বিমা-গাফারলী রববী ওয়া জা‘আলানী মিনাল মুকরমীন।উচ্চারণ
সে বললো, “হায়! যদি আমার সম্প্রদায় জানতো আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমার মাগফিরাত করেছেন এবং আমাকে মর্যাদাশালী লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!” ২৩ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ কিভাবে আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!মুফতী তাকী উসমানী
কি কারণে আমার রাব্ব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন।মুজিবুর রহমান
যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘কিরূপে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন’।আল-বায়ান
আমার পালনকর্তা কোন্ জিনিসের বদৌলতে আমাকে ক্ষমা করেছেন আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তাইসিরুল
কি কারণে আমার প্রভু আমাকে পরিত্রাণ করেছেন, আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।মাওলানা জহুরুল হক
২৩
এটি সেই মু’মিন ব্যক্তির উন্নত নৈতিক মানসিকতার একটি শ্রেষ্ঠতম আদর্শ। যারা এ মাত্র হত্যা কর্ম সংঘটিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তাঁর মনে কোন ক্রোধ ও প্রতিশোধ স্পৃহা ছিল না। তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কোন বদদোয়া করছেন না। এর পরিবর্তে তিনি এখনো তাদের কল্যাণ কামনা করে চলছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর মনে যদি কোন আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়ে থাকে তাহলে তা ছিল কেবলমাত্র এতটুকু যে, হায়, আমার জাতি যদি আমার এ শুভ পরিণাম জানতে পারতো এবং আমার জীবন থেকে না হলেও আমার মৃত্যু থেকেও যদি শিক্ষা নিয়ে সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন করতো। এ ভদ্র-বিবেকবান মানুষটি নিজের হত্যাকারীদের জন্যও জাহান্নামের প্রত্যাশা করতেন না। বরং তিনি চাইতেন তারা ঈমান এনে জান্নাতের অধিকারী হোক। এরই প্রশংসা করে হাদীসে বলা হয়েছে,نصح قومه حيا وميتا “এ ব্যক্তি জীবিত অবস্থায়ও নিজের জাতির কল্যাণকামী থেকেছে এবং মৃত্যুর পরও।”
এ ঘটনাটি বর্ণনা করে মহান আল্লাহ মক্কার কাফেরদেরকে পরোক্ষভাবে এ সত্যটির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সাথী মু’মিনরাও তোমাদের ঠিক তেমনি যথার্থ কল্যাণকামী যেমন এ মর্দে মু’মিন তাঁর জাতির কল্যাণকামী ছিল। তোমাদের সকল প্রকার উৎপীড়ন-নিপীড়ন সত্ত্বেও এরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ স্পৃহা পোষণ করে না। তোমাদের সাথে এদের শত্রুতা নেই। ববরং এদের শত্রুতা তোমাদের গোমরাহীর সাথে। তোমরা সত্য-সঠিক পথে ফিরে আসবে, কেবল এজন্যই এরা লড়াই করছে। এছাড়া এদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।
যেসব আয়াত থেকে বরযখের (মৃত্যের পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত) জীবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এ আয়াতটি তার অন্যতম। এ থেকে জানা যায় মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়-কাল চূড়ান্ত অস্তিত্ব বিলুপ্তির যুগ নয়। কোন কোন স্বল্পজ্ঞান-সম্পন্ন লোক এরকম ধারণা পোষণ করে থাকে। বরং এ সময় দেহ ছাড়াই প্রাণ জীবিত থাকে, কথা বলে ও কথা শোনে, আবেগ-অনুভূতি পোষণ করে, আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করে এবং দুনিয়াবাসীদের ব্যাপারেও তার আগ্রহ অব্যাহত থাকে। যদি এমনটি না হতো, তাহলে মৃত্যুর পর এ মর্দে মু’মিনকে কেমন করে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয় এবং তিনিই বা কেমন করে তাঁর জাতির জন্য এ আকাঙ্ক্ষা করেন যে, হায়, যদি তারা তাঁর এ শুভ পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারতো।
২৭. কিরূপে আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন।
(২৭) কি কারণে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের দলভুক্ত করেছেন।’(1)
(1) অর্থাৎ, যে ঈমান ও তওহীদের কারণে আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যদি সে কথা আমার সম্প্রদায় জানত, তাহলে তারাও ঈমান ও তাওহীদে বিশ্বাসী হয়ে আল্লাহর ক্ষমা ও তাঁর বিভিন্ন অনুগ্রহের হকদার হয়ে যেত। এইভাবে সে ব্যক্তি মৃত্যুর পরেও নিজ জাতির মঙ্গল চেয়েছেন। একজন প্রকৃত মু’মিনকে এমনই হওয়া দরকার যে, সে সর্বদা মানুষের মঙ্গল কামনা করবে; অমঙ্গল নয়। তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবে; পথভ্রষ্ট করবে না। তাতে মানুষ তার সাথে যেমনই ব্যবহার করুক না কেন; এমনকি যদিও তাকে মেরে ফেলে।