কুল্লুনাফছিন যাইকাতুল মাওতি ছু ম্মা ইলাইনা-তুরজা‘ঊন।উচ্চারণ
প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। তারপর তোমাদের সবাইকে আমার দিকে ফিরিয়ে আনা হবে ৯৫ তাফহীমুল কুরআন
জীব মাত্রকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তারপর তোমাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরিয়ে আনা হবে। #%৩৮%#মুফতী তাকী উসমানী
জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।মুজিবুর রহমান
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী ; এরপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।আল-বায়ান
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।তাইসিরুল
প্রত্যেক সত্ত্বাই মৃত্যু আস্বাদনকারী, তারপর আমাদেরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।মাওলানা জহুরুল হক
৯৫
অর্থাৎ প্রাণের কথা ভেবো না। এ তো কখনো না কখনো চলে যাবেই। চিরকাল থাকার জন্য কেউই দুনিয়ায় আসেনি। কাজেই এ দুনিয়ায় কিভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে চলতে হবে এটা তোমাদের জন্য কোন চিন্তাযোগ্য বিষয় নয়। বরং আসল চিন্তাযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ঈমান কেমন করে বাঁচানো যাবে এবং আল্লাহর আনুগত্যের দাবী কিভাবে পূরণ করা যাবে। শেষ পর্যন্ত তোমাদের ফিরে আমার দিকে আসতে হবে। যদি দুনিয়ায় প্রাণ বাঁচাবার জন্য ঈমান হারিয়ে চলে আসো তাহলে এর ফল হবে ভিন্ন কিছু। আর ঈমান বাঁচাবার জন্য যদি প্রাণ হারিয়ে চলে আসো তাহলে এর পরিণাম হবে অন্য রকম। কাজেই আমার কাছে যখন ফিরে আসবে তখন কি নিয়ে ফিরে আসবে, কেবল একথাটিই চিন্তা করো। প্রাণের জন্য উৎসর্গীত ঈমান, না ঈমানের জন্য উৎসর্গীত প্রাণ নিয়ে?
অর্থাৎ, ‘আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদেরকে ছাড়তে হবে’এই অনুভূতিই যদি তোমাদের হিজরতের পক্ষে বাধা হয়, তবে চিন্তা কর না কেন একদিন তাদেরকে ছেড়ে যেতেই হবে। কেননা একদিন না একদিন প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তারপর যখন তোমরা সকলে আমার কাছে ফিরে আসবে, তখন তোমাদের মধ্যে স্থায়ী মিলন ঘটবে। তারপর আর কখনও বিচ্ছেদ-বেদনা তোমাদেরকে স্পর্শ করবে না।
৫৭. জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; তারপর তোমরা আমাদেরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।(১)
(১) হিজরতের পথে প্রথম বাধা হলো, মৃত্যুর ভয়। স্বদেশ পরিত্যাগ করে অন্যত্র যাবার মধ্যে মানুষ প্রথম যে সমস্যাটির সম্মুখীন হয় তা হলো, নিজের প্রাণের আশংকা। স্বদেশ ত্যাগ করে অন্যত্র রওয়ানা হলে পথিমধ্যে স্থানীয় কাফেরদের সাথেও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশংকা বিদ্যমান থাকে। আয়াতে এই আশংকার জওয়াব দেয়া হয়েছে যে, জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেউ কোথাও কোন অবস্থাতেই মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পাবে না। কাজেই মৃত্যুর ভয়ে অস্থির হওয়া মুমিনের কাজ হতে পারে না। তাই স্বস্থানে থাকা অথবা হিজরত করে অন্যত্র চলে যাওয়ার মধ্যে মৃত্যুর ভয় অন্তরায় না হওয়া উচিত। (ফাতহুল কাদীর) বিশেষত: আল্লাহর নির্দেশাবলী পালন করা অবস্থায় মৃত্যু আসা চিরস্থায়ী সুখ ও নেয়ামতের কারণ। আখেরাতে এই সুখ ও নেয়ামত পাওয়া যাবে। তাই প্ৰাণের কথা ভেবে ঈমান ও হিজরত থেকে পিছপা হয়ো না।
(৫৭) প্রত্যেক আত্মাই মরণের স্বাদ গ্রহণ করবে; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। (1)
(1) অর্থাৎ, হিজরত কর অথবা না কর, মৃত্যুর তিক্ত শরবত সকলকে অবশ্যই পান করতে হবে। সুতরাং তোমাদের স্বদেশ, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদেরকে ত্যাগ করাতে কোন কষ্ট না হওয়াই উচিত। তোমরা যেখানেই থাক সেখানেই মৃত্যু আসবেই। অতএব আল্লাহর ইবাদতে রত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আখেরাতের চিরসুখ অর্জন করতে পারবে। যেহেতু মৃত্যুর পর আল্লাহর নিকটে তো যেতেই হবে।