ইন্নামা-তা‘বূদূ না মিন দূ নিল্লা-হি আওছা-নাওঁ ওয়া তাখলুকূনা ইফকান ইন্নাল্লাযীনা তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি লা-ইয়ামলিকূনা লাকুম রিঝকান ফাবতাগূ‘ইনদাল্লা-হির রিঝকা ওয়া‘বুদূ হু ওয়াশকুরূলাহূ ইলাইহি তুরজা‘ঊন।উচ্চারণ
তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে পূজা করছো তারা তো নিছক মূর্তি আর তোমরা একটি মিথ্যা তৈরি করছো। ২৮ আসলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা পূজা করো তারা তোমাদের কোন রিযিকও দেবার ক্ষমতা রাখে না, আল্লাহর কাছে রিযিক চাও, তাঁরই বন্দেগী করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তারই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হবে। ২৯ তাফহীমুল কুরআন
তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমাদেরই পূজা করছ এবং রচনা করছ মিথ্যা #%১১%#। তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর, তারা তোমাদেরকে রিযক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আল্লাহর কাছে রিযক সন্ধান কর, তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় কর। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।মুফতী তাকী উসমানী
তোমরাতো আল্লাহ ব্যতীত শুধু মূর্তি পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজা কর তারা তোমাদের জীবনোপকরনের মালিক নয়। সুতরাং তোমরা জীবনোপকরণ কামনা কর আল্লাহর নিকট এবং তাঁরই ইবাদাত কর ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।মুজিবুর রহমান
তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ কর, তাঁর এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তোমরা তো আল্লাহ্ ব্যতীত কেবল মূর্তিপূজা করছো এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছো। তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত যাদের পূজা কর তারা তোমাদের জীবনোপকরণের মালিক নয়। সুতরাং তোমরা জীবনোপকরণ কামনা কর আল্লাহ্ র নিকট এবং তাঁর ‘ইবাদত কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোর পূজা করছ এবং মিথ্যা বানাচ্ছ। নিশ্চয় তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা কর তারা তোমাদের জন্য রিয্ক-এর মালিক নয়। তাই আল্লাহর কাছে রিয্ক তালাশ কর, তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।আল-বায়ান
তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে প্রতিমার পূজা করছ আর তোমরা মিথ্যে উদ্ভাবন করছ। আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যে সবগুলোর পূজা করছ তারা তোমাদেরকে রিযক দানের কোন ক্ষমতা রাখে না, কাজেই তোমরা আল্লাহর নিকট রিযক তালাশ কর, আর তাঁরই ‘ইবাদাত কর, আর তাঁরই প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।তাইসিরুল
"আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে তোমরা তো শুধু প্রতিমাদের পূজা করছ, আর তোমরা একটি মিথ্যা উদ্ভাবন করেছ। নিঃসন্দেহ তোমরা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে যাদের আরাধনা করছ তারা তোমাদের জন্য জীবিকার উপরে কোনো কর্তৃত্ব রাখে না, কাজেই আল্লাহ্র কাছে জীবিকা অণ্বেষণ কর ও তাঁরই উপাসনা কর, আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর, তাঁর কাছেই তো তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।মাওলানা জহুরুল হক
২৮
অর্থাৎ তোমরা এ মূর্তি তৈরি করছো না বরং মিথ্যা তৈরি করছো। এ মূর্তিগুলোর অস্তিত্ব নিজেই একটি মূর্তিমান মিথ্যা। তার ওপর তোমাদের এ আকীদা-বিশ্বাস যে, এরা দেব-দেবী, আল্লাহর অবতার, তাঁর সন্তান, আল্লাহর সান্নিধ্যে অবস্থানকারী ও তাঁর কাছে শাফা’আতকারী অথবা এদের মধ্য থেকে কেউ রোগ নিরাময়কারী আবার কেউ সন্তান-দাতা এবং কেউ রিযিকদাতা-এসবই মিথ্যা কথা। তোমরা নিজেদের ধারণা ও কল্পনার মাধ্যমে এসব রচনা করেছো। আসল সত্য এছাড়া আর কিছুই নয় যে, এগুলো নিছক হাতে গড়া নিষ্প্রাণ মূর্তি এবং এদের কোন ক্ষমতা ও প্রভাব নেই।
২৯
এ কয়েকটি বাক্যেও মধ্যে হযরত ইবরাহীম (আ) মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সমস্ত যুক্তি একত্র করেছেন। কাউকে মাবুদ বা আরাধ্য করতে হলে এ জন্য যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে। একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ এ হতে পারে, তার নিজের সত্তার মধ্যে মাবুদ হবার কোন অধিকার থাকে। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, সে মানুষের স্রষ্টা এবং মানুষ নিজের অস্তিত্বের জন্য তার কাছে অনুগৃহীত। তৃতীয় কারণ হতে পারে, সে মানুষের লালন-পালনের ব্যবস্থা করে। তাকে রিযিক তথা জীবন ধারণের উপকরণ সরবরাহ করে। চতুর্থ কারণ হতে পারে, মানুষের ভবিষ্যত তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল এবং মানুষ আশঙ্কা করে তার অসন্তুষ্টি অর্জন করলে তার নিজের পরিণাম অশুভ হবে। হযরত ইবরাহীম বলেন, এ চারটি কারণের কোন একটিও মূর্তি পূজার পক্ষে নয়। বরং এর প্রত্যেকটিই নির্ভেজাল আল্লাহর প্রতি আনুগত্যেও দাবী কর। “এ নিছক মূর্তিপূজা” বলে তিনি প্রথম কারণটিকে বিলুপ্ত করে দেন। কারণ নিছক মূর্তি মাবুদ হবার ব্যক্তিগত কি অধিকার বিলুপ্ত করেন। তারপর “তোমরা তাদের স্রষ্টা” একথা বলে দ্বিতীয় কারণটিকে বিলুপ্ত করেন। এরপর তারা তোমাদের কোনো প্রকারের কোন রিযিক দান করতে পারে না, একথা বলে তৃতীয় কারণটিকে বিলুপ্ত করেন। আর সবশেষে বলেন, তোমাদের তো আল্লাহর দিকে ফিরে যেতেই হবে, এ মূর্তিগুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে না। কাজেই তোমাদের পরিণাম ও পরকালকে সমৃদ্ধ বা ধ্বংস করার ক্ষমতাও এদের নেই। এ ক্ষমতা আছে একমাত্র আল্লাহর হাতে। এভাবে শিরককে পুরোপুরি বাতিল করে দিয়ে তিনি তাদের ওপর একথা সুস্পষ্ট করে দেন যে, মানুষ যে সমস্ত কারণে কাউকে মাবুদ বা আরাধ্য গণ্য করতে পারে তার কোনটাই এক ও লা-শারীক আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ইবাদাত করার দাবী করে না।
অর্থাৎ বিভিন্ন মিথ্যা আকীদা-বিশ্বাস তৈরি করছ ও সেই অনুযায়ী কাজ করছ। যেমন দেব-দেবীদের প্রতি ঐশ্বরিক গুণ আরোপ করে তাদের পূজা-অর্চনায় লিপ্ত হচ্ছ। বর্তমানকালের কবর-পূজার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। -অনুবাদক
১৭. তোমরা তো আল্লাহ ছাড়া শুধু মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ।(১) তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর তারা তো তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই তোমরা আল্লাহর কাছেই রিযিক চাও এবং তারই ইবাদাত কর। আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।(২)
(১) অর্থাৎ তোমরা এসব মূর্তি তৈরী করছে না বরং মিথ্যা তৈরী করছো। এ মূর্তিগুলোর অস্তিত্ব নিজেই একটি মূর্তিমান মিথ্যা। তার ওপর তোমাদের এ আকীদা-বিশ্বাস যে, এরা দেব-দেবী, আল্লাহর অবতার, তাঁর সন্তান, আল্লাহর সান্নিধ্যে অবস্থানকারী ও তাঁর কাছে শাফা’আতকারী অথবা এদের মধ্য থেকে কেউ রোগ নিরাময়কারী আবার কেউ সন্তান-দাতা এবং কেউ রিযিকদাতা এসবই মিথ্যা কথা। তোমরা নিজেদের ধারণা ও কল্পনার মাধ্যমে এসব রচনা করেছো। আসল সত্য এছাড়া আর কিছুই নয় যে, এগুলো নিছক হাতে গড়া নিষ্প্রাণ মূর্তি এবং এদের কোন ক্ষমতা ও প্রভাব নেই। এগুলো কখনো ইলাহ হতে পারে না। (দেখুন: সা'দী: মুয়াস্সার)
(২) এ কয়েকটি বাক্যের মধ্যে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সমস্ত যুক্তি একত্র করেছেন। মনে হয় যেন তিনি বলছেন, যে নিজে অসম্পূর্ণ, অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তার অস্তিত্বের জন্য, যে মূর্তিগুলো তোমাদের কোন প্রকারের কোন রিযিক দান করতে পারে না, তারা সামান্য- সামান্যতমও কোন প্রকার ইবাদাতের মালিক হতে পারে না। তোমাদেরকে তো আল্লাহর দিকে ফিরে যেতেই হবে। সুতরাং তোমরা তারই ইবাদাত কর। (সা'দী)
(১৭) তোমরা তো আল্লাহ ব্যতীত কেবল প্রতিমার উপাসনা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ;(1) তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের উপাসনা কর, তারা তোমাদের রুযী দানে অক্ষম। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকটেই রুযী কামনা কর এবং তাঁর উপাসনা ও কৃতজ্ঞতা কর।(2) তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।(3)
(1) أَوثَان শব্দটি وَثَن এর বহুবচন। যেমন, أَصنَام শব্দটি صَنَم এর বহুবচন। দুয়েরই অর্থ হল প্রতিমা। কেউ কেউ বলেন, স্বর্ণ-রৌপ্য, পিতল ও পাথরের তৈরী মূর্তিকে صَنَم বলা হয়। আর وَثَن মূর্তি এবং চুন-পাথর নির্মিত আস্তানাকেও বলা হয়। تَخلُقُون إِفكًا এর অর্থ تَكذِبُونَ كَذِبًا (মিথ্যা উদ্ভাবন করা)। এর অন্য একটি অর্থ হল, تَعمَلُونها وتَنحِتُونَها لِلإفْك (মিথ্যা উদ্দেশ্য লাভের আশায় তা গড় ও নির্মাণ কর।) ভাবার্থের দিক দিয়ে উভয়ই অর্থ সঠিক। অর্থাৎ, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ইবাদত করছ, তারা তো পাথর-নির্মিত মূর্তি মাত্র; না তারা শুনতে পায়, আর না দেখতে, তারা না উপকার করতে পারে, না অপকার। তোমরা নিজেরাই তাদেরকে বানিয়েছ। তাদের সত্য হওয়ার প্রমাণ তো কোন কিছুই তোমাদের নিকট নেই। অথবা এ সকল মূর্তি, যা তোমরা নিজ হাতে তৈরী কর, যখন তা বিশেষ একটি গঠন ও রূপ লাভ করে, তখন তোমরা মনে কর যে, ওর মধ্যে ইলাহী ক্ষমতা এসে গেছে। ফলে তোমরা ওর নিকটে নানা আশা ও কামনা করে থাক। তাদেরকে বিপত্তারণ ও সংকট মোচনকারী হিসাবে মান্য করতে শুরু কর!
(2) যখন এই সকল মূর্তি তোমাদের জীবিকার বা উপার্জনের কোন প্রকার ক্ষমতা রাখে না; তারা না বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে, আর না পৃথিবীতে কোন প্রকার গাছ-পালা উৎপন্ন করতে পারে, না সূর্যের আলো পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে, আর না তোমাদের এমন শক্তি প্রদানে সক্ষম যার দ্বারা প্রকৃতির ঐ সমস্ত জিনিস হতে উপকৃত হতে পার। সুতরাং তোমরা তোমাদের জীবিকা আল্লাহর নিকটেই কামনা কর এবং তাঁরই ইবাদত কর ও তাঁরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
(3) অর্থাৎ, মৃত্যুবরণ করার পর পুনর্জীবন লাভ করে যখন তাঁর নিকট ফিরে যেতে হবে, তখন তাকে ছেড়ে অন্যের নিকট নিজের মাথা কেন নত কর? তাঁকে ছেড়ে অন্যের ইবাদত কেন কর? এবং অন্যকে কেন দুঃখ-কষ্ট নিবারণকারী ও প্রয়োজন পূর্ণকারী মনে কর?