ওয়া কাম আহ লাকনা-মিন কারইয়াতিম বাতিরত মা‘ঈশাতাহা- ফাতিলকা মাছাকিনুহুম লাম তুছকাম মিম বা‘দিহিম ইল্লা-কালীলাওঁ ওয়া কুন্না-নাহনুল ওয়া-রিছীন।উচ্চারণ
আর এমন কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি যেখানকার লোকেরা তাদের সম্পদ-সম্পত্তির দম্ভ করতো। কাজেই দেখে নাও, ঐসব তাদের ঘরবাড়ি পড়ে আছে, যেগুলোর মধ্যে তাদের পরে কদাচিৎ কেউ বসবাস করেছে, শেষ পর্যন্ত আমিই হয়েছি উত্তরাধিকারী। ৮২ তাফহীমুল কুরআন
আমি এমন কত জনপদ ধ্বংস করেছি, যার বাসিন্দাগণ তাদের অর্থ-সম্পদের বড়াই করত। ওই তো তাদের বাস্তুভিটা (যা তোমাদের সামনে রয়েছে), তাদের পর সামান্য কিছুকাল ছাড়া তা আর আবাদ হতে পারেনি। #%৪০%# আমিই হয়েছি তার উত্তরাধিকারী।মুফতী তাকী উসমানী
কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ সম্পদের দম্ভ করত। এগুলিইতো তাদের ঘরবাড়ী, তাদের পরে এগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে; আর আমিতো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।মুজিবুর রহমান
আমি অনেক জনপদ ধবংস করেছি, যার অধিবাসীরা তাদের জীবন যাপনে মদমত্ত ছিল। এগুলোই এখন তাদের ঘর-বাড়ী। তাদের পর এগুলোতে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ-সম্পদের দম্ভ করত! এগুলিই তো এদের ঘরবাড়ি ; এদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী ! ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি, যার বাসিন্দারা তাদের জীবন উপকরণ নিয়ে দম্ভ করত! এগুলো তো তাদের বাসস্থান। তাদের পরে (এখানে) সামান্যই বসবাস করা হয়েছে। আর আমিই চূড়ান্ত মালিকানার ওয়ারিস।আল-বায়ান
আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি যারা তাদের (ভোগবিলাসপূর্ণ) জীবনে চরম উৎকর্ষ সাধন করেছিল। এই তো তাদের বাসস্থান, তাদের পর এগুলোতে খুব অল্প লোকই বসবাস করেছে, অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।তাইসিরুল
আর জনপদদের কতটাকে যে আমরা ধ্বংস করেছি যে গর্ব করেছিল তার প্রাচুর্যের জন্য! আর এইসব তাদের ঘরবাড়ি, -- তাদের পরে অল্প কতক ব্যতীত সেগুলোতে বসবাস করা হয় নি। আর আমরা, খোদ আমরা হচ্ছি উত্তরাধিকারী।মাওলানা জহুরুল হক
৮২
এটি তাদের আপত্তির দ্বিতীয় জবাব। এর অর্থ হচ্ছে, যে ধনদৌলত ও সমৃদ্ধির জন্য তোমরা অহংকারী হয়ে উঠেছো এবং যার বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশঙ্কায় বাতিলের উপরে টিকে থাকতে ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছো সেই জিনিসই এক সময় আদ, সামূদ, সাবা, মাদয়ান ও লূতের জাতির লোকদের দেয়া হয়েছিল। এ জিনিস কি তাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল? মোট কথা জীবন যাপনের উন্নত মানই তো একমাত্র কাম্য বস্তু নয়, যে মানুষ সত্য-মিথ্যার পরোয়া না করে শুধুমাত্র তারই পেছনে পড়ে থাকবে এবং সঠিক পথ অবলম্বন করলে এ ইপ্সিত মুক্তখণ্ডটি হস্তচ্যুত হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে বলেই তা অবলম্বন করতে অস্বীকার করবে। যেসব অসৎ ও ভ্রষ্টতামূলক কাজ অতীতের সমৃদ্ধিশালী জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে তার ওপর টিকে থাকার প্রচেষ্টা চালিয়ে তোমরা রক্ষা পেয়ে যাবে এবং তাদের মতো তোমাদের ওপর কখনো ধ্বংস নেমে আসবে না এর কোন গ্যারান্টি কি তোমাদের কাছে আছে?
অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেসব জনপদে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, যারা কুদরতের নিদর্শন ও নাফরমানির দৃষ্টান্তমূলক পরিণাম দেখার জন্য সেখানে যায় কিংবা যাতায়াত পথে যে ভ্রমণকারীরা যাত্রাবিরতি দেয় কেবল তারাই দু-এক দিন বা আরও অল্প সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করে। -অনুবাদক
৫৮. আর আমরা বহু জনপদকে ধ্বংস করেছি যার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ-সম্পদের অহংকার করত! এগুলোই তো তাদের ঘরবাড়ী; তাদের পর এগুলোতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে।(১) আর আমরাই তো চূড়ান্ত ওয়ারিশ (প্রকৃত মালিক)!
(১) এখানে অর্থ হবে এই যে, অতীত সম্প্রদায়সমূহের যেসব জনপদকে আল্লাহর আযাব দ্বারা বিধ্বস্ত করা হয়েছিল, এখন পর্যন্ত সেগুলোতে মানুষ সামান্যই মাত্র বাস করছে। এই ‘সামান্য’র অর্থ যদি যৎসামান্য বাসস্থান কিংবা আবাস নেয়া হয়, তবে উদ্দেশ্য হবে এই যে, সামান্য সংখ্যক বাসগৃহ ব্যতীত এসব ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদসমূহের কোন বাসগৃহ পুনরায় আবাদ হয়নি। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘সামান্য’র অর্থ সামান্যক্ষণ বা সামান্য সময় অর্থাৎ এসব জনপদে কেউ থাকলেও সামান্যক্ষণ থাকে; যেমন কোন পথিক অল্পক্ষণের জন্যে কোথাও বিশ্রাম নেয়। একে জনপদের আবাদী বলা যায় না।
(৫৮) কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যার অধিবাসীরা নিজেদের ভোগ-সম্পদের জন্য গর্বিত ছিল। এগুলিই তো ওদের ঘরবাড়ী; ওদের পর এগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে।(1) আর আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী! (2)
(1) এখানে মক্কাবাসীদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে যে, তোমরা কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে যারা তার কৃতজ্ঞতা করেনি, তাদের পরিণতি কি হয়েছে? আজ-কাল তাদের অধিকাংশ আবাদী ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে বা তাদের নাম শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে। এখন কোন যাত্রী তার যাত্রাপথে সেই সব জায়গায় হয়তো একটু জিরিয়ে নেয়। কিন্তু অশুভ পরিণামের কারণে সেখানে কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায় না।
(2) অর্থাৎ, তাদের কেউ বেঁচে ছিল না, যে তাদের ঘর-বাড়ি ও ধন সম্পদের উত্তরাধিকারী হত।