ওয়া মা-ক-না লিমু’মিনিওঁ ওয়ালা-মু’মিনাতিন ইযা-কাদাল্লা-হু ওয়া রছূলুহূআমরন আইঁ ইয়াকূনা লাহুমুল খিয়ারতুমিন আমরিহিম ওয়া মাইঁ ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়া রছূলাহূফাকাদ দাল্লা দালা-লাম মুবীনা-।উচ্চারণ
যখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ের ফায়সালা দিয়ে দেন তখন কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীর ৬৫ সেই ব্যাপারে নিজে ফায়সালা করার কোন অধিকার নেই। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়। ৬৬ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোন বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা দান করেন, তখন কোন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর নিজেদের বিষয়ে কোন এখতিয়ার বাকি থাকে না। #%৩২%# কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করলে সে তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত হল।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিনা নারীর সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবেনা। কেহ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সেতো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট।মুজিবুর রহমান
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্ট হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।আল-বায়ান
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দুরে সরে পড়ল।তাইসিরুল
আর একজন মুমিনের পক্ষে উচিত নয় বা একজন মুমিন নারীরও নয় যে যখন আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন তাদের সে ব্যাপারে তাদের জন্য কোনো মতামত থাকে। আর যে কেউ আল্লাহ্কে ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে তাহলে নিশ্চয়ই বিপথে গেছে স্পষ্ট বিপথ গমনে।মাওলানা জহুরুল হক
৬৫
হযরত যয়নবের (রা.) সাথে নবী ﷺ এর বিবাহ প্রসঙ্গে যে আয়াত নাযিল হয়েছিল এখান থেকেই তা শুরু হচ্ছে।
৬৬
ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ, কাতাদাহ, ইকরামাহ ও মুকাতিল ইবনে হাইয়ান বলেন, এ আয়াত তখন নাযিল হয়েছিল যখন নবী ﷺ হযরত যায়েদের (রা.) জন্য হযরত যয়নবের (রা.) সাথে বিয়ের পয়গাম দিয়েছিলেন এবং হযরত যয়নব ও তাঁর আত্মীয়রা তা নামঞ্জুর করেছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ যখন এ পয়গাম দেন তখন হযরত যয়নব (রা.) বলেনঃ انا خير منه نسبا "আমি তার চেয়ে উচ্চ বংশীয়া" ইবনে সা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি জবাবে একথাও বলেছিলেনঃ لارضاه لنفسى وانا ايم قريش “আমি অভিজাত কুরাইশ পরিবারের মেয়ে, তাই আমি তাকে নিজের জন্য পছন্দ করি না।” তাঁর ভাই আবদুল্লাহ ইবনে জাহশও (রা.) এ ধরনের অসম্মতি প্রকাশ করেছিলেন। এর কারণ ছিল এই যে, হযরত যায়েদ নবী ﷺ এর আযাদ করা গোলাম ছিলেন এবং হযরত যয়নব ছিলেন তাঁর ফুফু (উমাইমাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিব)-এর কন্যা। এত উঁচু ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে, তাও আবার যা তা পরিবার নয়, নবীর নিজের ফুফাত বোন এবং তার বিয়ের পয়গাম তিনি দিচ্ছিলেন নিজের আযাদ করা গোলামের সাথে একথা তাদের কাছে অত্যন্ত খারাপ লাগছিল। এজন্য এ আয়াত নাযিল হয়। এ আয়াত শুনতেই হযরত যয়নব ও তাঁর পরিবারের সবাই নির্দ্বিধায় আনুগত্যের শির নত করেন। এরপর নবী ﷺ তাদের বিয়ে পড়ান। তিনি নিজে হযরত যায়েদের (রা.) পক্ষ থেকে ১০ দ্বীনার ও ৬০ দিরহাম মোহরানা আদায় করেন, কনের কাপড় চোপড় দেন এবং কিছু খাবার দাবারের জিনিসপত্র পাঠান।
এ আয়াত যদিও একটি বিশেষ সময়ে নাযিল হয় কিন্তু এর মধ্যে যে হুকুম বর্ণনা করা হয় তা ইসলামী আইনের একটি বড় মূলনীতি এবং সমগ্র ইসলামী জীবন ব্যবস্থার ওপর এটি প্রযুক্ত হয়। এর দৃষ্টিতে যে বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে কোন হুকুম প্রমাণিত হয় সে বিষয়ে কোন মুসলিম ব্যক্তি, জাতি, প্রতিষ্ঠান, আদালত, পার্লামেন্ট বা রাষ্ট্রের নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করার কোন অধিকার নেই। মুসলমান হবার অর্থই হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে নিজের স্বাধীন ইখতিয়ার বিসর্জন দেয়া। কোন ব্যক্তি বা জাতি মুসলমানও হবে আবার নিজের জন্য এ ইখতিয়ারটিও সংরক্ষিত রাখবে। এ দু’টি বিষয় পরস্পর বিরোধী-এ দু’টি কাজ এক সাথে হতে পারে না। কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ দু’টি দৃষ্টিভংগীকে একত্র করার ধারণা করতে পারে না। যে ব্যক্তি মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায় তাকে অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে আনুগত্যের শির নত করতে হবে। আর যে মুসলমান নয়। যদি সে না মানে তাহলে নিজেকে মুসলমান বলে যত জোরে গলা ফটিয়ে চিৎকার করুক না কেন আল্লাহ ও বান্দা উভয়ের দৃষ্টিতে সে মুনাফিকই গণ্য হবে।
এ আয়াত নাযিল হয়েছে এমন কয়েকটি ঘটনার পটভূমিতে, যাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে কয়েক নারীর বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু সে বিবাহে সেই নারী বা তার অভিভাবকগণ প্রথম দিকে সম্মত থাকেনি। হাফেজ ইবনে কাছীর (রহ.) সেসব ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। সবগুলো ঘটনারই সাধারণ অবস্থা ছিল এই যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই-যেই সাহাবীর সঙ্গে বিবাহের পয়গাম দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিশেষ কোন দোষ ছিল না, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নারী বা তার আত্মীয়গণ কেবল বংশীয় বা আর্থিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রথম দিকে প্রস্তাব গ্রহণে অসম্মতি জানিয়েছিল। অন্যদিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব সম্ভব বংশীয় ও বিত্তগত অহমিকা নির্মূল করতে চাচ্ছিলেন, যাতে মানুষ এ জাতীয় শ্রেষ্ঠত্বের কারণে বিবাহের ভালো-ভালো প্রস্তাব গ্রহণ থেকে পিছিয়ে না থাকে। শরীয়ত যদিও বর-কণের মধ্যকার সমতা ও কাফাআতের বিষয়টিকে মোটামুটিভাবে বিবেচনায় রেখেছে, কিন্তু আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠার আরও বড় কোন আকর্ষণ যদি বর্তমান থাকে, তবে কেবল এই বিবেচনায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা কিছুতেই সমীচীন নয় যে, খান্দানী শরাফাতের দিক থেকে বরপক্ষ কণে পক্ষের সমপাল্লার নয়। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর সবগুলো ঘটনায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রস্তাব গ্রহণ করে নেওয়া হয় এবং তাঁর ইচ্ছামতই বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়। এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হল হযরত যায়দ ইবনে হারিছা (রাযি.)-এর বিবাহের ঘটনা। পরবর্তী আয়াতসমূহ এরই সাথে সম্পৃক্ত। হযরত যায়দ (রাযি.) প্রথম দিকে হযরত খাদিজা (রাযি.)-এর গোলাম ছিলেন। তিনি তাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করে দেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোলামীর জীবনে বহাল রাখেননি; বরং আযাদ করে তাকে নিজের পোষ্যপুত্র বানিয়ে নেন। পরবর্তী আয়াতের টীকায় এটা বিস্তারিত আসছে। আরও পরে যখন তার বিবাহের সময় আসল তখন তিনি নিজ ফুফাত বোন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ (রাযি.)-এর সাথে তার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। হযরত যয়নব (রাযি.) ছিলেন উঁচু খান্দানের মেয়ে। সেকালে কোন মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের সাথে এরূপ উঁচু ঘরের মেয়ের বিবাহকে ভালো চোখে দেখা হত না। স্বাভাবিকভাবেই হযরত যয়নব এ প্রস্তাবে সম্মত হতে পারেননি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়। আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি পত্রপাঠ প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নেন এবং হযরত যায়দ ইবনে হারেছা (রাযি.)-এর সঙ্গে তার বিবাহ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এ বিবাহের মোহরানা আদায় করেন। আয়াতটি যদিও এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এর শব্দাবলী সাধারণ। এটা শরীয়তের এই বুনিয়াদী মূলনীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুমের পর কারও নিজের মতামত খাটানোর অধিকার থাকে না।
৩৬. আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোন (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্ৰষ্ট হলো।(১)
(১) আলোচ্য আয়াতে কয়েকটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে এক ঘটনা হচ্ছে, যায়েদ ইবন হারেসা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা। ঘটনার সংক্ষিপ্ত রূপ এই যে, যায়েদ ইবন হারেসা রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন স্বাধীন লোক ছিলেন। কিন্তু জাহেলী যুগে কিছু লোক তাকে অল্প বয়সে ধরে এনে ওকায বাজারে বিক্রি করে দেয়, খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সে লোক থেকে তাকে খরদ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দান করেন। আর আরব দেশের প্রথানুযায়ী তাকে পোষ্য-পুত্রের গৌরবে ভূষিত করে লালন-পালন করেন। মক্কাতে তাকে ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামপুত্র যায়েদ’ নামে সম্বোধন করা হত। কুরআনে কারীম এটাকে অজ্ঞতার যুগের ভ্রান্ত রীতি আখ্যায়িত করে তা নিষিদ্ধ করে দেয় এবং পোষ্যপুত্রকে তার প্রকৃত পিতার সাথে সম্পর্কযুক্ত করতে নির্দেশ দেয়। যায়েদ ইবন হারেসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যৌবনে পদার্পনের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ ফুফাত বোন যয়নব বিনতে জাহশকে তার নিকট বিয়ে দেয়ার প্রস্তাব পাঠান।
যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যেহেতু মুক্তিপ্রাপ্ত দাস ছিলেন সুতরাং যয়নব ও তাঁর ভ্রাতা আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ এ সম্বন্ধ স্থাপনে এই বলে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন যে, আমরা বংশ মর্যাদায় তার চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত। মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত নাযিল হয়। যাতে এ দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো প্রতি বাধ্যতামূলকভাবে কোন কাজের নির্দেশ দান করেন, তবে সে কাজ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। শরীয়তানুযায়ী তা না করার অধিকার থাকে না। শরীয়তে একাজ যে লোক পালন করবে না, আয়াতের শেষে একে স্পষ্ট গোমরাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যয়নব ও তার ভাই এ আয়াত শুনে তাদের অসম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়ে বিয়েতে রাযী হয়ে যায়। অত:পর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। (বাগাভী)
এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিতীয় যে ঘটনাটি বর্ণনা করা হয় তা হলো, জুলাইবীব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য কোন এক আনসার সাহাবীর মেয়ের সাথে বৈবাহিক সম্বদ্ধ স্থাপন করতে ইচ্ছক ছিলেন। এই আনসার ও তার পরিবার-পরিজন এ সম্বন্ধ স্থাপনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। কিন্তু এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর সবাই রাযী হয়ে যান এবং যথারীতি বিয়েও সম্পন্ন হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য পর্যাপ্ত জীবিকা কামনা করে দো'আ করলেন। সাহাবায়ে কেরাম বলেন যে, তার গৃহে এত বরকত ও ধন-সম্পদের এত আধিক্য ছিল যে, মদীনার গৃহসমূহের মধ্যে এ বাড়ীটিই ছিল সর্বাধিক উন্নত ও প্রাচুর্যের অধিকারী এবং এর খরচের অঙ্কই ছিল সবচাইতে বেশী। পরবর্তীকালে জুলাইবীব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক জিহাদে শাহাদত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাফনকাফন নিজ হাতে সম্পন্ন করেন। (দেখুন: ইবন কাসীর)
(৩৬) আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন বিশ্বাসী পুরুষ কিংবা বিশ্বাসী নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না।(1) কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের অবাধ্য হলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।
(1) এই আয়াতটি যয়নাব (রাঃ) -এর বিবাহের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। যায়েদ বিন হারেসা (রাঃ) যদিও তিনি প্রকৃত পক্ষে আরবী ছিলেন, কিন্তু কেউ তাঁকে শৈশবকালে জোর করে ধরে দাস হিসাবে বিক্রি করে দিয়েছিল। নবী (সাঃ)-এর সাথে খাদীজা (রাঃ) -র বিবাহের পর খাদীজা (রাঃ) তাঁকে রসূল (সাঃ)-কে দান করে দেন। তিনি তাঁকে মুক্ত করে আপন পোষ্যপুত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন। একদা নবী (সাঃ) তাঁর বিবাহের জন্য আপন ফুফাতো বোন যয়নাব (রাঃ) -কে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। যাতে তাঁর ও তাঁর ভায়ের বংশ-মর্যাদার ফলে মনে চিন্তা হল যে, যায়েদ (রাঃ) একজন মুক্ত দাস এবং আমাদের সম্পর্ক এক উচ্চ বংশের সাথে। (সুতরাং এ প্রস্তাব কিভাবে গ্রহণ করা যায়?) এই চিন্তা-ভাবনার ফলে উক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। যার উদ্দেশ্য হল যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ফায়সালার পর কোন মু’মিন পুরুষ ও নারীর এ এখতিয়ার ও অধিকার নেই যে, সে নিজের ইচ্ছামত চলবে। বরং তার জন্য অপরিহার্য যে, সে মাথা নত করে তা মেনে নেবে। সুতরাং এ আয়াত শ্রবণ করার পর যয়নাব ও অন্যান্যরা নিজেদের অসম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়ে সম্মত হয়ে যান। অতঃপর বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।