وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ ٱلۡغَرۡبِيِّ إِذۡ قَضَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَى ٱلۡأَمۡرَ وَمَا كُنتَ مِنَ ٱلشَّـٰهِدِينَ

ওয়ামা-কুনতা বিজানিবিল গারবিইয়ি ইযকাদাইনাইলা- মূছাল আমর ওয়ামা- কুনতা মিনাশশা-হিদীন।উচ্চারণ

(হে মুহাম্মাদ!) তুমি সে সময় পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না। ৬০ যখন আমি মূসাকে এ শরীয়াত দান করেছিলাম এবং তুমি সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্তও ছিল না। ৬১ তাফহীমুল কুরআন

(হে রাসূল!) আমি যখন মূসার উপর বিধানাবলী অর্পণ করেছিলাম, তখন তুমি (তূর পাহাড়ের) পশ্চিম পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না এবং যারা তা প্রত্যক্ষ করছিল, তুমি তাদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলে না। #%৩০%#মুফতী তাকী উসমানী

মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেনা এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেনা।মুজিবুর রহমান

মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর (হে নবী) আমি যখন মূসাকে বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি (তূর পাহাড়ের) পশ্চিম পার্শে উপস্থিত ছিলে না। আর তুমি প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলে না।আল-বায়ান

মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম তখন তুমি (তূওয়া উপত্যকার) পশ্চিম প্রান্তে ছিলে না, আর ছিলে না তুমি প্রত্যক্ষদর্শী।তাইসিরুল

আর তুমি পশ্চিম প্রান্তে ছিলে না যখন আমরা মূসার কাছে বিধান দিয়েছিলাম, আর তুমি প্রতক্ষদর্শীদের মধ্যেও ছিলে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬০

পশ্চিম প্রান্ত বলতে সিনাই উপদ্বীপের যে পাহাড়ে মূসাকে শরীয়াতের বিধান দেয়া হয়েছিল সেই পাহাড় বুঝানো হয়েছে। এ এলাকাটি হেজাযের পশ্চিম দিকে অবস্থিত।

৬১

অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের সত্তর জন প্রতিনিধি যাদেরকে শরীয়াতের বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করার জন্য মূসার সাথে ডাকা হয়েছিল। (সূরা আ’রাফের ১৫৫ আয়াতে এ প্রতিনিধিদের ডেকে নেবার কথা উল্লেখিত হয়েছে এবং বাইবেলের যাত্রা পুস্তকের ২৪ অধ্যায়েও এর আলোচনা করা হয়েছে।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে ৬১নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কুরআন মাজীদের সত্যতা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য। প্রথম দলীল দেওয়া হয়েছে এই যে, কুরআন মাজীদে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের বহু ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেমন তূর পাহাড়ের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁকে তাওরাত দান করা, সিনাই মরুভূমিতে তাঁকে ডেকে নবুওয়াত দান করা, দীর্ঘকাল মাদইয়ানে অবস্থান, সেখানে তাঁর বিবাহ ও তারপর মিসরে প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি। এসব ঘটনা যখন ঘটে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি এসবের প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না, তাছাড়া এগুলো জানার মত কোন মাধ্যমও তাঁর কাছে ছিল না। তা সত্ত্বেও এমন বিস্তারিত ও যথাযথভাবে তিনি এগুলো বর্ণনা করেছেন কি করে? এর জবাব এ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না যে, তাঁর কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী নাযিল হয়েছে এবং সেই সূত্রে অবগত হয়েই তিনি এসব মানুষকে জানিয়েছেন। সুতরাং তিনি একজন সত্য নবী এবং কুরআন মাজীদও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক সত্য কিতাব।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৪. আর মূসাকে যখন আমরা বিধান দিয়েছিলাম তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন না(১) এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

(১) পশ্চিম প্রান্ত বলতে সিনাই উপদ্বীপের যে পাহাড়ে মূসাকে শরীয়াতের বিধান দেয়া হয়েছিল সেই পাহাড় বুঝানো হয়েছে। এ এলাকাটি হেজাযের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৪) মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়েছিলাম, তখন তুমি পর্বতের পশ্চিম পাশে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না। (1)

(1) অর্থাৎ, যখন আমি তূর পর্বতে মূসার সাথে কথোপকথন করেছিলাম ও তাঁকে অহী ও নবুঅত দ্বারা সম্মানিত করেছিলাম। তখন (হে মুহাম্মাদ!) তুমি সেখানে উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলে না; বরং এটি এমন অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি অহী দ্বারা তোমাকে অবহিত করেছি, আর তা এ কথার প্রমাণ যে, তুমি সত্য নবী। কারণ, না তুমি এ কথা কারো নিকটে শুনেছ, আর না তুমি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছ। এ বিষয়টি আরো বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। যেমন সূরা আলে-ইমরান ৪৪, হূদ ৪৯,১০০, ইউসুফ ১০২, ত্বহা  ৯৯নং আয়াত ইত্যাদি দ্রষ্টব্য।