আওয়া লাম ইয়ারও আন্না-জা‘আলনা-হারমান আ-মিনাওঁ ওয়া ইউতাখাত্তাফুন্না-ছুমিন হাওলিহিম আফাবিলবা-তিলি ইউ’মিনূনা ওয়া বিনি‘মাতিল্লা-হি ইয়াকফুরূন।উচ্চারণ
তারা কি দেখে না, আমি একটি নিরাপদ হারম বানিয়ে দিয়েছি, অথচ তাদের আশেপাশে লোকদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়? ১০৫ এরপরও কি তারা বাতিলকে মেনে নেবে এবং আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করবে? তাফহীমুল কুরআন
তারা কি লক্ষ্য করেনি, আমি (তাদের নগরকে) এক নিরাপদ হরম বানিয়ে দিয়েছি, অথচ তাদের আশপাশের লোকদের উপর হয় অতর্কিত হামলা। #%৪৪%# তারপরও কি তারা অলীক বস্তুর প্রতি বিশ্বাস রাখছে ও আল্লাহর নি‘আমতের নাশোকরী করছে?মুফতী তাকী উসমানী
তারা কি দেখেনা যে, আমি হারামকে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চতুস্পার্শ্বে যে সব মানুষ আছে তাদের উপর হামলা করা হয়; তাহলে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?মুজিবুর রহমান
তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুপার্শ্বে যারা আছে, তাদের উপর আক্রমণ করা হয়। তবে কি তারা মিথ্যায়ই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা কি দেখে না আমি ‘হারাম’কে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এটার চতুষ্পার্শ্বে যেসব মানুষ আছে, তাদের ওপর হামলা করা হয়, তবে কি এরা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহ্ র অনুগ্রহ অস্বীকার করবে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি দেখে না যে, আমি ‘হারাম’ কে নিরাপদ বানিয়েছি, অথচ তাদের আশ পাশ থেকে মানুষদেরকে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তাহলে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করবে?আল-বায়ান
তারা কি দেখে না যে, আমি ‘হারাম’ (মক্কা)-কে করেছি নিরাপদ স্থান অথচ তাদের চতুষ্পার্শ্ব থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তবে তারা কি মিথ্যাতেই বিশ্বাস করবে আর আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?তাইসিরুল
তারা কি তবে দেখে না যে আমরা পবিত্র স্থানকে নিরাপদ বানিয়েছি, তথাপি লোকদের ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই সবের আশপাশ থেকে? তারা কি তবুও ঝুটাতেই বিশ্বাস করবে, এবং অবিশ্বাস করবে আল্লাহ্র অনুগ্রহে?মাওলানা জহুরুল হক
১০৫
অর্থাৎ তারা যে মক্কা শহরে বাস করে, যে শহরে তারা পূর্ণ নিরাপদ জীবন যাপন করছে, কোন লাত বা হুবল কি একে হারম তথা নিরাপদ স্থানে পরিণত করেছে? আরবের আড়াই হাজার বছরের চরম অশান্তি ও নৈরাজ্যের পরিবেশ এ স্থানটিকে সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় মুক্ত রাখার কি কোন দেবতা বা দেবীর সাধ্যায়াত্ত ছিল? আমি ছাড়া আর কে এর মর্যাদা রক্ষাকারী ছিল?
পূর্বের সূরা অর্থাৎ সূরা কাসাস (২৮ : ৫৭)-এ গত হয়েছে, মুশরিকগণ তাদের ঈমান না আনার পক্ষে অজুহাত খাড়া করত, যেই আরববাসী এখন আমাদেরকে ইজ্জত-সম্মান করে, ঈমান আনলে তারা আমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে দেবে। এ আয়াতে তাদের সে অজুহাতের জবাব দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলাই তো মক্কা মুকাররমাকে নিরাপদ হরম বানিয়েছেন। ফলে এখানে কেউ লুটতরাজ ও খুন-খারাবি করার সাহস পায় না, অথচ এর আশেপাশেই দিনে-দুপুরে ডাকাতি, দস্যুবৃত্তি চলে। সেখানে মানুষের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নেই, যে নিরাপত্তা হরমের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে তোমরা পাচ্ছ। তো আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করা সত্ত্বেও যখন তিনি এরূপ স্বস্তির জীবন দান করেছেন, তখন তাঁর আনুগত্য স্বীকারের পর কি তিনি তোমাদেরকে এ নি‘আমত থেকে বঞ্চিত করবেন? দ্বিতীয়ত এ আয়াতে এদিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, মক্কা মুকাররমাকে নিরাপদ হরম কি কোন প্রতিমা বা দেব-দেবী বানিয়েছেন যে, তোমরা তাদের পূজা-অর্চনায় লিপ্ত রয়েছ? এ ভূখণ্ডকে এরূপ মর্যাদা তো আল্লাহ তাআলাই দান করেছেন, যা তোমরাও স্বীকার কর। সুতরাং চিন্তা করে দেখ, ইবাদত-বন্দেগীর উপযুক্ত আসলে কে?
৬৭. তারা কি দেখে না আমরা হারামকে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চারপাশে যেসব মানুষ আছে, তাদের উপর হামলা করা হয়। তবে কি তারা বাতিলকে স্বীকার করবে, আর আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?(১)
(১) কোন কোন মুশরিকের এক অজুহাত এরূপও পেশ করা হত যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনীত দ্বীনকে সত্য ও সঠিক বলে বিশ্বাস করে; কিন্তু ইসলাম গ্ৰহণ করার মধ্যে তারা তাদের প্রাণনাশের আশংকা অনুভব করে। কারণ, সমগ্র আরব ইসলামের বিরোধী। তারা মুসলিম হয়ে গেলে অবশিষ্ট আরব তাদেরকে দেশ থেকে উচ্ছেদ করবে এবং প্ৰাণে বধ করবে। এর জওয়াবে আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, তাদের এই অজুহাতও অন্তঃসার শূন্য। আল্লাহ্ তা'আলা বায়তুল্লাহর কারণে মক্কাবাসীদেরকে এমন মাহাত্ম্য দান করেছেন, যা পৃথিবীর কোন স্থানের অধিবাসীদের ভাগ্যে জুটেনি। আল্লাহ বলেন, আমি সমগ্র মক্কাভূমিকে হারাম তথা নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রদর্শন করে এতে খুন-খারাবি হারাম মনে করে। মানুষ তো মানুষ, এখানে শিকার বধ করা এবং বৃক্ষ কর্তন করাও সবার মতে অবৈধ। বহিরাগত কোন ব্যক্তি হারামে প্রবেশ করলে সে-ও হত্যার কবল থেকে নিরাপদ হয়ে যায়। অতএব মক্কার বাসিন্দারা যদি ইসলাম গ্ৰহণ করার ক্ষেত্রে প্রাণনাশের আশংকা আছে বলে অজুহাত পেশ করে, তবে সেটা খোড়া অজুহাত বৈ নয়। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৬৭) ওরা কি দেখে না যে, আমি (মক্কার) ‘হারাম’কে নিরাপদ স্থানরূপে স্থির করেছি অথচ এর চারপাশে যে সব মানুষ আছে তাদেরকে অপহরণ করা হয়।(1) তবে কি ওরা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? (2)
(1) এখানে আল্লাহ তাআলা সেই অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করছেন যা তিনি মক্কাবাসীর উপর করেছিলেন আর তা এই যে, আমি তাদের (মক্কার) হারামকে নিরাপদ জায়গা বানিয়ে দিয়েছি। সেখানে বসবাসকারীরা হত্যা, লুঠ-মার, বন্দীদশা ইত্যাদি থেকে নিরাপদে আছে। অথচ আরবের অন্য এলাকা এই নিরাপত্তা ও শান্তি থেকে বঞ্চিত; হত্যা, লুঠ-মার তাদের নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা।
(2) অর্থাৎ, সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা কি এই যে, তারা আল্লাহর সাথে শিরক করবে এবং মিথ্যা উপাস্য ও মূর্তির পূজা করতে থাকবে? অথচ তাঁর অনুগ্রহের দাবী এই ছিল যে, তারা শুধু এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর পয়গম্বর (সাঃ)-কে সত্য বলে স্বীকার করবে।