কুলুত্তা‘আ-মি ক-না হিল্লাল লিবানীইছরঈলা ইল্লা-মা-হাররমা ইসরঈলু‘আলানাফছিহী মিন কাবলি আন তুনাঝঝালাত তাওর-তু কুল ফা’তূ বিত্তাওর-তি ফাতলূহাইন কুনতুম সা-দিকীন।উচ্চারণ
এসব খাদ্যবস্তু (শরীয়াতে মুহাম্মাদীতে যেগুলো হালাল) বনী ইসরাঈলদের জন্যও হালাল ছিল। ৭৬ তবে এমন কিছু বস্তু ছিল যেগুলোকে তাওরাত নাযিল হবার পূর্বে বনী ইসরাঈল ৭৭ নিজেই নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিল। তাদেরকে বলে দাও, যদি তোমরা (নিজেদের আপত্তির ব্যাপারে) সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তার কোন বাক্য পেশ করো। তাফহীমুল কুরআন
তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে বনী ইসরাঈলের জন্য (-ও) সমস্ত খাদ্যদ্রব্য হালাল ছিল (-যা মুসলিমদের জন্য হালাল), কেবল সেই বস্তু ছাড়া, যা ইসরাঈল (অর্থাৎ ইয়াকুব আলাইহিস সালাম) নিজের জন্য হারাম করেছিল। (হে নবী! ইয়াহুদীদেরকে) বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো। #%৪৬%#মুফতী তাকী উসমানী
প্রত্যেক খাদ্যই বানী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। একমাত্র তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বানী ইসরাঈল নিজের উপর যা হারাম করে নিয়েছিল তাই তাদের উপর হারাম করা হয়েছিল। তুমি বলঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে তাওরাত আনয়ন কর, অতঃপর ওটা পাঠ কর।মুজিবুর রহমান
তওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইয়াকুব যেগুলো নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যতীত সমস্ত আহার্য বস্তুই বনী-ইসরায়ীলদের জন্য হালাল ছিল। তুমি বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। তাহলে তওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের জন্যে যা হারাম করেছিল তা ব্যতীত বনী ইস্রাঈলের জন্যে যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সকল খাবার বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। তবে ইসরাঈল তার নিজের উপর যা হারাম করেছিল তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। বল, ‘তাহলে তোমরা তাওরাত নিয়ে আস, অতঃপর তা তিলাওয়াত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।আল-বায়ান
তাওরাত নাযিলের পূর্বে ইয়াকুব নিজের উপর যা হারাম করেছিল, তাছাড়া সকল খাদ্য বানী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। বল, ‘তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।তাইসিরুল
সব রকম খাদ্য বৈধ ছিল ইসরাইলের বংশধরদের জন্যেও, -- সে-সব ছাড়া যা তওরাত অবতীর্ণ হবার আগে ইসরাইল নিজের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। বলো -- "তা হলে তওরাত নিয়ে এস আর তা পড়ো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"মাওলানা জহুরুল হক
৭৬
ইহুদী আলেমরা কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার বিরুদ্ধে যখন কোন নীতিগত আপত্তি জানাতে পারলো না (কারণ যেসব বিষয়ের ওপর দ্বীনের ভিত্তি স্থাপিত ছিল, তার ব্যাপারে পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার মধ্যে সামান্য চুল পরিমাণ পার্থক্যও ছিল না) তখন তারা ফিকাহ্ ভিত্তিক আপত্তি উত্থাপন করতে লাগলো। এ প্রসঙ্গে তারা এই বলে আপত্তি জানালো-আপনি পানাহার সামগ্রীর মধ্যে এমন কিছুকে হালাল গণ্য করেছেন, যা পূর্ববর্তী নবীদের সময় থেকে হারাম হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এখানে এই আপত্তিটির জবাব দেয়া হয়েছে।
৭৭
ইসরাঈল বলতে যদি এখানে বনী ইসরাঈল বুঝানো হয়ে থাকে, তাহলে এর অর্থ হবে, তাওরাত নাযিল হবার পূর্বে বনী ইসরাঈলরা কিছু জিনিস নিছক প্রথাগতভাবে নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিল। আর একথায় যদি হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়ে থাকে তাহলে এর অর্থ হবে, নিজের প্রকৃতিগত অপছন্দ অথবা কোন রোগের কারণে তিনি কোন কোন জিনিস পরিহার করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে তাঁর সন্তানরা সেগুলো নিষিদ্ধ মনে করে নিয়েছিল। এ শেষোক্ত বক্তব্যটি বেশী প্রচলিত। পরবর্তী আয়াত থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, বাইবেলে উট ও খরগোশ হারাম হবার যে বিধান লিখিত হয়েছে তা মূল তাওরাতের বিধান নয়। বরং ইহুদী আলেমরাই পরবর্তীকালে এ বিধান কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। (বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন সূরা আন’আম-এর ১২২ টীকা)।
ইয়াহুদীরা মুসলিমদের উপর আপত্তি তুলত যে, তোমরা নিজেদেরকে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবী কর, অথচ তোমরা উটের গোশত খাও? যা তাওরাতের দৃষ্টিতে হারাম। এ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে যে, উটের গোশত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দীনে হারাম ছিল না; বরং যে সকল জিনিস মুসলিমদের জন্য হালাল, তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে তার সবই বনী ইসরাঈলের জন্যও হালাল ছিল। অবশ্য একথা ঠিক যে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম নিজের জন্য উটের গোশত হারাম করেছিলেন। আর তার কারণ হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী এই ছিল যে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সায়্যাটিকা (ইরকুন নাসা) রোগে ভুগছিলেন। তাই তিনি মানত করেছিলেন, এ রোগ থেকে মুক্তি লাভ করলে আমি আমার প্রিয় খাদ্য ত্যাগ করব। উটের গোশত ছিল তার সর্বাপেক্ষা প্রিয় খাবার। তাই আরোগ্য লাভের পর তিনি তা ছেড়ে দেন (রুহুল মাআনী, মুস্তাদরাক হাকিমের বরাতে, এর সনদ সহীহ)। পরবর্তীকালে বনী ইসরাঈলের জন্যও উটের গোশত হারাম করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে কুরআন মাজীদ স্পষ্ট ভাষায় কিছু বলেনি। তবে সূরা নিসায় (৪ : ১৬০) আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বনী ইসরাঈলের প্রতি তাদের নাফরমানীর কারণে বহু উৎকৃষ্ট জিনিস হারাম করে দিয়েছিলেন। আর এ সূরারই ৫০ নং আয়াতে গত হয়েছে যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন, ‘আমার পূর্বে যে কিতাব নাযিল হয়েছে, আমি তার সমর্থক। আর (আমাকে এজন্য পাঠানো হয়েছে) যাতে আমি তোমাদের প্রতি যেসব বস্তু হারাম করা হয়েছিল, তন্মধ্যে কতক হালাল করে দেই’। তাছাড়া এস্থলে ‘তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে’ কথাটি দ্বারাও বোঝা যায় যে, সম্ভবত তাওরাত নাযিলের পর উটের গোশত তাদের জন্য হারাম করা হয়েছিল। অতঃপর তাদেরকে যে চ্যালেঞ্জ করা হল ‘তোমরা সত্যবাদী হলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো’, এর অর্থ তাওরাতের কোথাও একথার উল্লেখ নেই যে, উটের গোশত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই হারাম হিসেবে চলে এসেছে। বরং বিষয়টি এর বিপরীত। এটা কেবল বনী ইসরাঈলের জন্যই হারাম করা হয়েছিল। এখনও বাইবেলের ‘লেবীয়’ পুস্তিকা, যা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মতে বাইবেলের অংশ, তাতে বনী ইসরাঈলের প্রতি উটের গোশত খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলকে বল, তোমরা এ পশু খেয়ো না, অর্থাৎ উট... এটা তোমাদের পক্ষে অপবিত্র (লেবীয় : ১১:১-৪)। সারকথা এই যে, উটের গোশত মৌলিকভাবে হালাল। কেবল হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের জন্য তাঁর মানতের কারণে আর বনী ইসরাঈলের জন্য তাদের নাফরমানীর কারণে হারাম করা হয়েছিল। এখন উম্মতে মুহাম্মাদীকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আমলের মূল বিধান ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৯৩. তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে ইসরাঈল তার নিজের উপর যা হারাম করেছিল(১) তা ছাড়া বনী ইসরাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল।(২) বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং তা পাঠ কর।
(১) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ‘ইরকুন নাসা’ নামক রোগ ছিল। এজন্য তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, যদি তিনি এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন তাহলে তিনি উটের গোশত ভক্ষণ ত্যাগ করবেন। আয়াতে এ ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। (মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/২৯২)
(২) আলোচ্য আয়াতসমূহে একটি বিতর্কের বিষয় বর্ণনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে এসেছে- ইয়াহুদীরা আপত্তি করল যে, আপনারা উটের গোশত খান, দুধ পান করেন। অথচ এগুলো ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি হারাম ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ ভুল কথা, এগুলো তার প্রতি হালাল ছিল। ইয়াহুদীরা বললঃ আমরা যেসব বস্তু হারাম মনে করি, সবই নূহ ও ইবরাহীমের আমল থেকেই হারাম হিসাবে চলে এসেছে এবং আমাদের নিকট পর্যন্ত পৌছেছে। এ কথোপকথনের পর আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। এতে ইয়াহুদীদের মিথ্যাবদিতা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বলা হচ্ছেঃ তাওরাত নাযিলের পূর্বে উটের গোশত ব্যতীত সব খাদ্যদ্রব্য স্বয়ং বনী-ইসরাঈলের জন্যও হালাল ছিল। তবে উটের গোশত বিশেষ কারণঃবশত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম নিজেই নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে নিয়েছিলেন। (দেখুন, তাফসীরে ইবন কাসীর)
(৯৩) তওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইস্রাঈল নিজের জন্য যা অবৈধ করেছিল, তা ব্যতীত বনী ইস্রাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই বৈধ ছিল। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তওরাত আন এবং তা পাঠ কর।’(1)
(1) এই আয়াত এবং পরের দু’টি আয়াত ইয়াহুদীদের অভিযোগের খন্ডনে অবতীর্ণ হয়। তারা নবী করীম (সাঃ)-কে বলল যে, তুমি নিজেকে ইবরাহীম (আঃ)-এর দ্বীনের অনুসারী বলে দাবী কর এবং তুমি উটের গোশত খাও; অথচ ইবরাহীমের দ্বীনে উটের গোশত এবং তার দুধ হারাম ছিল। মহান আল্লাহ বললেন, ইয়াহুদীদের এ অভিযোগ ভুল ও ভিত্তিহীন। কারণ, ইবরাহীম (আঃ)-এর দ্বীনে এ জিনিসগুলো হারাম ছিল না। তবে হ্যাঁ কোন কোন জিনিস ইসরাঈল (ইয়াকুব) (আঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। আর তা ছিল এই উটের গোশত এবং তার দুধ। (তার কারণ ছিল মানত অথবা রোগ)। আর ইয়াকুব (আঃ)-এর এ কাজও ছিল তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বেকার। কারণ, তাওরাত ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আলাইহিমাস্ সালাম)-এর অনেক পরে নাযিল হয়। অতএব কিভাবে তোমরা উক্ত অভিযোগ উত্থাপন কর? তাছাড়া তাওরাতে কিছু জিনিস তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে কেবল তোমাদের যুলুম ও অবাধ্যতার কারণে। (সূরা আনআম ৪৬, সূরা নিসা ১৬০) যদি তোমাদের বিশ্বাস না হয়, তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পড়ে শুনাও, দেখবে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, ইবরাহীম (আঃ)-এর যামানায় এ জিনিসগুলো হারাম ছিল না এবং তোমাদের উপর যা কিছু জিনিস হারাম করা হয়েছে তা কেবল তোমাদের যুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে। অর্থাৎ, শাস্তি স্বরূপ তা হারাম করা হয়েছিল। (আয়সারুত তাফাসীর)