لَّا جُنَاحَ عَلَيۡهِنَّ فِيٓ ءَابَآئِهِنَّ وَلَآ أَبۡنَآئِهِنَّ وَلَآ إِخۡوَٰنِهِنَّ وَلَآ أَبۡنَآءِ إِخۡوَٰنِهِنَّ وَلَآ أَبۡنَآءِ أَخَوَٰتِهِنَّ وَلَا نِسَآئِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُنَّۗ وَٱتَّقِينَ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدًا

লা-জুনা-হা‘আলাইহিন্না ফীআ-বাইহিন্না ওয়ালাআবনাইহিন্না ওয়ালা ইখওয়ানিহিন্না ওয়ালাআবনাই ইখওয়া-নিহিন্না ওয়ালাআবনাই আখাওয়া-তিহিন্না ওয়ালানিছাইহিন্না ওয়ালা-মা-মালাকাত আইমা-নুহুন্না, ওয়াত্তাকীনাল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা ক-না ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদা-।উচ্চারণ

নবীর স্ত্রীদের গৃহে তাদের বাপ, ছেলে ভাই-ভাতিজা, ভাগনা ১০২ সাধারণ মেলামেশার মহিলারা ১০৩ এবং তাদের মালিকাধীন দাসদাসীরা ১০৪ এলে কোন ক্ষতি নেই। (হে নারীগণ!) তোমাদের আল্লাহর নাফরমানি থেকে দূরে থাকা উচিত। আল্লাহ‌ প্রত্যেকটি জিনিসের প্রতি দৃষ্টি রাখেন। ১০৫ তাফহীমুল কুরআন

নবীর স্ত্রীগণের জন্য তাদের পিতাগণ, তাদের পুত্রগণ, তাদের ভাইগণ, তাদের ভাতিজাগণ, তাদের ভাগিনাগণ, তাদের আপন নারীগণ #%৪৮%# ও তাদের দাসীগণের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ তাদের সামনে পর্দাহীনভাবে আসাতে) কোন গুনাহ নেই এবং (হে নারীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর প্রত্যক্ষকারী।মুফতী তাকী উসমানী

নাবী-পত্নীদের জন্য তাদের পিতৃগণ, পুত্রগণ, ভ্রাতৃগণ, ভ্রাতুস্পুত্রগণ, ভগ্নীপুত্রগণ, সেবিকাগণ এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ায় কোন অপরাধ নেই। হে নাবীর পত্নিগণ! আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সবকিছু অবলোকন করেন।মুজিবুর রহমান

নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী-পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নবী-পত্নীদের জন্যে তাদের পিতৃগণ, পুত্রগণ, ভ্রাতৃগণ, ভ্রাতষ্পুত্রগণ, ভগ্নীপুত্রগণ, সেবিকাগণ এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীগণের ব্যাপারে তা পালন না করা অপরাধ নয়। হে নবী-পত্নীগণ! আল্লাহ্কে ভয় কর, আল্লাহ্ সমস্ত কিছু প্রত্যক্ষ করেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নবীর স্ত্রীদের জন্য তাদের পিতাদের, তাদের পুত্রদের, তাদের ভাইদের, তাদের ভাইয়ের ছেলেদের, তাদের বোনের ছেলেদের, তাদের নারীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের বেলায় (হিজাব না করায়) কোন অপরাধ নেই। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সকল কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।আল-বায়ান

কোন অপরাধ নেই (যদি নবীর স্ত্রীগণ সামনে যায়) তাদের পিতৃদের, তাদের পুত্রদের, তাদের ভ্রাতৃদের, তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদের, তাদের ভগ্নীপুত্রদের, তাদের নারীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের। আর (হে নবীর স্ত্রীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সকল জিনিসেরই প্রত্যক্ষদর্শী।তাইসিরুল

তাদের জন্য কোনো অপরাধ নেই তাদের পিতাদের ক্ষেত্রে, আর তাদের পুত্রদের বেলায়ও নয়, আর তাদের ভাইদের ক্ষেত্রেও নয়, আর ভাইদের পুত্রদেরও নয়, আর তাদের বোনদের পুত্রদের সঙ্গেও নয়, আর তাদের মেয়েলোকদের ক্ষেত্রেও নয়, আর তাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছ তাদেরও নয়, আর আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো। নিশ্চয় আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরেই প্রত্যক্ষদর্শী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০২

ব্যাখ্যার জন্য সূরা নূরের তাফসীরের ৩৮ থেকে ৪২ পর্যন্ত টীকা দেখুন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা আলূসীর এ ব্যাখ্যাও উল্লেখযোগ্য যে, ভাই, ভাতিজা ও ভাগনাদের বিধানের মধ্যে এমন সব আত্মীয়রাও এসে যায় যারা একজন মহিলার জন্য হারাম-তারা রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয় বা দুধ সম্পর্কিত যাই হোক না কেন। এ তালিকায় চাচা ও মামার উল্লেখ করা হয়নি। কারণ তারা নারীর জন্য পিতার সমান। অথবা তাদের উল্লেখ না করার কারণ হচ্ছে এই যে, ভাতিজা ও ভাগনার কথা এসে যাবার পর তাদের কথা বলার প্রয়োজন নেই। কেননা ভাতিজা ও ভাগনাকে পর্দা না করার পেছনে যে কারণ রয়েছে চাচা ও মামাকে পর্দা না করার কারণও তাই। (রুহুল মা’আনী)

১০৩

ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা নূরের তাফসীর ৪৩ টীকা।

১০৪

ব্যাখ্যার জন্য সূরা নূরের তাফসীরের ৪৪ টীকা।

১০৫

একথার অর্থ হচ্ছে, এ চূড়ান্ত হুকুম এসে যাবার পর ভবিষ্যতে এমন কোন ব্যক্তিকে বেপর্দা অবস্থায় গৃহে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না যে ঐ ব্যতিক্রমী আত্মীয়দের গণ্ডীর বাইরে অবস্থান করে। দ্বিতীয় অর্থ এও হয় যে, স্ত্রীদের কখনো এমন নীতি অবলম্বন করা উচিত নয় যার ফলে স্বামীর উপস্থিতিতে তারা পর্দার নিয়ন্ত্রণ মেনে চলবে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে গায়ের মাহরাম পুরুষদের সামনে পর্দা উঠিয়ে দেবে। তাদের এ কর্ম স্বামীর দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘তাদের আপন নারীগণ’ সূরা নূরেও (২৪ : ৩১) এরূপ গত হয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা মুসলিম নারীগণকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং অমুসলিম নারীদের থেকেও পর্দা করা জরুরী। কিন্তু যেহেতু বিভিন্ন হাদীস দ্বারা জানা যায়, অমুসলিম নারীগণ উম্মুল মুমিনীনদের কাছে যাতায়াত করত, তাই ইমাম রাযী (রহ.) ও আল্লামা আলুসী (রহ.) বলেন, ‘আপন নারী’ হল সেই সকল নারী, যাদের সাথে মেলামেশা করা হয়, তারা মুসলিম হোক বা অমুসলিম। এরূপ নারীদের সাথে নারীদের পর্দা করা ওয়াজিব নয়। এছাড়া আরও যাদের সঙ্গে পর্দা ওয়াজিব নয়, তার বিস্তারিত বিবরণ সূরা নুরের ২৪ : ৩১ নং আয়াতের টীকায় গত হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৫. নবী-স্ত্রীদের জন্য তাদের পিতাগণ, পুত্ৰগণ, ভাইগণ, ভাইয়ের ছেলেরা, বোনের ছেলেরা, আপন নারীগণ এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীগণের ব্যাপারে তা(১) পালন না করা অপরাধ নয়। আর হে নবী-স্ত্রীগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সবকিছুর সম্যক প্ৰত্যক্ষদর্শী।

(১) অর্থাৎ তাদের সাথে পর্দা করা বাধ্যতামূলক নয়। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৫) নবী-পত্নীদের জন্য তাদের পিতৃগণ, পুত্রগণ, ভ্রাতৃগণ, ভ্রাতুষ্পুত্রগণ, ভগিনীপুত্রগণ, (বিশ্বাসী) নারীগণ এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসিগণের ব্যাপারে এ (পর্দা) পালন না করা অপরাধ নয়।(1) (হে নবীপত্নীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছু প্রত্যক্ষ করেন।(2)

(1) যখন নারীদের পর্দার আয়াত নাযিল হল, তখন গৃহে থাকা আত্মীয় বা যে সকল আত্মীয়রা সর্বদা গৃহে আসা-যাওয়া করে, তাদের বিষয়ে প্রশ্ন হল যে, তাদের থেকে পর্দা করতে হবে কি না? সুতরাং এই আয়াতে সেই সকল আত্মীয়ের কথা উল্লেখ করে দেওয়া হল, যাদের থেকে পর্দা করা জরুরী নয়। এ মাসআলার বিস্তারিত আলোচনা সূরা নূরের ৩১ নং (وَلاَ يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ) আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, সেখানে তা দ্রষ্টব্য।

(2) এই স্থানে নারীদেরকে আল্লাহভীতির আদেশ দিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি তোমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি থাকে, তবে পর্দার যে আসল উদ্দেশ্য, (অন্তর ও চক্ষুর পবিত্রতা এবং ইজ্জতের হিফাযত) তা অবশ্যই সাধন হবে। এ ছাড়া শুধু বাহ্যিক পর্দা (যেমন লোক প্রদর্শনী পর্দা, সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে, কাউকে ভয় বা লজ্জা করে, ফ্যাশন মনে করে, পরিবেশ ও পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে পর্দা) তোমাদেরকে পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবে না। (যেহেতুঃ সংযমশীলতার লেবাসই সর্বোৎকৃষ্ট। -আ’রাফ ২৬ আয়াত)