সাদ ওয়াল কুরআ-নি যিযযিকরি।উচ্চারণ
সা-দ। ১ উপদেশপূর্ণ ২ কুরআনের শপথ। তাফহীমুল কুরআন
সোয়াদ, কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।মুফতী তাকী উসমানী
সা‘দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!মুজিবুর রহমান
ছোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।আল-বায়ান
স্ব-দ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ- (এটা সত্য)।তাইসিরুল
ছোয়াদ! উপদেশ পরিপূর্ণ কুরআনের শপথ।মাওলানা জহুরুল হক
১
সমস্ত “মুকাত্তা’আত” হরফের মতো ‘সা-দ’ ---এর অর্থ চিহ্নিত করা যদিও কঠিন তবুও ইবনে আব্বাস (রা.) ও যাহহাকের এ উক্তিও কিছুটা মনে দাগ কাটে যে, এর অর্থ হচ্ছে, صادق فى قوله অথবা صدق محمد অর্থাৎ “মুহাম্মাদ ﷺ সত্যবাদী। তিনি যা বলছেন সবই সত্য।”
২
মূল শব্দ হচ্ছে ذِي الذِّكْرِ এর দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, ذى شرف অর্থাৎ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মহাপাণ্ডিত্যপূর্ণ। দুই, ذى التذكير অর্থাৎ উপদেশ পরিপূর্ণ। অর্থাৎ ভুলে যাওয়া শিক্ষা আবার স্মরণ করিয়ে দেয় এবং গাফলতি থেকে সজাগ করে দেয়।
এটা সেই আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত (বিভিন্ন হরফসমূহ)-এর একটি, যার অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না। সূরা বাকারার প্রথম আয়াতের টীকা দেখুন। কুরআন মাজীদে যেসব বস্তু দ্বারা শপথ করা হয়েছে, তার তাৎপর্য সম্পর্কে দেখুন সূরা আস-সাফফাত-এর ১নং টীকা।
১. সোয়াদ(১), শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!
(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, এই সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো কাফের-মুশরিক ও তাদের সেই মজলিসের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ আবু তালিব ও আবু জাহলসহ কুরাইশ কাফেরদের অন্যান্য নেতৃবর্গের প্রস্তাব সম্পর্কিত ঘটনা। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল (মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩২) এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতব্য আবু তালেব ইসলাম গ্ৰহণ না করা সত্বেও ভ্রাতুস্পপুত্রের পূর্ণ দেখা-শোনা ও হেফাযত করে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন কোরাইশ সরদাররা এক পরামর্শসভায় মিলিত হল।
এতে আবু জাহল, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুস ও অন্যান্য সরদার যোগদান করল। তারা পরামর্শ করল যে, আবু তালেব রোগাক্রান্ত। যদি তিনি মারা যান এবং তার অবর্তমানে আমরা মুহাম্মদ-এর বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি, তবে আরবের লোকেরা আমাদেরকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে। বলবে: আবু তালেবের জীবদ্দশায় তো তারা মুহাম্মদ-এর কেশগ্রও স্পর্শ করতে পারল না, এখন তার মৃত্যুর পর তাকে উৎপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তাই আমরা আবু তালেব জীবিত থাকতেই তার সাথে মুহাম্মদ এর ব্যাপারে একটা মীমাংসায় উপনীত হতে চাই, যাতে সে আমাদের দেব-দেবীর নিন্দাবাদ পরিত্যাগ করে। সেমতে তারা আবু তালেবের কাছে গিয়ে বললঃ আপনার ভ্রাতুস্পপুত্র আমাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা করে।
আবু তালেব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মজলিসে ডেকে এনে বললেনঃ ভ্রাতুস্পপুত্র, এ কোরাইশ সরদাররা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে, তুমি নাকি তাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা কর। তাদেরকে তাদের ধর্মে ছেড়ে দাও এবং তুমি আল্লাহর ইবাদত করে যাও। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ চাচাজন, “আমি কি তাদেরকে এমনি বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেবো না, যাতে তাদের মঙ্গল রয়েছে?” আবু তালেব বললেনঃ সে বিষয়টি কি? তিনি বললেনঃ আমি তাদেরকে এমন একটি কালেমা বলতে চাই, যার বদৌলতে সমগ্র আরব তাদের সামনে মাথা নত করবে এবং তারা সমগ্ৰ অনারবদের অধীশ্বর হয়ে যাবে। একথা শুনে আবু জাহল বলে উঠল: বল, সে কলেমা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ”। একথা শুনে সবাই পরিধেয় বস্ত্র ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বললঃ আমরা কি সমস্ত দেব-দেবীকে পরিত্যাগ করে মাত্র একজনকে অবলম্বন করব? এ যে, বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার! এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সূরা ছোয়াদের আলোচ্য আয়াতগুলো নাযিল হয়। (দেখুন: তিরমিযী: ৩২৩২. আত-তাফসীরুস সহীহ ৪/২১৭)
(১) স্বা-দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!(1) (তুমি অবশ্যই সত্যবাদী)।
(1) যাতে তোমাদের জন্য সর্ব প্রকার নসীহত এবং এমন কথা আলোচনা হয়েছে, যার দ্বারা তোমাদের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই শুধরে যাবে। অনেকে ذِي الذِّكر -এর অর্থঃ মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী করেছেন। ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, দুটি অর্থই ঠিক। কারণ কুরআন মর্যাদারও অধিকারী এবং মু’মিন ও মুত্তাক্বীদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষণীয় গ্রন্থও বটে। এখানে শপথের উত্তর ঊহ্য আছে, আর তা হল, আসল কথা তা নয় যা মক্কার কাফেররা বলে; তারা বলে মুহাম্মাদ জাদুকর, কবি বা মিথ্যুক। বরং তিনি আল্লাহর সত্য রসূল; যাঁর উপর এই মর্যাদাময় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।