায় আইয়ুব (আঃ) তাঁর শুশ্রূষাকারিণী পত্নীর প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ করে ফেলেছিলেন। রোগমুক্ত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে নির্দেশ দিলেন যে, একশত ঘাসের গোছা বা ঝাঁটা (অথবা একশত ছড়াবিশিষ্ট খেজুর-কাঁদি) নিয়ে তাকে একবার আঘাত কর, তাহলেই তোমার কসম পূর্ণ হয়ে যাবে। উক্ত বিষয়ে উলামাগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে যে, এই সুবিধা শুধু আইয়ুব (আঃ)-এর জন্য, না অন্য কেউ একশত বেত্রাঘাতের পরিবর্তে একশত কাঠির ঝাঁটা মেরে কসম ভঙ্গ করা থেকে বাঁচতে পারবে। কেউ কেউ প্রথম মতকে বেছে নিয়েছেন। আর কেউ কেউ বলেন যে, যদি কসমকারীর নিয়ত কঠিনভাবে মারার না হয়, তবে অনুরূপ আমল করা যাবে। (ফাতহুল ক্বাদীর) একটি হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, ‘‘নবী (সাঃ) একজন ওজর-ওয়ালা দুর্বল ব্যভিচারীকে একশত বেত্রাঘাতের পরিবর্তে একশত কাঠির ঝাঁটা দ্বারা মেরে শাস্তি দিয়েছিলেন। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ) এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিশেষ অবস্থাতে এরূপ করা বৈধ।