আল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-ফী ছিত্তাতি আইয়ামিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি মা-লাকুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালাশাফী‘ইন আফালা-তাতাযাক্কারূন।উচ্চারণ
আল্লাহই ৬ আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মাঝখানে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে এবং এরপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। ৭ তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই এবং নেই তার সামনে সুপারিশকারী, তারপরও কি তোমরা সচেতন হবে না? ৮ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী যাবতীয় বস্তু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ, তিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং সাহায্যকারীও নেই, তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবেনা?মুজিবুর রহমান
আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। এরপর তিনি ‘আরশে সমাসীন হন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং সুপারিশকারীও নেই ; তবু কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?আল-বায়ান
আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দু’এর মাঝে যা কিছু আছে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন- অতঃপর তিনি ‘আরশে সমুন্নত হন। তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন অভিভাবক নেই, সুপারিশকারীও নেই। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?তাইসিরুল
আল্লাহ্ই তিনি যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সব-কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি অধিষ্ঠিত হলেন আরশের উপরে। তাঁকে বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য অভিভাবক কেউ নেই আর সুপারিশকারীও নেই। তবুও কি তোমরা মনোযোগ দেবে না?মাওলানা জহুরুল হক
৬
এবার মুশরিকদের দ্বিতীয় আপত্তির জবাব দেয়া হচ্ছে। নবী (সা.) এর তাওহীদের দাওয়াতের ব্যাপারে তারা এ আপত্তিটি করতো। নবী (সা.) তাদের দেবতা ও মনীষীদের উপাস্য হওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং জোরেশোরে এ দাওয়াত দেন যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ, কর্ম সম্পাদনকারী, প্রয়োজন পূরণকারী, প্রার্থনা শ্রবণকারী, দুর্দশা নিরসনকারী ও স্বাধীন ক্ষমতা সম্পন্ন শাসক নেই, এ ব্যাপারে তারা কঠোর আপত্তি জানাতো।
৭
ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল করূআন, সূরা আ’রাফ, ৫৪ আয়াত;ইউনুস, ৩ আয়াত এবং আর রা’য়াদ ২ আয়াত।
৮
অর্থাৎ পৃথিবী ও আকাশের স্রষ্টাইতো আসল খোদা। তোমাদের চিন্তা-ভাবনা কতই উদ্ভট, বিশ্ব-জাহানের এ বিশাল সাম্রাজ্যে তোমরা তাকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে কর্ম-সম্পাদনকারী মনে করে বসেছো। এ সমগ্র বিশ্ব-জাহান এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে মহান আল্লাহই এসবের স্রষ্টা। তার সত্তা ছাড়া বাকি এখানে যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি। মহান আল্লাহ এ দুনিয়া সৃষ্টি করার পর কোথাও গিয়ে ঘুমিয়েও পড়েননি। বরং তিনিই নিজের এ রাজ্যের সিংহাসনে আসীন এবং শাসনকর্তা হয়েছেন। অথচ তোমাদের বুদ্ধি এতই ভ্রষ্ট হয়ে গেছে যে, তোমরা সৃষ্টিকুলের মধ্য থেকে কয়েকটি সত্তাকে নিজেদের ভাগ্যের মালিক গণ্য করে বসেছো। যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করতে না পারেন তাহলে তাদের মধ্যে থেকে কার তোমাদের সাহায্য করার ক্ষমতা আছে? যদি আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন, তাহলে তাদের মধ্য থেকে কে তোমাদেরকে তার হাত থেকে ছাড়িয়ে নেবার শক্তি রাখে? যদি আল্লাহ সুপারিশ না শোনেন, তাহলে তাদের মধ্য থেকে কে তার কাছ থেকে এ সুপারিশ গ্রহণ করিয়ে নেবার ক্ষমতা রাখে?
‘ইসতিওয়া’-এর আভিধানিক অর্থ সোজা হওয়া, আসন গ্রহণ করা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কিভাবে আরশে ইসতিওয়া গ্রহণ করেন, আমাদের পক্ষে তা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বিষয়টা আমাদের বুঝ-সমঝের অতীত। কাজেই এর তত্ত্ব-তালাশের পেছনে পড়ার কোন প্রয়োজন নেই। পড়লেও অকাট্য কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে এতটুকু ঈমান রাখাই যথেষ্ট যে, কুরআন মাজীদ যা-কিছু বলেছে তা সত্য।
৪. আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু'য়ের অন্তর্বর্তী সব কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করবে না?
(৪) আল্লাহ; যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন।(1) তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের কোন অভিভাবক অথবা সুপারিশকারী নেই;(2) তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?(3)
(1) এ ব্যাপারে সূরা আ’রাফের ৫৪নং আয়াতের টীকা দেখুন। এখানে উক্ত বিষয়কে পুনরায় উক্ত করার উদ্দেশ্য এই হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা ও বিস্ময়কর সৃষ্টির কথা শুনে হয়তো বা তারা কুরআন শ্রবণ করবে এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে।
(2) অর্থাৎ সেখানে এমন কোন বন্ধু হবে না, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে ও তোমাদের নিকট থেকে আল্লাহর শাস্তিকে দূর করতে পারবে এবং সেখানে এমন কোন সুপারিশকারীও হবে না, যে তোমাদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে।
(3) অর্থাৎ, হে গায়রুল্লাহর পূজারী ও আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের উপর ভরসা স্থাপনকারী! তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?