وَلَٰكِنَّآ أَنشَأۡنَا قُرُونٗا فَتَطَاوَلَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡعُمُرُۚ وَمَا كُنتَ ثَاوِيٗا فِيٓ أَهۡلِ مَدۡيَنَ تَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِنَا وَلَٰكِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِينَ

ওয়ালা-কিন্না আনশা’না-কুরূনান ফাতাতা-ওয়ালা ‘আলাইহিমুল ‘উমুরু ওয়ামা-কুনতা ছা-বিয়ান ফীআহলি মাদইয়ানা তাতলূ‘আলাইহিম আ-য়া-তিনা- ওয়া লা-কিন্নাকুন্না-মুরছিলীন।উচ্চারণ

বরং এরপর (তোমার যুগ পর্যন্ত) আমি বহু প্রজন্মের উদ্ভব ঘটিয়েছি এবং তাদের ওপর অনেক যুগ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ৬২ তুমি মাদয়ানবাসীদের মধ্যেও উপস্থিত ছিলে না, যাতে তাদেরকে আমার আয়াত শুনাতে পারতে ৬৩ কিন্তু আমি সে সময়কার এসব তথ্য জানাচ্ছি। তাফহীমুল কুরআন

বস্তুত আমি তাদের পর বহু মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি, যাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে না যে, তাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবে; বরং আমিই (তোমাকে) রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি।মুফতী তাকী উসমানী

বস্তুতঃ আমি অনেক মানব গোষ্ঠির আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম, অতঃপর তাদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়েছে। তুমিতো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলেনা, তাদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করার জন্য। আমিই ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী।মুজিবুর রহমান

কিন্তু আমি অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলেন না যে, তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। কিন্তু আমিই ছিলাম রসূল প্রেরণকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বস্তুত আমি অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম ; এরপর এদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না এদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করার জন্যে। আমিই তো ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু আমি অনেক প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তাদের উপর বহু যুগ অতিবাহিত হয়েছিল। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থানকারী ছিলে না যে, তাদের নিকট আমার আয়াতগুলো তুমি তিলাওয়াত করবে। কিন্তু আমিই রাসূল প্রেরণকারী।আল-বায়ান

কিন্তু আমি অনেক মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ গত হয়ে গেছে। তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না তাদের কাছে আমার আয়াত আবৃত্তি করার জন্য, কিন্তু (তাদের মাঝে) রসূল প্রেরণকারী আমিই ছিলাম।তাইসিরুল

বস্তুতঃ আমরা বহু মানববংশের উদ্ভব করেছিলাম, তারপর জীবনটা তাদের কাছে সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল। আর তুমি মাদয়ানের অধিবাসীদের সঙ্গে বসবাসকারী ছিলে না তাদের কাছে আমাদের বাণীসমূহ আবৃত্তি করা অবস্থায়, কিন্তু আমরাই তো রসূল প্রেরণ করতে রয়েছিলাম।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬২

অর্থাৎ সরাসরি এ তথ্যগুলো লাভ করার কোন উপায় তোমাদের ছিল না। আজ দু’হাজার বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হয়ে যাবার পরও যে, তোমরা এ ঘটনাবলীকে এমনভাবে বর্ণনা করছো যেন তোমাদের চোখে দেখা ঘটনা, আল্লাহর অহীর মাধ্যমে এসব তথ্য তোমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এর আর কোন কারণ নেই।

৬৩

অর্থাৎ যখন মূসা মাদয়ানে পৌঁছেন, তাঁর সাথে সেখানে যা কিছু ঘটে এবং দশ বছর অতিবাহিত করে যখন তিনি সেখান থেকে রওয়ানা দেন তখন সেখানে কোথাও তোমার কোন পাত্তাই ছিল না। তুমি আজ মক্কার অলিতে গলিতে যে কাজ করে বেড়াচ্ছো সে সময় মাদয়ানে জনবসতিগুলোতে সে কাজ করতেন না। আপনি চোখে দেখে এ ঘটনাবলীর উল্লেখ করছো না বরং আমার মাধ্যমেই তোমরা এ জ্ঞানও লাভ করছো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৫. বস্তুত আমরা অনেক প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম; তারপর তাদের উপর বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর আপনি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলেন না যে তাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন।(১) মূলতঃ আমরাই ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী।(২)

(১) অর্থাৎ যখন মূসা মাদইয়ানে পৌঁছেন, তার সাথে সেখানে যা কিছু ঘটে এবং দশ বছর অতিবাহিত করে যখন তিনি সেখান থেকে রওয়ানা দেন তখন সেখানে কোথাও আপনি বিদ্যমান ছিলেন না। আপনি চোখে দেখে এ ঘটনাবলীর উল্লেখ করছেন না বরং আমার মাধ্যমেই আপনি এ জ্ঞান লাভ করছেন। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর)

(২) অর্থাৎ আপনাকে তো আমরা রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি। সে কারণেই আপনি এ সমস্ত ঘটনাবলী আপনার কাছে নাযিলকৃত ওহী থেকে বর্ণনা করতে সক্ষম হচ্ছেন। (কুরতুবী) সরাসরি এ তথ্যগুলো লাভ করার কোন উপায় আপনার ছিল না। আজ দু'হাজার বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হয়ে যাবার পরও যে আপনি এ ঘটনাবলীকে এমনভাবে বর্ণনা করছেন যেন চোখে দেখা ঘটনা, আল্লাহর অহীর মাধ্যমে এসব তথ্য তোমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৫) বস্তুতঃ (মূসার পর) অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম;(1) অতঃপর ওদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে।(2) তুমি তো মাদ্‌য়্যানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না(3) ওদের নিকট আমার বাক্য আবৃত্তি করার জন্য । কিন্তু আমিই ছিলাম রসূলপ্রেরণকারী। (4)

(1) قُرُون শব্দটি قَرن শব্দের বহুবচন, যার অর্থ যুগ বা শতাব্দী। কিন্তু এখানে সম্প্রদায় বা জাতির অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! তোমার ও মূসার মাঝে যে সকল যুগ অতিবাহিত হয়েছে তাতে আমি বেশ কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।

(2) অর্থাৎ, কালের আবর্তনে ধর্মের বিধি-বিধান পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং মানুষ ধর্ম ভুলে বসেছে। যার কারণে তারা আল্লাহর নির্দেশাবলী বর্জন করে এবং তাঁর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভুলে বসে। সুতরাং এক নতুন নবী প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দেয়। অথবা এর অর্থ এই যে, সময়ের ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণে আরবের লোকেরা নবুঅত ও রিসালাত সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হয়। যার কারণে ওরা তোমার নবুঅতের ব্যাপারে আশ্চর্য বোধ করে এবং তোমাকে নবী বলে মেনে নিতে প্রস্তুত হয় না।

(3) যার ফলে তুমি নিজে এই ঘটনার বিস্তারিত সব কিছু জানতে পারতে।

(4) আর সেই নিয়মানুসারেই আমি তোমাকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং পূর্বের অবস্থা ও ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেছি।