۞قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ قُلِ ٱللَّهُۖ وَإِنَّآ أَوۡ إِيَّاكُمۡ لَعَلَىٰ هُدًى أَوۡ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ

কুল মাইঁ ইয়ার ঝুকুকুম মিনাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লিলা-হু ওয়া ইন্নাআও ইয়্যা-কুম লা‘আলা-হুদান আও ফী দালা-লিম মুবীন।উচ্চারণ

(হে নবী!) তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, “কে তোমাদের আকাশসমূহ ও পৃথিবী থেকে জীবিকা দান করে?” বলো, “আল্লাহ, ৪২ এখন অবশ্যই আমরা অথবা তোমরা সঠিক পথে অথবা সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে নিপতিত।” ৪৩ তাফহীমুল কুরআন

বল, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? বল, তিনি আল্লাহ! এবং আমরা অথবা তোমরা হয়ত হেদায়াতের উপর আছি অথবা স্পষ্ট গোমরাহীতে। #%১৮%#মুফতী তাকী উসমানী

বলঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী হতে কে তোমাকে রিয্ক প্রদান করে? বলঃ আল্লাহ! এবং নিশ্চয়ই আমরা অথবা তোমরা সৎ পথে স্থিত অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত।মুজিবুর রহমান

বলুন, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল থেকে কে তোমাদের কে রিযিক দেয়। বলুন, আল্লাহ। আমরা অথবা তোমরা সৎপথে অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি ও আছ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী হতে কে তোমাদেরকে রিযিক প্রদান করেন?’ বল, ‘আল্লাহ্। হয় আমরা না হয় তোমরা সৎপথে স্থিত বা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীন থেকে কে তোমাদেরকে রিয্ক দেন? বল, ‘আল্লাহ’, আর নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা সৎপথে প্রতিষ্ঠিত অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত’।আল-বায়ান

বল- আসমান ও যমীন হতে কে তোমাদেরকে রিযক দান করেন? বল- আল্লাহ। হয় আমরা, না হয় তোমরা অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত অথবা স্পষ্ট গুমরাহিতে পতিত।তাইসিরুল

বলো -- "কে তোমাদের রিষেক দান করেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী থেকে?" তুমি বলে দাও -- "আল্লাহ্‌। আর নিঃসন্দেহ আমরা অথবা তোমরা নিশ্চয়ই সঠিক পথে রয়েছি, নয়তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪২

প্রশ্ন ও জবাবের মাঝখানে একটি সূক্ষ্মতর শুন্যতা রয়েছে। সম্বোধন করা হয়েছিল মুশরিকদেরকে যারা আল্লাহ‌র অস্তিত্ব তো স্বীকার করতোই অধিকন্তু তাঁর হাতেই যে রিযিকের চাবিকাঠি রয়েছে একথাও জানতো এবং মানতো। কিন্তু এ সত্ত্বেও তারা আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বে অন্যদেরকেও শরীক করতো। এখন যখন তাদের সামনে প্রশ্ন রাখা হয়, বলো কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দিচ্ছেন তখন তারা সমস্যায় পড়ে যায়। জবাবে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো নাম নিলে তা নিজেদের ও নিজেদের জাতির আকিদা-বিশ্বাসের বিরোধী হয়ে যায় আবার হঠকারী হয়ে এমন কথা বলে দিলেও তাদের নিজেদের জাতির লোকেরাই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে বলে আশঙ্কা করে। আর যদি আল্লাহকেই রিযিকদাতা বলে মেনেই নেয় তাহলে তো সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় প্রশ্নটি সামনে এসে যায় যে, তাহলে অন্য সব উপাস্যরা কোন্ কাজের? এদেরকে তোমরা উপাস্য বানিয়ে রেখেছ কেন? রিযিক দেবেন আল্লাহ‌ আর পূজা করা হবে এদেরকে, এটা কেমন কথা? তোমরা কি একেবারে বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে গেছো, এতটুকু কথাও বুঝো না? এই দ্বিবিধ সংকটে পড়ে তারা হতবুদ্ধি হয়ে যায়। তারা ‘আল্লাহ‌ রিযিক দেন’, একথাও বলে না, আবার একথাও বলে না যে, অন্য কোন মাবুদ রিযিক দেয়। প্রশ্নকারী যখন দেখছেন কোন জবাব আসছে না তখন তিনি নিজেই নিজের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আল্লাহ।”

৪৩

এ বাক্যাংশে প্রচার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রচ্ছন্ন রয়েছে। ওপরের প্রশ্ন ও জবাবের অনিবার্য ফলশ্রুতি এই ছিল যে, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর বন্দেগী ও উপাসনা করবে সে সঠিক পথে থাকবে এবং যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের বন্দেগী করবে সে ভ্রষ্টতায় লিপ্ত হবে। এ কারণে বাহ্যত এরপর একথাই বলা উচিত ছিল যে, আমরা সঠিক পথে আছি এবং তোমরা পথভ্রষ্ট। কিন্তু এ ধরনের স্পষ্টোক্তি সত্য কথনের দিক থেকে যতই সঠিক হোক না কেন প্রচার কৌশলের দিক থেকে মোটেই সঠিক হতো না। কারণ যখনই কোন ব্যক্তিকে সম্বোধন করে আপনি সরাসরি তাকে পথভ্রষ্ট বলে দেবেন এবং নিজেকে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে দাবী করবেন তখনই সে জিদ ও হঠকারিতায় লিপ্ত হয়ে যাবে এবং সত্যের জন্য তার হৃদয় দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহর নবীকে যেহেতু শুধুমাত্র সত্য কথনের জন্য পাঠানো হয় না বরং তাঁর প্রতি এ দায়িত্বও আরোপিত থাকে যে, সর্বাধিক কৌশল অবলম্বন করে তিনি বিভ্রান্ত লোকদের সংশোধন করবেন, তাই আল্লাহ‌ একথা বলেননি, হে নবী! এ প্রশ্ন ও জবাবের পরে এবার তুমি লোকদেরকে পরিষ্কার বলে দাও যে, তোমরা পথভ্রষ্ট এবং একমাত্র আমিই সঠিক পথে আছি। এর পরিবর্তে বরং এ নিদের্শ দেয়া হয়েছে যে, তাদেরকে এখন এভাবে বুঝাও। তাদেরকে বলো, আমাদের ও তোমাদের মধ্যকার এ পার্থক্য তো সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আমরা এমন মাবুদকে মানি যিনি রিযিক দেন এবং তোমরা এমন সব সত্তাকে মাবুদে পরিণত করছো যারা রিযিক দেয় না। এখন আমাদের ও তোমাদের একই সাথে সঠিক পথাবলম্বী হওয়া কোনক্রমেই সম্ভবপর নয়। এ সুস্পষ্ট পার্থক্য সহকারে তো আমাদের মধ্য থেকে এক পক্ষই সঠিক পথাবলম্বী হতে পারে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হবে পথভ্রষ্ট। এরপর তোমরা নিজেরাই চিন্তা করবে, যুক্তি ও প্রমাণ কার সঠিক পথাবলম্বী হবার পক্ষে রায় দিচ্ছে এবং সে দৃষ্টিতে কেইবা পথভ্রষ্ট।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা তো জানা কথা যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করে তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত আর যারা কোন মাখলুকের পূজা করে তারা বিপথগামী। তা সত্ত্বেও আয়াতে বিষয়টিকে অমীমাংসিতরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে ন্যায়নিষ্ঠতার পরাকাষ্ঠাস্বরূপ। এর দ্বারা সূক্ষ্মভাবে তাদেরকে সত্যগ্রহণের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং প্রচ্ছন্নভাবে জানানো হয়েছে যে, তারাই গোমরাহীতে লিপ্ত। সরাসরি বলা অপেক্ষা এরূপ ইঙ্গিতে বলার ধার অনেক বেশি হয়ে থাকে। যেমন প্রতিপক্ষের মিথ্যুক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও বলা হয়ে থাকে, ‘তোমার ও আমার মধ্যে যে মিথ্যুক তার প্রতি আল্লাহর লানত’। এটা সরাসরি মিথ্যুক বলা অপেক্ষা ঢের তীক্ষ্ণ। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪. বলুন, আসমানসমূহ ও যমীন থেকে কে তোমাদেরকে রিযিক প্রদান করেন? বলুন, আল্লাহ। আর নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা সৎপথে স্থিত অথবা স্পষ্ট বিভ্ৰান্তিতে পতিত।(১)

(১) অর্থাৎ দু'দলের মধ্যে কেউ হক পথে থাকবে, আর কেউ থাকবে ভ্ৰান্ত পথে। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪) বল, ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী হতে কে তোমাদের জীবিকা সরবরাহ করে?’ বল, ‘আল্লাহ। নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা সৎপথে অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি।’ (1)

(1) পরিষ্কার কথা যে, বিভ্রান্তিতে সেই আছে, যে সেই সকল সৃষ্টিকে উপাস্য মনে করে, যাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে আহার দানের ব্যাপারে কোন অংশই নেই; না তারা বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে, আর না তারা কিছু উৎপন্ন করতে সক্ষম। অতএব নিঃসন্দেহে কেবল তাওহীদবাদীরাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, দুই দলই নয়।