لَا يَسۡتَطِيعُونَ نَصۡرَهُمۡ وَهُمۡ لَهُمۡ جُندٞ مُّحۡضَرُونَ

লা-ইয়াছতাতী‘ঊনা নাসরহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারূন।উচ্চারণ

তারা এদের কোন সাহায্য করতে পারে না বরং উল্টো এরা তাদের জন্য সদা প্রস্তুত সৈন্য হয়ে বিরাজ করছে। ৬২ তাফহীমুল কুরআন

(অথচ) তারা তাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না; বরং তারা তাদের জন্য এমন এক বিরোধী সৈন্য হয়ে যাবে, যাদেরকে (কিয়ামতের দিন তাদের সামনে) উপস্থিত করা হবে। #%২৬%#মুফতী তাকী উসমানী

কিন্তু এসব ইলাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয়, তাদেরকে তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হবে।মুজিবুর রহমান

অথচ এসব উপাস্য তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রূপে ধৃত হয়ে আসবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু এইসব ইলাহ্ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; তাদেরকে এদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরা তাদের কোন সাহায্য করতে সক্ষম হবে না, বরং এগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীরূপে হাযির করা হবে।আল-বায়ান

ঐ সব ইলাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়, বরং (উল্টো) এ লোকেরাই (ঐ সব ইলাহকে সাহায্য করার জন্য) সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনীর মত হাযির হয়ে আছে।তাইসিরুল

ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, বরং তারা হবে এদের জন্য এক বাহিনী যাদের হাজির করা হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬২

অর্থাৎ ঐ মিথ্যা উপাস্য দেবতারা নিজেরাই তাদের অস্তিত্ব, টিকে থাকা, সংরক্ষণ ও প্রয়োজন পূরণের জন্য এসব পূজা উপাসনাকারীর মুখাপেক্ষী। এ সেনাবাহিনী ছাড়া তাদের খোদায়ী এক দিনও চলে না। এরা তাদের সার্বক্ষনিক উপস্থিত দাস। এরা তাদের দরবার বানিয়ে ও সাজিয়ে রাখছে। এরা তাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা আল্লাহর বান্দদেরকে তাদের ভক্তে-অনুরক্তে পরিণত করছে। তাদের সমর্থনে এরা ঝগড়া-বিবাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ করছে। তারপরই তাদের খোদায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়। নয়তো কেউ তাদের কথা জিজ্ঞেসও করতো না। তারা আসল খোদা নয়। কেউ তাদেরকে মেনে নিক বা না নিক তারা নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সমগ্র বিশ্ব-জাহানে কর্তৃত্ব চালিয়ে যাবে, এমন ক্ষমতা তাদের নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ যেসব মনগড়া উপাস্য সম্পর্কে তারা আশাবাদী ছিল যে, তারা তাদের সাহায্য করবে, তারা তাদের সাহায্য তো করতে পারবেই না, উল্টো কিয়ামতের দিন তাদের গোটা দল তাদের পূজারীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, যেমন সূরা সাবা (২৪ : ৪০) ও সূরা কাসাস (২৮ : ৬৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৫. কিন্তু তারা (এ সব ইলাহ) তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; আর তারা তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিতকৃত হবে।(১)

(১) এখানে جند এর অর্থ প্রতিপক্ষ নেয়া হলে আয়াতের উদ্দেশ্য হবে এই যে, তারা দুনিয়াতে যাদেরকে উপাস্য স্থির করেছে, তারাই কেয়ামতের দিন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। তবে হাসান ও কাতাদাহ রাহেমাহুমাল্লাহ থেকে বর্ণিত এ আয়াতের তাফসীর এই যে, কাফেররা সাহায্য পাওয়ার আশায় মূর্তিদেরকে উপাস্য স্থির করেছিল, কিন্তু অবস্থা হচ্ছে এই যে, স্বয়ং তারাই মূর্তিদের সেবাদাস ও সিপাহী হয়ে গেছে। তারা মূর্তিদের হেফাযত করে। কেউ বিরুদ্ধে গেলে তারা ওদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করে। অথচ তাদেরকে সাহায্য করার যোগ্যতা মূর্তিদের নেই। অথবা আয়াতের অর্থ, তারাও জাহান্নামে হাযির হবে, যেমন তাদের এ মূর্তিগুলোও জাহান্নামে তাদের সাথে উপস্থিত থাকবে। (দেখুন: ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৫) কিন্তু এরা ওদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; অথচ ওরা এদের জন্য উপস্থিত বাহিনী। (1)

(1) جُنْدٌ (বাহিনী)এর অর্থ হল, দেবতাদের সাহায্যকারী এবং তাদের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী। مُحْضَرُوْنَ পৃথিবীতে তাদের নিকট উপস্থিত। উদ্দেশ্য এই যে, তারা যে সকল মূর্তিকে দেবতা মনে করে, তারা তাদের সাহায্য আর কি করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে অক্ষম। যদি তাদেরকে কেউ গালাগালি করে বা তাদের নিন্দা করে, তাহলে এ (উপাসক)রাই উপস্থিত বাহিনীর মত তাদের সাহায্য ও তাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে তৎপর হয়; তাদের সেই দেবতারা নিজে নয়।