يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ جَآءَتۡكُمۡ جُنُودٞ فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِيحٗا وَجُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرًا

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুযকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইযজাআতকুম জুনূদুন ফাআরছালনা-‘আলাইহিম রীহাওঁ ওয়া জুনূদাল্লাম তারওহা- ওয়া ক-নাল্লা-হু বিমাতা‘মালূনা বাসীর-।উচ্চারণ

হে ঈমানদারগণ ১৮ স্মরণ করো আল্লাহর অনুগ্রহ, যা (এই মাত্র) তিনি করলেন তোমাদের প্রতি, যখন সেনাদল তোমাদের ওপর চড়াও হলো আমি পাঠালাম তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ধুলিঝড় এবং এমন সেনাবাহিনী রওয়ানা করলাম যা তোমরা দেখোনি। ১৯ তোমরা তখন যা কিছু করছিলে আল্লাহ‌ তা সব দেখছিলেন। তাফহীমুল কুরআন

হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের প্রতি সেই সময় কীরূপ অনুগ্রহ করেছিলেন তা স্মরণ কর, যখন বহু সৈন্য তোমাদের প্রতি চড়াও হয়েছিল, তারপর আমি তাদের বিরুদ্ধে এক ঝড়ো হাওয়া পাঠাই এবং এক বাহিনী যা তোমরা দেখতে পাওনি। #%১০%# আর তোমরা যা-কিছু করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।মুফতী তাকী উসমানী

হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এক বাহিনী যা তোমরা দেখনি। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান

হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্চাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মু’মিনগণ ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি এদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এক বাহিনী যা তোমরা দেখ নাই। তোমরা যা কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।আল-বায়ান

হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যখন সৈন্যবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম ঝড়ো হাওয়া এবং এক (ফেরেশতারূপী) সৈন্যবাহিনী যা তোমরা দেখনি। তোমরা যা কর আল্লাহ তা প্রত্যক্ষকারী।তাইসিরুল

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন তোমাদের উপরে সৈন্যদল এসে পড়েছিল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম এক ঝড়-ঝঞ্চা, আর এক বাহিনী যা তোমরা দেখতে পাও নি। আর তোমরা যা করছিলে সে-সন্বন্ধে আল্লাহ্ সর্বদ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

এখান থেকে ৩ রুকুর শেষ পর্যন্তকার আয়াতগুলো নাযিল হয় নবী ﷺ বনী কুরাইযার যুদ্ধ শেষ করার পর। এ দু’টি রুকুতে আহযাব ও বনী কুরাইযার ঘটনাবলী সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে। এগুলো পড়ার সময় আমি ভূমিকায় এ দু’টি যুদ্ধের যে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছি তা যেন দৃষ্টি সম্মুখে থাকে।

১৯

শত্রুসেনারা যখন মদীনার ওপর চড়াও হয়েছিল ঠিক তখনই এ ধূলিঝড় আসেনি। বরং অবরোধের এক মাস হয়ে যাওয়ার পর এ ধূলিঝড় আসে। অদৃশ্য ‌“সেনাবাহিনী” বলতে এমন সব গোপন শক্তিকে বুঝানো হয়েছে যা মানুষের বিভিন্ন বিষয়াবলীতে আল্লাহর ইশারায় কাজ করতে থাকে এবং মানুষ তার খবরই রাখে না। ঘটনাবলী ও কার্যকলাপকে মানুষ শুধুমাত্র তাদের বাহ্যিক কার্যকারণের দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে অননুভূত পদ্ধতিতে যেসব শক্তি কাজ করে যায় সেগুলো থাকে তার হিসেবের বাইরে। অথচ অধিকাংশ সময় এসব গোপন শক্তির কার্যকারিতা চূড়ান্ত প্রমাণিত হয়। এসব শক্তি যেহেতু আল্লাহর ফেরেশতাদের অধীনে কাজ করে তাই “সেনাবাহিনী” অর্থে ফেরেশতাও ধরা যেতে পারে, যদিও এখানে ফেরেশতাদের সৈন্য পাঠাবার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে আহযাবের যুদ্ধ বর্ণিত হচ্ছে। ২৭ নং আয়াত পর্যন্ত এ যুদ্ধের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। যুদ্ধের ঘটনাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপ- প্রসিদ্ধ ইয়াহুদী গোত্র বনু নাজীরের চক্রান্তে কুরাইশ পৌত্তলিকগণ সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল যে, তারা আরবের বিভিন্ন গোত্রকে একাট্টা করে সকলে যৌথভাবে মদীনা মুনাওয়ারায় হামলা চালাবে। সেমতে কুরাইশ গোত্র ছাড়াও বনু গাতফান, বনু আসলাম, বনু মুররা, বনু আশজা, বনু কিনানা ও বনু ফাযারা এ গোত্রসমূহ সম্মিলিতভাবে এক বিশাল বাহিনী তৈরি করে ফেলল। তাদের সংখ্যা বার হাজার থেকে পনের হাজার পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়ে থাকে। এই বিপুল সশস্ত্র সেনাদল পূর্ণ প্রস্তুতি সহকারে মদীনা মুনাওয়ারার উদ্দেশে যাত্রা করল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ পাওয়া মাত্র সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন। হযরত সালমান ফারসী (রাযি.) পরামর্শ দিলেন, মদীনা মুনাওয়ারার উত্তর দিকে, যে দিক থেকে হানাদার বাহিনী আসতে পারে, একটি গভীর পরিখা খনন করা হোক, যাতে তারা নগরে প্রবেশ করতে সক্ষম না হয়। সুতরাং সমস্ত সাহাবী কাজে লেগে গেলেন। মাত্র ছয় দিনে তারা সাড়ে তিন মাইল দীর্ঘ ও পাঁচ গজ গভীর একটি পরিখা খনন করে ফেললেন। মুসলিমদের পক্ষে এ যুদ্ধটি পূর্ববর্তী সকল যুদ্ধ অপেক্ষা বেশি কঠিন ছিল। শত্রু সৈন্য ছিল তাদের চার গুণেরও বেশি। আবার গোদের উপর বিষফোঁড়া স্বরূপ কুখ্যাত ইয়াহুদী গোত্র বনু কুরাইজা সম্পর্কে খবর পাওয়া গেল, তারা মুসলিমদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করে হানাদারদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তারা যেহেতু ছিল মুসলিমদের প্রতিবেশী, তাই তাদের দিক থেকে অনিষ্টের আশঙ্কা ছিল অনেক বেশি। তখন ছিল প্রচণ্ড শীত কাল। খাদ্য সামগ্রীরও ছিল অভাব। এতটা দীর্ঘ পরিখার খনন কার্যে দিন-রাত ব্যস্ত থাকার দরুণ রোজগারেরও কোন সুযোগ মেলেনি। ফলে খাদ্য সংকট তীব্রাকার ধারণ করল। এ অবস্থায় হানাদার বাহিনী পরিখার কিনারায় এসে শিবির ফেলল। অতঃপর উভয় পক্ষে তীর ও পাথর ছোড়াছুড়ি চলতে থাকল। লাগাতার প্রায় এক মাস এ অবস্থা চলল। রাত-দিন একটানা পাহারা দিতে দিতে মুজাহিদগণ ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। পরিশেষে এক সময় সুদীর্ঘ এ কঠিন পরীক্ষার অবসান হল আর তা এভাবে যে, আল্লাহ তাআলা হানাদারদের ছাউনির উপর দিয়ে এক হিমশীতল তীব্র ঝড়ো হাওয়া বইয়ে দিলেন। তাতে তাদের তাঁবু ছিড়ে গেল, হাড়ি-পাতিল সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল, চুলা নিভে গেল এবং সওয়ারীর পশুগুলো ভয় পেয়ে চারদিকে ছোটাছুটি করতে লাগল। এভাবে তাদের গোটা শিবির জেরবার হয়ে গেল। অগত্যা তাদেরকে অবরোধ ত্যাগ করে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরে যেতে হল। আলোচ্য আয়াতে এই ঝড়ো হাওয়ার কথাই বলা হয়েছে। আয়াতে যে অদৃশ্য সেনাদলের কথা বলা হয়েছে, তা হল ফেরেশতার বাহিনী। তারাই বহুমুখী তৎপরতা দ্বারা শত্রুবাহিনীকে নাকাল করে ফেলেছিল। পরিশেষে তারা সম্পূর্ণ কিংকর্তব্যমিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং উপায়ান্তর না দেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯. হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রু বাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল। অতঃপর আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম ঘূর্ণিবায়ু(১) এবং এমন বাহিনী যা তোমরা দেখনি।(২) আর তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তার সম্যক দ্রষ্টা।

(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাকে মৃদৃ বাতাস দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আর আদ সম্প্রদায়কে ঝঞ্ঝা বাতাসে ধ্বংস করা হয়েছে” (বুখারী: ১০৩৫)

(২) এমন বাহিনী বলে ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে। (তাবারী, ইবন কাসীর, বাগভী, ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি ওদের বিরুদ্ধে ঝড় এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যা তোমরা দেখতে পাওনি।(1) আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তার দ্রষ্টা।

(1) উক্ত আয়াতসমূহে পঞ্চম হিজরীতে সংঘটিত আহযাব যুদ্ধের কিছু বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই যুদ্ধকে ‘আহযাব’ এই জন্য বলা হয় যে, এই সময় ইসলামের সকল শত্রুবাহিনী একত্রিত হয়ে মুসলিমদের ঘাঁটি ‘মদীনার’ উপর আক্রমণ করেছিল। ‘আহযাব’ ‘হিযব’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বাহিনী বা দল। একে খন্দকের যুদ্ধও বলা হয়, কারণ মুসলিমগণ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মদীনার একপাশে খাল খনন করেন। যাতে শত্রুবাহিনী মদীনা শহরের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। (খন্দক মানে খাল বা পরিখা।) উক্ত যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এইরূপ যে, ইয়াহুদী গোত্র বানু নায্বীর; যাদেরকে বার বার অঙ্গীকার ভঙ্গ করার ফলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তারা খায়বারে গিয়ে বসবাস শুরু করে। তারা মক্কার কাফেরদেরকে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করার জন্য তৈরী করল। অনুরূপ গাত্বফান ইত্যাদি গোত্র নাজ্দের গোত্রগুলোকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে লড়াইয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করল।

সুতরাং ইয়াহুদীরা অনায়াসে ইসলাম ও মুসলিমদের সকল শত্রুদেরকে একত্রিত করে মদীনার উপর আক্রমণ করতে সফল হল। মক্কার মুশরিকদের কমান্ডার ছিল আবু সুফিয়ান। সে উহুদ পর্বতের আশেপাশে শিবির স্থাপন করে প্রায় পুরো মদীনাকে পরিবেষ্টন করে নিল। তাদের সম্মিলিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় দশ হাজার। আর মুসলিমগণ ছিলেন মাত্র তিন হাজার। এ ছাড়াও মদীনার দক্ষিণ দিকে ইয়াহুদীদের তৃতীয় গোত্র বানু কুরাইযা বাস করত; যাদের সাথে সেই সময় পর্যন্ত মুসলিমদের চুক্তি ছিল এবং তারা মুসলিমদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু বানী নাযবীরের ইয়াহুদী সর্দার হুয়াই বিন আখত্বাব মুসলিমদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে ফুসলিয়ে নিজেদের সাথে করে নিল। এদিকে মুসলিমগণ সর্বদিক দিয়ে শত্রুবাহিনীর পরিবেষ্টনে পড়ে গেলেন। সেই সংকটাবস্থায় সালমান ফারেসী (রাঃ)-এর পরামর্শে পরিখা খনন করা হল। যার ফলে শত্রু বাহিনী মদীনার ভিতর প্রবেশ করতে সক্ষম হল না; বরং মদীনার বাইরেই থাকতে বাধ্য হল। তারপরেও মুসলিমগণ সেই পরিবেষ্টন ও সম্মিলিত শত্রুবাহিনীর আক্রমণের ভয়ে ভীত ছিলেন।
প্রায় এক মাস যাবৎ এই পরিবেষ্টনে মুসলিমগণ কঠিন ভয় ও দুশ্চিন্তায় কালাতিপাত করেন। পরিশেষে মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে গায়বী সাহায্য করলেন। উক্ত আয়াতগুলিতে সেই কঠিন অবস্থা ও গায়বী সাহায্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম جنود থেকে উদ্দেশ্য হল কাফেরদের শত্রুবাহিনী যারা সম্মিলিত হয়ে এসেছিল। ‘ঝড়’ বলতে ঐ প্রবল হাওয়াকে বুঝানো হয়েছে, যা তুফানরূপে এসে তাদের তাঁবু উড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, পশুর দল রশি ছিঁড়ে পালিয়েছিল, ডেগগুলি উল্টে গিয়েছিল এবং তারা সকলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঝড় সম্পর্কে হাদীসে বর্ণনা পাওয়া যায় যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আমাকে পুবালী হাওয়া দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে এবং আদ সম্প্রদায়কে পশ্চিমী হাওয়া দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।’’ (বুখারীঃ ইস্তিস্কা অধ্যায়) (وَجُنُوْدًا لَّمْ تَرَوْهَا) এর অর্থ হল ফিরিশতা; যারা মুসলিমদের সাহায্যের জন্য এসেছিলেন। তাঁরা শত্রুবাহিনীর মনে এমন ভয় ও ত্রাস সঞ্চার করেন যে, তারা সেখান থেকে অবিলম্বে পালিয়ে যাওয়াকেই নিজেদের কল্যাণ মনে করেছিল।