লিয়াছআলাসসা-দিকীনা ‘আন সিদকিহিম ওয়া আ‘আদ্দা লিলক-ফিরীনা ‘আযা-বান আলীমা-।উচ্চারণ
যাতে সত্যবাদীদেরকে (তাদের রব) তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে প্রশ্ন করেন ১৬ এবং কাফেরদের জন্য তো তিনি যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত করেই রেখেছেন। ১৭ তাফহীমুল কুরআন
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদীতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য এবং কাফেরদের জন্য তো তিনি এক যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।মুফতী তাকী উসমানী
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্য। তিনি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তদ শাস্তি!মুজিবুর রহমান
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তিনি কাফেরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার জন্যে। তিনি কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। আর তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আযাব।আল-বায়ান
সত্যবাদীদেরকে (অর্থাৎ নবীদেরকে) তাদের সত্যবাদিতা (অর্থাৎ আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়ার কাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য। তিনি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন ভয়াবহ শাস্তি।তাইসিরুল
যেন তিনি সত্যবাদীদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন তাঁদের সত্যবাদিতা সন্বন্ধে, আর অবিশ্বাসীদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক
১৬
অর্থাৎ আল্লাহ কেবলমাত্র অঙ্গীকার নিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং এ অঙ্গীকার কতটুকু পালন করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন করবেন। তারপর যারা নিষ্ঠা সহকারে আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার পালন করে থাকবে তারাই অঙ্গীকার পালনকারী গণ্য হবে।
১৭
এ রুকু’র বিষয়বস্তু পরোপুরি অনুধাবন করার জন্য একে এ সূরার ৩৬ ও ৪১ আয়াতের সাথে মিলিয়ে পড়া দরকার।
নবীগণের থেকে এ প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়েছিল এজন্য, যাতে মানুষের কাছে আল্লাহ তাআলার বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছে যায় এবং তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে যায়, ফলে কারও একথা বলার সুযোগ না থাকে যে, আমরা তো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাইনি; তা পেলে আমরা ঠিকই ঈমান আনতাম। তাদের থেকে এ প্রতিশ্রুতি নেওয়ার ফলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন, তারা কতটা সততার সাথে আল্লাহর তাআলার আনুগত্য করেছিল? নবীগণ যদি আল্লাহ তাআলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাদের কাছে তাঁর পয়গাম যথাযথভাবে না পৌঁছাতেন, তবে তাদের প্রতি আল্লাহর প্রমাণ চূড়ান্ত হত না আর সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদও করতেন না। কেননা প্রমাণ চূড়ান্ত করা ছাড়া কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেটা আল্লাহ তাআলার ইনসাফের পরিপন্থী হত।
৮. সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্য। আর তিনি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।(১)
(১) অর্থাৎ আল্লাহ কেবলমাত্ৰ অঙ্গীকার নিয়েই ক্ষান্ত হননি। বরং এ অঙ্গীকার কতটুকু পালন করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন করবেন। (কুরতুবী, মুয়াস্সার)
(৮) যাতে তিনি সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেন।(1) আর তিনি অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(1) ليسأل তে لام كي ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, এই অঙ্গীকার নেওয়ার কারণ হল, আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী নবীগণকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তাঁরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট আল্লাহর বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন কি? দ্বিতীয় অর্থ এই যে, আল্লাহ আম্বিয়াগণকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তোমাদের সম্প্রদায় তোমাদের দাওয়াত গ্রহণ করেছিল কি না? যেমন অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘‘অতঃপর যাদের নিকট রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল তাদেরকে আমি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব এবং অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব রসূলগণকেও।’’ (সূরা আ’রাফ ৬ আয়াত) এতে সত্যের আহবায়কদের জন্য সতর্কবাণী হল যে, তাঁরা যেন দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ পরিপূর্ণভাবে ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে করেন, যাতে আল্লাহর নিকট তাঁদের মুখ উজ্জ্বল হয়। আর ঐ সকল মানুষদের জন্য শাস্তির ধমক রয়েছে, যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো হয়, অথচ তারা তা গ্রহণ করে না; তারা আল্লাহর নিকট গুনাহগার এবং শাস্তির উপযুক্ত হবে।