إِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ

ইন্নাকা লামিনাল মুরছালীন।উচ্চারণ

তুমি নিঃসন্দেহে রসূলদের অন্তর্ভুক্ত, তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের একজন।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের একজন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।আল-বায়ান

তুমি অবশ্যই রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ তুমি তো প্রেরিত পুরুষদের অন্যতম, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এভাবে বক্তব্য শুরু করার কারণ নাউযুবিল্লাহ এ নয় যে, নবী ﷺ তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দিহান ছিলেন এবং তাঁকে নিশ্চয়তা দান করার জন্য আল্লাহ‌র একথা বলার প্রয়োজন হয়েছিল। বরং এর কারণ হচ্ছে এই যে, সে সময় কুরাঈশ বংশীয় কাফেররা অত্যন্ত জোরেশোরে নবী করীমের ﷺ নবুওয়াত অস্বীকার করছিল। তাই আল্লাহ‌ কোন প্রকার ভূমিকা ছাড়াই তাঁর ভাষণ শুরুই করেছেন এ বাক্য দিয়ে যে, “তুমি নিশ্চয়ই রসূলদের অন্তর্ভুক্ত।” অর্থাৎ যারা তোমার নবুওয়াত অস্বীকার করছে তারা বিরাট ভুল করছে। তারপর একথার ওপর কুরআনের কসম খাওয়া হয়েছে এবং কুরআনের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে “বিজ্ঞানময়” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, তোমার নবী হবার সুস্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে এ কুরআন যা পুরোপুরি জ্ঞানে পরিপূর্ণ। এ জিনিসটি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, যে ব্যক্তি এমন জ্ঞানপূর্ণ বাণী উপস্থাপন করছেন তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ‌র রসূল। কোন মানুষ এমন ধরনের বাণী রচনা করার ক্ষমতা রাখে না। আর মুহাম্মাদ ﷺ কে যারা জানতো তাদের পক্ষে কোনক্রমেই এ বিভ্রান্তির শিকার হওয়া সম্ভব ছিল না যে, এ বাণী তিনি নিজে রচনা করে আনছেন অথবা অন্য কোন মানুষের কাছ থেকে শিখে এসে শুনাচ্ছেন। (এ বিষয়বস্তু বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইউনুস, ২০, ২১, ২২, ৪৪, ৪৫; বনী ইসরাঈল, ১০৪, ১০৫, টীকা; সূরা নূরের ভূমিকা; সূরা আশ্ শূআরা ১; আন নামল, ৯২; আল কাসাস ৬২, ৬৩, ৬৪, ১০২-১০৯; আল আনকাবুত, ৮৮-৯১ টীকা এবং আর রুমের ঐতিহাসিক পটভূমি ও ১, ২, ৩ টীকা।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. নিশ্চয় আপনি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩) তুমি অবশ্যই প্রেরিত (রসূল)দের অন্তর্ভুক্ত; (1)

(1) মুশরিকরা নবী (সাঃ)-এর রসূল হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করত। ফলে তারা তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করত ও বলত, (لَسْتَ مُرْسَلًا) ‘‘তুমি তো পয়গম্বরই নও।’’ (সূরা রা’দ ৪৩ আয়াত) আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তরে জ্ঞানগর্ভ কবুরআনের কসম করে বললেন, তিনি অবশ্যই তাঁর পয়গম্বর। এতে রয়েছে নবী (সাঃ)-এর সম্মান ও মাহাত্ম্যের বিকাশ। যেহেতু আল্লাহ তাআলা অন্য কোন রসূলের জন্য তাঁর রিসালাতের কসম করেননি। রিসালাত প্রমাণ করতে আল্লাহ তাআলার কসম রসূল (সাঃ)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।