ফালাম্মা-জাআহুমুল হাক্কুমিন ‘ইনদিনা ক-লূলাওলা ঊতিয়া মিছলা মাঊতিয়া মূছা- আওয়ালাম ইয়াকফুরূবিমাঊতিয়া মূছা-মিন কাবলু ক-লূছিহর-নি তাজাহার- ওয়া ক-লূইন্না-বিকুল্লিন ক-ফিরূন।উচ্চারণ
কিন্তু যখন আমার কাছ থেকে সত্য তাদের কাছে পৌঁছে গেলো তখন তারা বলতে লাগলো, মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল কেন তাকে সেসব দেয়া হলো না? ৬৭ এর আগে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? ৬৮ তারা বললো, “দু’টোই যাদু, ৬৯ যা একে অন্যকে সাহায্য করে।” আর বললো, “আমরা কোনটাই মানি না।” তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ হতে সত্য এসে গেল, তখন তারা বলতে লাগল, মূসা (আলাইহিস সালাম)কে যেমনটা দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস একে (অর্থাৎ এই রাসূলকে) কেন দেওয়া হল না? #%৩১%# পূর্বে মূসাকে যা দেওয়া হয়েছিল, তারা কি পূর্বেই তা প্রত্যাখ্যান করেনি? তারা বলেছিল, এ দুটোই যাদু, যার একটি অন্যটিকে সমর্থন করে। আমরা এর প্রত্যেকটিই অস্বীকার করি। #%৩২%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যখন আমার নিকট হতে তাদের নিকট সত্য এসে গেল, তারা বলতে লাগলঃ মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল অনুরূপ তাকে দেয়া হলনা কেন? কিন্তু পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিলঃ উভয়ই যাদু, একে অপরকে সমর্থন করে; এবং তারা বলেছিলঃ আমরা প্রত্যেককে প্রত্যাখ্যান করি।মুজিবুর রহমান
অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর যখন আমার নিকট হতে এদের নিকট সত্য এলো, এরা বলতে লাগল, ‘মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, তাকে সেরূপ দেওয়া হল না কেন ?’ কিন্তু পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি এরা অস্বীকার করে নাই ? এরা বলেছিল, ‘দুইটিই জাদু, একে অপরকে সমর্থন করে।’ এবং এরা বলেছিল, ‘আমরা সকলকেই প্রত্যাখ্যান করি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন আমার নিকট থেকে তাদের কাছে সত্য আসল তখন তারা বলল, ‘মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তাকে(মুহাম্মাদকে) কেন সেরূপ দেয়া হল না’? ইতঃপূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, ‘দু’টিই যাদু, একটি অপরটিকে সাহায্য করে’। আর তারা বলেছিল, ‘আমরা সবই অস্বীকারকারী’।আল-বায়ান
অতঃপর আমার নিকট থেকে তাদের কাছে যখন সত্য আসল তখন তারা বলল- ‘মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তাকে কেন সেরূপ দেয়া হল না? ইতোপূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তারা কি তা অস্বীকার করেনি?’ তারা বলেছিল- ‘দু’টোই যাদু, একটা আরেকটার সহায়তাকারী। আর তারা বলেছিল আমরা (তাওরাত ও কুরআন) সবই প্রত্যাখ্যান করি।’তাইসিরুল
কিন্তু যখন আমাদের তরফ থেকে তাদের কাছে সত্য এসেছে তারা বলছে -- "মুসাকে যেমন দেওয়া হয়েছিল তাকে কেন তেমনটা দেওয়া হ’ল না?" কী! মূসাকে ইতিপূর্বে যা দেওয়া হয়েছিল তাতে কি তারা অবিশ্বাস করে নি? তারা বলে -- "দুখানা জাদু -- একে অন্যের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।" আর তারা বলে -- "আমরা আলবৎ সবটাতেই অবিশ্বাসী।"মাওলানা জহুরুল হক
৬৭
অর্থাৎ হযরত মূসাকে (আ) যেসব মু’জিযা দেয়া হয়েছিল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে সবগুলো দেয়া হলো না কেন? ইনিও লাঠিকে সাপ বানিয়ে আমাদের দেখাতেন। এঁর হাতও বগল থেকে বের করার পর সূর্যের মতো উজ্জ্বল বিকিরণ করতো। এঁর ইশারায়ও অস্বীকারকারীদের ওপর একের পর এক তুফান এবং আকাশ ও পৃথিবীর বালা-মুসীবত নাযিল হতো। ইনিও পাথরের গায়ে লিখিত বিধান এনে আমাদের দিতেন।
৬৮
এ হচ্ছে তাদের অভিযোগের জবাব। এর অর্থ হচ্ছে মু’জিযা সত্ত্বেও তোমরা কি মূসা (আঃ) প্রতি ঈমান এনেছিলে? তাহলে আজ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সেগুলোর দাবী করছো কেন? তোমরা নিজেরাই বলছো, মূসাকে এসব মু’জিযা দেয়া হয়েছিল কিন্তু তারপরও তোমরা তাঁকে নবী বলে মেনে নিয়ে কোনদিন তাঁর আনুগত্য গ্রহণ করোনি। সূরা সাবার ৩১ আয়াতেও মক্কার কাফেরদের এ উক্তি উদ্বৃত করা হয়েছেঃ “আমরা এই কুরআনও মানবো না, এর আগের কিতাবগুলোকেও মানবো না।”
৬৯
অর্থাৎ কুরআন ও তাওরাত।
অর্থাৎ যখন তাওরাত সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছিল তা মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে এবং এমন সব আলামত বর্ণনা করে, যা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতকে প্রমাণ করে, তখন সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বলেছিল তাওরাত ও কুরআন দুটোই যাদুর বই (নাউযুবিল্লাহ), যার একটি অন্যটিকে সমর্থন করে। তাই আমরা সবটাই অস্বীকার করি। -অনুবাদক
৪৮. অতঃপর যখন আমাদের কাছ থেকে তাদের কাছে সত্য আসল, তারা বলতে লাগল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, তাকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? কিন্তু আগে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, দুটিই যাদু, একে অন্যকে সমর্থন করে। এবং তারা বলেছিল, আমরা সকলেই প্রত্যাখ্যান করি।
(৪৮) অতঃপর যখন আমার নিকট হতে ওদের নিকট সত্য আগমন করল, তখন ওরা বলতে লাগল, ‘মূসাকে যেরূপ দেওয়া হয়েছিল ও (মুহাম্মাদ)কে সেরূপ দেওয়া হল না কেন?’(1) কিন্তু পূর্বে মূসাকে যা দেওয়া হয়েছিল, তা কি ওরা অস্বীকার করেনি? (2) ওরা বলেছিল, ‘উভয়ই যাদু, একটি অপরটির সমর্থক।’ এবং বলেছিল, ‘আমরা উভয়কে প্রত্যাখ্যান করি।’(3)
(1) অর্থাৎ, মূসার মত মু’জিযা দেওয়া হল না কেন? যেমন, লাঠির সাপ হয়ে যাওয়া ও হাতের উজ্জ্বল সাদা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
(2) অর্থাৎ, তাদের চাহিদানুসারে মু’জিযা যদি দেখিয়ে দেওয়া হয়, তাহলেও লাভ কি? কারণ যারা ঈমান গ্রহণ করবে না, তারা বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন দেখার পরও ঈমান হতে বঞ্চিত থাকবে। মূসার উক্ত মু’জিযা দেখে কি ফিরআউনীরা মুসলমান হয়েছিল? তারা কি কুফরে অটল থাকেনি? অথবা يكفُرُوا এর সর্বনাম দ্বারা মক্কার কুরাইশদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, তারা কি নবী মুহাম্মাদের আগে মূসার সঙ্গে কুফরী করেনি?
(3) উপরোক্ত প্রথম ভাবার্থের দিক দিয়ে ‘উভয়ই’ বলতে মূসা ও হারূন (আলাইহিমাস সালাম)-কে বুঝানো হয়েছে। আর سِحرَان শব্দটি سَاحِرَان এর অর্থ হবে। আর দ্বিতীয় ভাবার্থে ‘উভয়ই’ বলতে কুরআন ও তাওরাত বুঝাবে। অর্থাৎ, উভয়ই যাদু যা এক অপরের সমর্থক। আর আমরা প্রত্যেককে অর্থাৎ, মুহাম্মাদ ও মূসাকে অস্বীকার করি। (ফাতহুল কাদীর)