ওয়া ক-লা মূছা-রববীআ‘লামুবিমান জাআ বিলহুদা-মিন ‘ইনদিহী ওয়া মান তাকূনুলাহূ ‘আ-কিবাতুদ দা-রি ইন্নাহূলা-ইউফলিহুজ্জা-লিমূন।উচ্চারণ
মূসা জবাব দিল, “আমার রব তার অবস্থা ভালো জানেন, যে তার পক্ষ থেকে পথনির্দেশনা নিয়ে এসেছে এবং কার শেষ পরিণতি ভালো হবে তাও তিনিই ভালো জানেন, আসলে জালেম কখনো সফলকাম হয় না।” ৫১ তাফহীমুল কুরআন
মূসা বলল, আমার প্রতিপালক ভালো করেই জানেন কে তার নিকট থেকে হেদায়াত নিয়ে এসেছে এবং পরিণামে কে লাভ করবে উৎকৃষ্ট ঠিকানা। #%২৬%# এটা নিশ্চিত যে, জালেমগণ সফলকাম হবে না। #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী
মূসা বললঃ আমার রাব্ব সম্যক অবগত, কে তাঁর নিকট হতে পথ নির্দেশ নিয়ে এসেছে, এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। নিশ্চয়ই যালিমরা সফলকাম হবেনা।মুজিবুর রহমান
মূসা বলল, আমার পালনকর্তা সম্যক জানেন যে তার নিকট থেকে হেদায়েতের কথা নিয়ে আগমন করেছে এবং যে প্রাপ্ত হবে পরকালের গৃহ। নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মূসা বলল, ‘আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাঁর নিকট হতে পথনির্দেশ এনেছে এবং আখিরাতে কাহার পরিণাম শুভ হবে। জালিমরা কখনো সফলকাম হবে না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর মূসা বলল, ‘আমার রব সম্যক অবগত আছেন, কে তাঁর কাছ থেকে হিদায়াত নিয়ে এসেছে এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। নিশ্চয় যালিমরা সফল হবে না’।আল-বায়ান
মূসা বলল- ‘আমার প্রতিপালক বেশ ভাল ক’রেই জানেন কে তাঁর নিকট থেকে পথ নির্দেশ নিয়ে এসেছে এবং কার পরিণাম আখিরাতে শুভ হবে। যালিমরা কক্ষনো সাফল্য লাভ করবে না।’তাইসিরুল
আর মূসা বললেন -- "আমার প্রভু ভাল জানেন কে তাঁর কাছ থেকে পথনির্দেশ নিয়ে এসেছে আর কার জন্য হবে চরমোৎকর্ষ আবাস। এটি নিশ্চিত যে অত্যাচারীদের সফলকাম করা হবে না।"মাওলানা জহুরুল হক
৫১
অর্থাৎ তুমি আমাকে যাদুকর ও মিথ্যুক গণ্য করছো কিন্তু আমার রব আমার অবস্থা ভালো জানেন। তিনি জানেন তাঁর পক্ষ থেকে যাকে রসূল নিযুক্ত করা হয়েছে সে কেমন লোক। পরিণামের ফায়সালা তাঁরই হাতে রয়েছে। আমি মিথ্যুক হলে আমার পরিণাম খারাপ হবে এবং তুমি মিথ্যুক হলে ভালোভাবে জেনে রাখো তোমার পরিণাম ভালো হবে না। মোট কথা জালেমের মুক্তি নেই, এ সত্য অপরিবর্তনীয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর রসূল নয় এবং মিথ্যা রসূল সেজে নিজের কোন স্বার্থোদ্ধার করতে চায় সেও জালেম এবং সেও মুক্তি ও সাফল্য থেকে বঞ্চিত থাকবে। আর যে ব্যক্তি নানা ধরণের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সত্য রসূলকে মিথ্যা বলে এবং ধোঁকাবাজদের সাহায্যে সত্যকে দমন করতে চায় সেও জালেম এবং সেও কখনো মুক্তি ও সাফল্য লাভ করবে না।
হযরত মূসা (আ.)-এর মুজিযাকে তারা যাদু ঠাওরালে তিনি সংক্ষেপে যে উত্তর দিলেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার উত্তরের ভেতর দিয়ে মুজিযা ও যাদুর স্বরূপ ও উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বললেন, আমার রবই জানেন, কে তার নিকট থেকে হিদায়াত নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ, আমি যা নিয়ে এসেছি তা কোন মিথ্যা তেলেসমাতি নয় যে, ভোজভাজিতেই শেষ হয়ে যাবে, কারও জন্য কোনও কল্যাণ বয়ে আনবে না এবং মুক্তির কোন পথ-নির্দেশ করবে না। বরং এটা আল্লাহপ্রদত্ত নিদর্শন। এটা সত্যের নির্দেশনা দেয়। এতে বিশ্বাস আনলে মুক্তির পথ লাভ হয়, যে পথে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জিত হয়। আর এটা প্রত্যাখ্যান করলে সত্যকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা মহা জুলুম ও অবিচার। যারা তা করে, তারা কখনও সফল হয় না। -অনুবাদক
৩৭. আর মূসা বললেন, আমার রব সম্যক অবগত, কে তার কাছ থেকে পথনির্দেশ এনেছে এবং আখেরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। যালিমরা তো কখনো সফলকাম হবে না।(১)
(১) অর্থাৎ আমার রব আমার অবস্থা ভালো জানেন। তিনি জানেন তাঁর পক্ষ থেকে যাকে রাসূল নিযুক্ত করা হয়েছে সে কেমন লোক। পরিণামের ফায়সালা তাঁরই হাতে রয়েছে। তিনিই তোমাদের ও আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। তিনিই জানেন কার জন্য তিনি আখেরাতের সুন্দর পরিণাম নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। (ইবন কাসীর)
(৩৭) মূসা বলল, আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাঁর নিকট থেকে পথনির্দেশ এনেছে(1) এবং (পরকালে) কার পরিণাম শুভ হবে।(2) নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা সফলকাম হবে না। (3)
(1) অর্থাৎ, তোমার ও আমার চেয়ে আল্লাহই হিদায়াতের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত। অতএব যে কথা আল্লাহর পক্ষ হতে আসবে সে কথা সত্য হবে, নাকি তোমাদের ও তোমাদের বাপ-দাদাদের কথা?
(2) শুভ-পরিণাম বলতে পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর দয়া এবং ক্ষমার যোগ্য হওয়া। আর এ যোগ্যতা একমাত্র তওহীদপন্থীদেরই লাভ হবে।
(3) ظَالِم (সীমালংঘনকারী) বলতে কাফের ও মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। কারণ আরবীতে ظلم এর অর্থ وضع الشيء في غير محله কোন জিনিসকে তার নিজের জায়গায় না রেখে অন্য জায়গায় রাখা। মুশরিক যেহেতু আল্লাহর জায়গায় এমন কিছুকে মাবূদ বানিয়ে দেয় যারা ইবাদতের যোগ্য নয়। অনুরূপ কাফেররাও প্রতিপালকের আসল স্থান সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ থাকে। সেই জন্য এরাই সব থেকে বড় সীমালংঘনকারী, অনাচারী ও অত্যাচারী। আর এরা পরকালে সফলতা হতে; অর্থাৎ, আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া ও ক্ষমা হতে বঞ্চিত হবে। এই আয়াত থেকেও জানা গেল যে, সব চেয়ে বড় সফলতা পরকালের সফলতা। পৃথিবীর সুখ-শান্তি, ধন-সম্পদের আধিক্য সত্যিকার সফলতা নয়। কারণ, এ সাময়িক সফলতা পৃথিবীতে মুশরিক-কাফের সকলের ভাগ্যেই জোটে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের সফলতার কথা খন্ডন করেছেন, যাতে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, সত্যিকার সফলতা পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা; পৃথিবীর কয়েক দিনের অস্থায়ী সুখ-শান্তি এবং ধন-সম্পদ প্রকৃত সফলতা নয়।