هَـٰٓأَنتُمۡ هَـٰٓؤُلَآءِ حَٰجَجۡتُمۡ فِيمَا لَكُم بِهِۦ عِلۡمٞ فَلِمَ تُحَآجُّونَ فِيمَا لَيۡسَ لَكُم بِهِۦ عِلۡمٞۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

হা আনতুম হাউলাই হা-জাজতুম ফীমা-লাকুম বিহী ‘ইলমুন ফালিমা তুহাজ্জূনা ফীমা লাইছা লাকুম বিহী ‘ইলমুন ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লা-তা‘লামূন।উচ্চারণ

-তোমরা যেসব বিষয়ের জ্ঞান রাখো সেগুলোর ব্যাপারে বেশ বিতর্ক করলে, এখন আবার সেগুলোর ব্যাপারে বিতর্ক করতে চললে কেন যেগুলোর কোন জ্ঞান তোমাদের নেই?-আল্লাহ্‌ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না। তাফহীমুল কুরআন

দেখ, তোমরাই তো তারা, যারা এমন বিষয়ে বিতর্ক করেছ, যে বিষয়ে কিছু না কিছু জ্ঞান তোমাদের ছিল। #%৩৫%# এবার এমন সব বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ, যে সম্পর্কে তোমাদের মোটেই জ্ঞান নেই। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।মুফতী তাকী উসমানী

হ্যাঁ, তোমরা এমন যে, যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল তা নিয়েও তোমরা কলহ করেছিলে, কিন্তু যদ্বিষয়ে তোমাদের কোনই জ্ঞান নেই তা নিয়ে তোমরা কেন কলহ করছ এবং আল্লাহ জ্ঞাত আছেন ও তোমরা অবগত নও।মুজিবুর রহমান

শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হাঁ, তোমরা তো সেইসব লোক, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরাই তো তর্ক করেছ, তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কেন তর্ক করছো ? আল্লাহ্ জ্ঞাত আছেন আর তোমরা জ্ঞাত নও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাবধান! তোমরা তো সেসব লোক, বিতর্ক করলে এমন বিষয়ে, যার জ্ঞান তোমাদের রয়েছে। তবে কেন তোমরা বিতর্ক করছ সে বিষয়ে যার জ্ঞান তোমাদের নেই? আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।আল-বায়ান

বস্তুতঃ তোমরাই এমন লোক যে, যে সম্পর্কে তোমাদের কিছু জ্ঞান আছে, সে বিষয়ে তো বিতর্ক করেছ, তোমরা এমন বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ যে বিষয়ে তোমাদের কোনই জ্ঞান নেই? বস্তুতঃ আল্লাহ্ই জ্ঞাত আছেন, তোমরা জ্ঞাত নও।তাইসিরুল

দেখো! তোমরাই তারা যারা তর্ক করেছ যে-বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল, তবে কেন তোমরা হুজ্জত করছো যে বিষয়ে তোমাদের সম্যক জ্ঞান নেই? আর আল্লাহ্ জানেন, অথচ তোমরা জানো না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ইয়াহুদীরা বলত, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইয়াহুদী ছিলেন এবং খ্রিস্টানগণ বলত, তিনি ছিলেন খ্রিস্টান। কুরআন মাজীদ প্রথমত বলছে, এ সম্প্রদায় দু’টোর অস্তিত্বই হয়েছে তাওরাত ও ইনজীল নাযিল হওয়ার পর, যার বহু আগেই ইবরাহীম আলাইহিস সালাম গত হয়েছিলেন। কাজেই তাঁকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বলাটা চরম নির্বুদ্ধিতা। অতঃপর কুরআন মাজীদ বলছে, তোমাদের যেসব দলীলের ভেতর কিছু না কিছু সত্যতা নিহিত ছিল তাই যখন তোমাদের দাবীসমূহ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে এসব ভিত্তিহীন ও মূর্খতাসুলভ কথা কিভাবে তোমাদের দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? উদাহরণত তোমরা জানতে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বিনা বাপে জন্ম নিয়েছেন, আর এর ভিত্তিতে তোমরা তাঁর ঈশ্বর হওয়ার পক্ষে দলীল পেশ করেছ ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছ, কিন্তু তোমরা তাতে সফল হওনি। কেননা বিনা পিতায় জন্ম নেওয়াটা কারও ঈশ্বর হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তো পিতা ও মাতা নউভয় ছাড়াই পয়দা হয়েছিলেন। অথচ তোমরাও তাকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র মনে কর না। এ অবস্থায় কেবল পিতা ছাড়া জন্ম নেওয়াটা কিভাবে ঈশ্বর হওয়ার প্রমাণ হতে পারে? তো তোমাদের যে প্রমাণের ভিত্তি সত্য ঘটনার উপর তাই যখন কোন কাজে আসেনি, তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম খ্রিস্টান বা ইয়াহুদী ছিলেন এই নিরেট মূর্খতাসুলভ কথা তোমাদের জন্য কী সুফল বয়ে আনতে পারে?

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৬. সাবধান, তোমরা তো সে সব লোক, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরা তর্ক করেছ, তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কেন তর্ক করছ? আর আল্লাহ্ জানেন এবং তোমরা জান না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৬) তোমরা তো এমন যে, যে বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান ছিল, সে বিষয়ে তর্ক করেছ। তাহলে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন তর্ক করছ? (1) বস্তুতঃ আল্লাহ জ্ঞাত আছেন এবং তোমরা জ্ঞাত নও।

(1) এই তো তোমাদের জ্ঞান ও দ্বীনদারীর অবস্থা যে, যে সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞান আছে অর্থাৎ, নিজেদের দ্বীন ও কিতাবের ব্যাপারে, (যে কথা পূর্বোক্ত আয়াতে উল্লেখ হয়েছে) সে ব্যাপারে তোমাদের ঝগড়া করা ভিত্তিহীনও বটে এবং এতে অজ্ঞানতার পরিচয়ও রয়েছে। তাহলে যে ব্যাপারে তোমাদের মোটেই কোন জ্ঞান নেই, সে ব্যাপারে তোমরা কেন ঝগড়া কর? অর্থাৎ, ইবরাহীম (আঃ)-এর মান-মর্যাদা এবং তাঁর একনিষ্ঠ দ্বীনের ব্যাপারে; যার ভিত্তিই ছিল তাওহীদ ও ইখলাস।