يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّ أَرۡضِي وَٰسِعَةٞ فَإِيَّـٰيَ فَٱعۡبُدُونِ

ইয়া-‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আ-মানূইন্না আরদী ওয়া-ছি‘আতুন ফাইইয়া-ইয়া ফা‘বুদূন।উচ্চারণ

হে আমার বান্দারা, যারা ঈমান এনেছো! আমার যমীন প্রশস্ত, কাজেই তোমরা আমারই বন্দেগী করো। ৯৪ তাফহীমুল কুরআন

হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয়ই আমার ভূমি অতি প্রশস্ত। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। #%৩৭%#মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার মু’মিন বান্দারা! আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর।মুজিবুর রহমান

হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই এবাদত কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে আমার মু’মিন বান্দাগণ ! নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত ; সুতরাং তোমরা আমারই ‘ইবাদত কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আমার যমীন প্রশস্ত, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর।আল-বায়ান

হে আমার বান্দারা! যারা ঈমান এনেছ, আমার যমীন প্রশস্ত, কাজেই তোমরা একমাত্র আমারই ‘ইবাদাত কর।তাইসিরুল

হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছ! আমার পৃথিবী আলবৎ প্রশস্ত, সুতরাং কেবলমাত্র আমারই তবে তোমরা উপাসনা করো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৪

এখানে হিজরতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, যদি মক্কায় আল্লাহর বন্দেগী করা কঠিন হয়ে থাকে, তাহলে দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাও। আল্লাহর পৃথিবী সংকীর্ণ নয়। যেখানেই তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে বসবাস করতে পারো সেখানে চলে যাও। তোমাদের জাতি ও দেশের নয় বরং আল্লাহর বন্দেগী করা উচিত। এ থেকে জানা যায়, আসল জিনিস জাতি ও দেশ নয় বরং আল্লাহর বন্দেগী। যদি কখনো জাতি ও দেশ প্রেমের দাবী এবং আল্লাহর বন্দেগীর দাবীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে তাহলে সেটিই হয় মু’মিনের ঈমানের পরীক্ষার সময়। যে সাচ্চা মু’মিন হবে, সে আল্লাহর বন্দেগী করবে এবং দেশ ও জাতিকে পরিত্যাগ করবে। আর যে মিথ্যা ঈমানের দাবীদার হবে, সে ঈমান পরিত্যাগ করবে এবং নিজের দেশ ও জাতিকে আঁকড়ে ধরবে। এ আয়াতটি এ ব্যাপারে একেবারে সুস্পষ্ট যে, একজন সত্যিকার আল্লাহর অনুগত ব্যক্তি দেশ ও জাতি প্রেমিক হতে পারে কিন্তু দেশ ও জাতি পূজারী হতে পারে না। তার কাছে আল্লাহর বন্দেগী হয় সব জিনিসের চেয়ে প্রিয় এবং দুনিয়ার সমস্ত জিনিসকে সে এর কাছে বিকিয়ে দেয় কিন্তু দুনিয়ার কোন জিনিসের কাছে একে বিকিয়ে দেয় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরাটির পরিচিতিতে বলা হয়েছে যে, এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল মক্কী জীবনে মুসলিমদের এক চরম সঙ্কটকালে। মক্কার কাফেরগণ তাদের উপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছিল। পরিস্থিতি এমনই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, মুমিনদের জীবন সেখানে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় তারা কী করবে সে নিয়ে তারা বড় পেরেশান ছিল। সূরাটির শুরুতে তো তাদেরকে সবর ও অবিচলতার উপদেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার এ আয়াতে বলা হচ্ছে, মক্কা মুকাররমায় দীন রক্ষা করা কঠিন হলে আল্লাহর ভূমি তো সংকীর্ণ নয়। তোমরা হিজরত করে এমন কোন স্থানে চলে যাও, যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতে পারবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৬. হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয় আমার যমীন প্রশস্ত; কাজেই তোমরা আমারই ইবাদত কর।(১)

(১) আলোচ্য আয়াতে মুসলিমগণের জন্যে কাফেরদের অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করা, সত্য প্রচার করা এবং দুনিয়াতে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার একটি কৌশল বর্ণনা করা হয়েছে। এই কৌশলের নাম ‘হিজরত’ তথা দেশত্যাগ। অথাৎ যে দেশে সত্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে ও কাজ করতে বাধ্য হতে হয়, সেই দেশ পরিত্যাগ করা। আল্লাহ বলেছেন, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। কাজেই কারও এই ওযর গ্রহণ করা হবে না যে, অমুক শহরে অথবা দেশে কাফেররা প্রবল ছিল বিধায় আমরা তাওহীদ ও ইবাদাত পালনে অপারগ ছিলাম। তাদের উচিত, যে দেশে কুফর ও অবাধ্যতা করতে বাধ্য করা হয়, আল্লাহর জন্যে সেই দেশ ত্যাগ করা এবং এমন কোন স্থান তালাশ করা, যেখানে স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে আল্লাহর নির্দেশাবলী নিজেরাও পালন করতে পারে এবং অপরকেও উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আর এজন্যই সাহাবায়ে কিরাম হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্য সাহাবীগণ মদীনায় হিজরত করেছিলেন। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৬) হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই উপাসনা কর।(1)

(1) এখানে এমন জায়গা থেকে হিজরত (স্বদেশ ত্যাগ) করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আল্লাহর ইবাদত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং দ্বীনের উপর অটল থাকা দুঃসাধ্য হয়। যেমন মুসলিমগণ প্রথমে মক্কা থেকে হাবশায় এবং পরে মদীনায় হিজরত করেছিলেন।