ٱسۡتِكۡبَارٗا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَكۡرَ ٱلسَّيِّيِٕۚ وَلَا يَحِيقُ ٱلۡمَكۡرُ ٱلسَّيِّئُ إِلَّا بِأَهۡلِهِۦۚ فَهَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ ٱلۡأَوَّلِينَۚ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَبۡدِيلٗاۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَحۡوِيلًا

ইছতিকবা-রন ফিল আরদিওয়ামাকরছ ছাইয়িয়ি ওয়ালা-ইয়াহীকুল মাকরুছ ছাইয়িইউ ইল্লা-বিআহলিহী ফাহাল ইয়ানজু রূনা ইল্লা-ছুন্নাতাল আওওয়ালীনা ফালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলাওঁ ওয়ালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাহবীলা-।উচ্চারণ

তারা পৃথিবীতে আরো বেশী অহংকার করতে থাকে এবং দুষ্ট চাল চালতে থাকে, অথচ দুষ্ট চাল তার উদ্যোক্তাদেরকেই ঘিরে ফেলে। এখন তারা কি পূর্বের জাতিদের সাথে আল্লাহ‌ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন তাদের সাথে অনুরূপ পদ্ধতিরই অপেক্ষা করছে? ৭২ যদি একথাই হয়ে থাকে তাহলে তুমি আল্লাহর পদ্ধতিতে কখখনো কোন পরিবর্তন পাবে না এবং কখখনো আল্লাহর বিধানকে তার নির্ধারিত পথ থেকে হটে যেতেও তুমি দেখবে না। তাফহীমুল কুরআন

পৃথিবীতে তাদের আত্মগর্ব এবং (সত্যের বিরোধিতায় তাদের) কূট চক্রান্তের কারণে, অথচ কূট-চক্রান্ত খোদ তার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে নেয়। #%১৩%# তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যা কার্যকর হয়েছিল সেই নিয়মেরই অপেক্ষা করছে? #%১৪%# কিন্তু তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মকে কখনও টলতেও দেখবে না। #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে। কূট ষড়যন্ত্র ওর উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে। তাহলে কি তারা প্রতীক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবেনা এবং আল্লাহর বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবেনা।মুজিবুর রহমান

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং ক‚ট ষড়যন্ত্রের কারণে। ক‚ট ষড়যন্ত্র এর উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে। তবে কি এরা প্রতীক্ষা করতেছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের ? কিন্তু তুমি আল্লাহ্ র বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহ্ র বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যমীনে উদ্ধত আচরণ ও কূটচক্রান্তের কারণে। কিন্তু কূটচক্রান্ত কেবল তার ধারককেই পরিবেষ্টন করবে। তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের (উপর আল্লাহর) বিধানের অপেক্ষা করছে? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনই কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তুমি আল্লাহর বিধানের কখনই কোন ব্যতিক্রমও দেখতে পাবে না।আল-বায়ান

যমীনে উদ্ধত আচরণ আর কু-চক্রান্ত। কু-চক্রান্ত তাকেই ঘিরে ধরবে যে তা করবে। তাহলে তারা কি তাদের পূর্ববর্তীদের উপর (আল্লাহর পক্ষ হতে) যে বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে তারই অপেক্ষা করছে? তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো কোন পরিবর্তন পাবে না। তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো কোন ব্যতিক্রম পাবে না।তাইসিরুল

উদ্ধত ব্যবহারে এই পৃথিবীতে ও কুটিল ষড়যন্ত্রে। আর কুটিল ষড়যন্ত্র অন্য কাউকে ঘেরাও করে না তার কর্তাদের ব্যতীত। কাজেই তারা কি পূর্ববর্তীদের নজির ছাড়া আর কিছুর প্রতীক্ষা করে? কিন্তু তুমি তো আল্লাহ্‌র বিধানের কোনো পরিবর্তন কখনও পাবে না, আর তুমি কখনো আল্লাহ্‌র বিধানের কোনো ব্যতিক্রম পাবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭২

অর্থাৎ আল্লাহর এ আইন এদের ওপরও জারি হয়ে যাবে। যে জাতি নিজের নবীর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে তাকে ধ্বংস ও বরবাদ করে দেয়া হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

দূরভিসন্ধিমূলকভাবে কারও বিরুদ্ধে অন্যায় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুনিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বুমেরাং হয়ে থাকে। পরের জন্য কুয়া খুদলে সাধারণত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়। সুতরাং কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র করেছিল শেষ পর্যন্ত তার কুফল তাদের নিজেদেরকেই ভোগ করতে হয়েছে আর দুনিয়ায় কদাপি তার ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলেও আখেরাতের শাস্তি তো অবধারিত আর সে শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৩. যমীনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে।(১) আর কূট ষড়যন্ত্র তার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করবে তবে কি এরা প্ৰতীক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত পদ্ধতির?(২) কিন্তু আপনি আল্লাহর পদ্ধতিতে কখনো কোন পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর পদ্ধতির কোন ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করবেন না।

(১) কাতাদাহ বলেন, এখানে কূট ষড়যন্ত্র বলে শির্ক বোঝানো হয়েছে। (তাবারী)

(২) কাতাদাহ বলেন, অর্থাৎ পূর্ববর্তীদের শাস্তি। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৩) কারণ, এরা পৃথিবীতে উদ্ধত ছিল(1) এবং কূট ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। (2) আর কূট ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্রকারীদেরই পরিবেষ্টন করে।(3) তবে কি এরা এদের পূর্ববর্তীদের বিধানের প্রতীক্ষা করছে?(4) বস্তুতঃ তুমি আল্লাহর বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না(5) এবং আল্লাহর বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।(6)

(1) অর্থাৎ, তাঁর প্রতি ঈমান না এনে অস্বীকার ও বিরোধিতার পথ অবলম্বন করল, কারণ তারা ছিল অহংকারী।

(2) এবং কূট ষড়যন্ত্র অর্থাৎ ছল-চাতুরি, ধোকাবাজি ও কুকর্মে লিপ্ত ছিল।

(3) অর্থাৎ, মানুষ কূট ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে; কিন্তু এরা জানে না যে, মন্দ কর্মের ফল মন্দই হয় এবং তার শাস্তি শেষ পর্যন্ত কূট ষড়যন্ত্রকারীর উপরই বর্তায়।

(4) অর্থাৎ, এরা কি নিজেদের কুফর, শিরক, রসূলের বিরোধিতা এবং মু’মিনদেরকে কষ্ট দিতে অব্যাহত থেকে তারই অপেক্ষা করছে যে, তাদেরকেও ঐভাবে ধ্বংস করা হোক, যেভাবে পূর্ব জাতিসমূহ ধ্বংসের শিকার হয়েছে?

(5) বরং তা ঐ রূপেই চালু আছে এবং সকল মিথ্যায়নকারীদের ভাগ্যে আছে ধ্বংস। অথবা ‘পরিবর্তন পাবে না’-এর অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহর আযাবকে রহমতে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।

(6) অর্থাৎ, আল্লাহর আযাব দূরকারী অথবা তার গতিমুখ পরিবর্তনকারী কেউ নেই। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে জাতিকে শাস্তি দিতে চান, তার গতিমুখ অন্য জাতির দিকে কেউ ফিরিয়ে দেবে, এমন শক্তি কারোর নেই। আল্লাহর এই রীতি ও বিধান বর্ণনার উদ্দেশ্য হল, আরবের মুশরিকদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা যে, এখনো সময় আছে, তারা কুফরী ও শিরক ছেড়ে দিয়ে ঈমান নিয়ে আসুক। নচেৎ আল্লাহর সেই রীতি থেকে তারা নিষ্কৃতি পাবে না। অবিলম্বে বা বিলম্বে তার শাস্তি ভোগ করতেই হবে। আল্লাহর সেই রীতিকে কেউ না পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে, আর না কেউ আল্লাহর শাস্তিকে প্রতিহত করতে পারবে।