ফাছতাফতিহিম আহুম আশাদ্দুখাল কান আম্মান খালাকনা- ইন্না-খালাকনা-হুম মিন তীনিল লা-ঝিব।উচ্চারণ
এখন এদেরকে জিজ্ঞেস করো, এদের সৃষ্টি বেশী কঠিন, না আমি যে জিনিসগুলো সৃষ্টি করে রেখেছি সেগুলোর? ৮ এদেরকে তো আমি সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদামাটি দিয়ে। ৯ তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আমার অন্যান্য মাখলুককে? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদা হতে।মুফতী তাকী উসমানী
তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর নাকি আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা সৃষ্টি কঠিনতর? তাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি আঠাল মাটি হতে।মুজিবুর রহমান
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদেরকে জিজ্ঞাসা কর, এরা সৃষ্টিতে দৃঢ়তর, না আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা ? এদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি আঠাল মৃত্তিকা হতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।আল-বায়ান
তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- সৃষ্টির ক্ষেত্রে কি তারাই বেশি প্রবল, না আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা (বেশি প্রবল)? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি (অতি নগণ্য) মাটি থেকে।তাইসিরুল
সুতরাং তাদের জিজ্ঞাসা করো, -- গঠনে তারা কি বেশী বলিষ্ঠ না যাদের আমরা সৃষ্টি করেছি? নিঃসন্দেহ তাদের আমরা সৃষ্টি করেছি আঠালো কাদা থেকে।মাওলানা জহুরুল হক
৮
আখেরাত সম্পর্কে মক্কার কাফেররা যে সন্দেহ পেশ করতো এটি তার জওয়াব। তাদের মতে আখেরাত সম্ভব নয়। কারণ যেসব মানুষ মরে গেছে তাদের আবার দ্বিতীয়বার জন্মলাভ করা অসম্ভব। এর জবাবে আখেরাতের সম্ভাবনায় যুক্তি পেশ করতে গিয়ে আল্লাহ সর্বপ্রথম তাদের সামনে এ প্রশ্ন রাখেন, তোমাদের মতে যদি মৃত মানুষদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করা অনেক কঠিন কাজ হয়ে থাকে এবং এ সৃষ্টি করার ক্ষমতা আমার না থেকে থাকে তাহলে বলো, এ পৃথিবী ও আকাশ এবং এদের যে অসংখ্য জিনিস রয়েছে এগুলো সৃষ্টি করা কি সহজ কাজ? তোমাদের বুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেছে? যে আল্লাহর জন্য এ বিশাল বিশ্ব-জাহান সৃষ্টি করা কঠিন কাজ ছিল না এবং যিনি তোমাদের নিজেদেরকে একবার সৃষ্টিও করেছেন তাঁর ব্যাপারে তোমরা কেমন করে ভাবতে পারলে যে তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে তিনি অক্ষম?
৯
অর্থাৎ এ মানুষ তো বিরাট জিনিস নয়। মাটি দিয়ে একে তৈরি করা হয়েছে এবং এ মাটি দিয়ে আবার তৈরি করা যেতে পারে। আঠাল কাদামাটি দিয়ে মানুষ তৈরি করার অর্থ এও হতে পারে যে, প্রথম মানুষটিকে সৃষ্টি করা হয়েছিল মাটি দিয়ে এবং তারপর মানুষের বংশধারা ঐ প্রথম মানুষটির শুক্রবীজ থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে। এর অর্থ এও হতে পারে যে, প্রত্যেকটি মানুষ আঠাল কাদামাটির তৈরি। কারণ মানুষের অস্তিত্বের সমস্ত উপাদান মাটি থেকেই লাভ করা হয়। যে বীর্যে তার জন্ম তা খাদ্য থেকে তৈরি এবং গর্ভসঞ্চার থেকে শুরু করে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তার সমগ্র অস্তিত্ব যেসব উপাদানে তৈরি হয় তার খাদ্যই তার সবটুকু সরবরাহ করে। এ খাদ্য পশু ও জীবজন্তু থেকে সরবরাহকৃত হোক বা উদ্ভিদ থেকে মূলত এর উৎস হচ্ছে মাটি, যা পানির সাথে মিশে মানুষের খাদ্য হওয়ার এবং তরকারী ও ফল উৎপন্ন করার যোগ্যতা অর্জন করে এবং জীবজন্তু লালন করারও যোগ্যতা অর্জন করে, যাদের দুধ ও গোশ্ত মানুষ আহার করে।
কাজেই যুক্তির বুনিয়াদ এরই ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, এ মাটি যদি জীবন গ্রহণ করার যোগ্যতা না রাখতো তাহলে তোমরা কেমন করে জীবিত আকারে দুনিয়ার বুকে বিরাজ করছো? আর যদি তার মধ্যে জীবন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে, যেমন তোমাদের অস্তিত্বই এ সম্ভানার দ্ব্যর্থহীন প্রমাণ পেশ করছে, তাহলে আগামীকাল এ একই মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি অসম্ভব হবে কেন?
অর্থাৎ আসমান, যমীন ও চন্দ্র-সূর্যের সৃজন তাদের সৃজন অপেক্ষা বেশি কঠিন। আল্লাহ তাআলা যখন সেই কঠিন মাখলুকসমূহকেই অতি সহজে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করেছেন, তখন কাদা দ্বারা সৃষ্ট মানুষকে একবার মৃত্যু দানের পর পুনরায় জীবিত করে তোলা তার পক্ষে মুশকিল হবে কেন?
১১. সুতরাং তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তারা সৃষ্টিতে দৃঢ়তর, না আমরা অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা?(১) তাদেরকে তো আমরা সৃষ্টি করেছি আঠাল মাটি হতে।
(১) মুজাহিদ বলেন, অন্য সৃষ্টি যেমন, আসমান, যমীন ও পাহাড়। (তাবারী)
(১১) অবিশ্বাসীদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ওদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, নাকি আমি অবশিষ্ট যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা সৃষ্টি করা কঠিনতর? (1) ওদেরকে আমি আঠাল মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। (2)
(1) অর্থাৎ, আমি যে পৃথিবী, ফিরিশতা এবং আকাশের মত বস্তু সৃষ্টি করেছি যা আকার ও আয়তনের দিক দিয়ে একেবারে অসাধারণ। সুতরাং মানুষ সৃষ্টি করা এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে পুনর্জীবিত করা, সেই সকল বস্তু সৃষ্টি করার চাইতেও বেশী শক্ত ও কষ্টকর? কক্ষনই না।
(2) অর্থাৎ, তাদের আদি পিতা আদম (আঃ)-কে তো আমি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। উদ্দেশ্য এই যে মানুষ পরকালের জীবনকে এত অসম্ভব ভাবছে কেন অথচ তারা একটি অতি নগণ্য ও দুর্বল বস্তু থেকে সৃষ্টি হয়েছে? অথচ সৃষ্টির দিক দিয়ে তাদের থেকে সবল, বিশাল ও মজবুত বস্তুর সৃষ্টি হওয়ার কথা তারা অস্বীকার করে না। (ফাতহুল ক্বাদীর)