খালাকাল্লা-হুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিলহাক্কি ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিলমু’মিনীন।উচ্চারণ
আল্লাহ আসমান ও যমীনকে সত্য-ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন, ৭৫ প্রকৃতপক্ষে এর মধ্যে একটি নিদর্শন রয়েছে মু’মিনদের জন্য। ৭৬ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথার্থ (উদ্দেশ্যে) সৃষ্টি করেছেন। #%৩১%# বস্তুত ঈমানদারদের জন্য এর মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন আছে।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ যথাযথভাবে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।মুজিবুর রহমান
আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ; এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মু’মিনদের জন্যে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য।আল-বায়ান
আসমানসমূহ আর পৃথিবীকে আল্লাহ উদ্দেশ্য সাধনের উপযোগী ক’রে সৃষ্টি করেছেন, এতে বিশ্বাসীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।তাইসিরুল
মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য।মাওলানা জহুরুল হক
৭৫
অর্থাৎ বিশ্ব-জাহানের এ ব্যবস্থা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, মিথ্যার ওপর নয়। পরিষ্কার মন-মানসিকতা নিয়ে যে ব্যক্তিই এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে তার কাছে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ পৃথিবী ও আকাশ ধারণা কল্পনার ওপর নয় বরং প্রকৃত সত্য ও বাস্তব ঘটনার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্যেক ব্যক্তি যা কিছু বুঝবে ও উপলব্ধি করবে এবং নিজের ধারণা ও কল্পনার ভিত্তিতে যে দর্শনই তৈরি করবে তা যে এখানে যথাযথভাবে খাপ খেয়ে যাবে, তার কোন সম্ভাবনা নেই। এখানে তো একমাত্র এমন জিনিসই সফলকাম হতে এবং স্থিরতা ও প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে, যা হয় প্রকৃত সত্য ও বাস্তব ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যশীল। বাস্তব ঘটনা বিরোধী ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে যে ইমারতই দাঁড় করানো হবে তা শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সত্যের সাথে সংঘাত বাধিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। বিশ্ব-জাহানের এ ব্যবস্থা পরিষ্কার সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এক আল্লাহ হচ্ছেন এর স্রষ্টা, এক আল্লাহই এর মালিক ও পরিচালক। এ বাস্তব বিষয়টির বিরুদ্ধে যদি কোন ব্যক্তি এ ধারণা নিয়ে কাজ করতে থাকে যে, এ দুনিয়ার কোন আল্লাহ নেই অথবা এ ধারণা করে চলতে থাকে যে, এর বহু খোদা আছে, যারা মানত ও নজরানার জিনিস খেয়ে নিজেদের ভক্ত-অনুরক্তদের এখানে সবকিছু করার স্বাধীনতা এবং নিশ্চিন্তে নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে দেয়, তাহলে তার এ ধারণার কারণে প্রকৃত সত্যের মধ্যে সামান্যতম পরিবর্তন ঘটবে না বরং সে নিজেই যে কোন সময় একটি বিরাট আঘাতের সম্মুখীন হবে।
৭৬
পৃথিবী ও আকাশের সৃষ্টির মধ্যে তাওহীদের সত্যতা এবং শিরক ও নাস্তিক্যবাদের মিথ্যা হবার ওপর একটি পরিষ্কার সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এ সাক্ষ্য প্রমাণের সন্ধান একমাত্র তারাই পায় যারা নবীগণের শিক্ষা মেনে নেয়। নবীগণের শিক্ষা অস্বীকারকারীরা সবকিছু দেখার পরও কিছুই দেখে না।
অর্থাৎ, এ দুনিয়া সৃষ্টির উদ্দেশ্য হল মানুষকে এর দ্বারা পরীক্ষা করা অতঃপর তার কর্ম অনুসারে তাকে পুরস্কৃত করা বা শাস্তি দেওয়া। যদি আখেরাত না থাকে এবং মানুষকে সে জীবনের সম্মুখীন হতে না হয়, তবে তো জগত সৃজনের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। বলাবাহুল্য, আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য ব্যর্থ যেতে পারে না। আর তা যখন ব্যর্থ যেতে পারে না, তখন না মেনে উপায় নেই যে, আখেরাত অবশ্যম্ভাবী।
৪৪. আল্লাহ্ যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন(১); এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য।
(১) অর্থাৎ আল্লাহ আসমান ও যমীন যথাযথই সৃষ্টি করেছেন। তিনি কোন খেলাচ্ছলে তা সৃষ্টি করেন নি। (ইবন কাসীর) তিনি আসমান ও যমীন ইনসাফ ও আদলের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথবা আয়াতের অর্থ, তিনি আসমান ও যমীন তাঁর কালেমা ও নির্দেশ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অথবা আয়াতের অর্থ, তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, যখন সেটা সৃষ্টি করা ছিল যথাযথ। (ফাতহুল কাদীর)
(৪৪) আল্লাহ যথাযথভাবে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, (1) এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। (2)
(1) অর্থাৎ, বেকার ও বিনা উদ্দেশ্যে নয়।
(2) অর্থাৎ, আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর মহাশক্তি, জ্ঞান ও হিকমতের উপর বিশ্বাসীদের জন্য। তারা ঐ প্রমাণ দ্বারা এই পরিণামে পৌঁছতে পারে যে, এ বিশ্ব-জাহানে আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, দুঃখ মোচনকারী, প্রয়োজন পূর্ণকারী কেউ নেই।