ফালাম্মা- জাআহুম মূছা- বিআ-য়া-তিনা বাইয়িনা-তিন ক-লূমা- হা-যা ইল্লাছিহরুম মুফতারওঁ ওয়ামা-ছামি‘না-বিহা-যা-ফীআ-বাইনাল আওওয়ালীন।উচ্চারণ
তারপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে পৌঁছলো তখন তারা বললো, এসব বানোয়াট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। ৪৯ আর এসব কথা তো আমরা আমাদের বাপ দাদার কালে কখনো শুনিনি। ৫০ তাফহীমুল কুরআন
যখন মূসা আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল, এটা আর কিছুই নয়, কেবল বানোয়াট যাদু। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ কথা শুনিনি।মুফতী তাকী উসমানী
মূসা যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলি নিয়ে এলো তখন তারা বললঃ এটাতো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র! আমাদের পূর্ব-পুরুষদের কাছে আমরা কখনও এরূপ কথা শুনিনি।মুজিবুর রহমান
অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে পৌছল, তখন তারা বলল, এতো অলীক জাদু মাত্র। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এ কথা শুনিনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মূসা যখন এদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলি নিয়ে এলো, এরা বলল, ‘এটা তো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র। আমাদের পূর্বপুরুষগণের কালে কখনও এরূপ কথা শুনি নাই।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে আসল, তখন তারা বলল, ‘এ তো মিথ্যা যাদু ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এরূপ কথা আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যেও শুনিনি’।আল-বায়ান
মূসা যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসল, তারা বলল- এতো অলীক যাদু মাত্র, আমাদের পূর্বপুরুষদের যামানায় এ সবের কথা তো শুনিনি।তাইসিরুল
তারপর মূসা যখন তাদের কাছে এলেন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে, তারা বলল -- "এ তো বানানো ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়, আর একরম আমাদের পূর্ববর্তী বাপদাদার আমলেও আমরা শুনি নি।"মাওলানা জহুরুল হক
৪৯
মূলে বলা হয়েছে سِحْرٌ مُفْتَرًى “বানোয়াট যাদু।” এ বানোয়াটকে যদি মিথ্যা অর্থে ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হবে, এ লাঠির সাপে পরিণত হওয়া এবং হাতের ঔজ্জ্বল্য বিকীরণ করা মূল জিনিসের প্রকৃত পরিবর্তন নয় বরং এটা হচ্ছে নিছক একটি লোক দেখানো প্রতারণামূলক কৌশল, একে মু’জিযা বলে এ ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দিচ্ছে। আর যদি একে বানোয়াট অর্থে গ্রহণ করা হয়, তাহলে এর অর্থ হবে, এ ব্যক্তি কোন কৌশল অবলম্বন করে এমন একটি জিনিস তৈরী করে এনেছে, যা দেখতে লাঠির মতো কিন্তু যখন সে সেটাকে ছুঁড়ে দেয় তখন সাপের মতো দেখায়। আর নিজের হাতেও সে এমন কিছু জিনিস মাখিয়ে নিয়েছে যার ফলে তা বগল থেকে বের হবার পর হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ কৃত্রিম যাদু সে নিজেই তৈরী করেছে কিন্তু আমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছে এ বলে যে, এটি আল্লাহ প্রদত্ত একটি মু’জিযা।
৫০
রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হযরত মূসা যেসব কথা বলেছিলেন সে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনের অন্যান্য জায়গায় এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। আন-নাযি’আতে বলা হয়েছে, মূসা তাকে বলেনঃ
هَلْ لَكَ إِلَى أَنْ تَزَكَّى - وَأَهْدِيَكَ إِلَى رَبِّكَ فَتَخْشَى
“তুমি কি পবিত্র-পরিচ্ছন্ন নীতি অবলম্বন করতে আগ্রহী? এবং আমি তোমাকে তোমার রবের পথ বাতলে দিলে কি তুমি ভীত হবে?” (আন-নাযিয়াত-১৮-১৯)
সূরা ত্বআ-হায়ে বলা হয়েছেঃ
قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى - إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَى مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى-(طه-47-48)
“আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আর যে ব্যক্তি সঠিক পথের অনুসারী হয় তার জন্য রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা। আমাদের প্রতি অহী নাযিল করা হয়েছে এ মর্মে যে, শাস্তি তার জন্য যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” আর إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ “আমরা তোমার রবের পয়গম্বর, তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।” একথাগুলো সম্পর্কেই ফেরাউন বলে, আমাদের বাপ-দাদারাও কখনো একথা শোনেনি যে, মিসরের ফেরাউনের উপরেও কোন কর্তৃত্বশালী সত্তা আছে, যে তাকে হুকুম করার ক্ষমতা রাখে, তাকে শাস্তি দিতে পারে, তাকে নির্দেশ দেবার জন্য কোন লোককে তার দরবারে পাঠাতে পারে এবং ভয় করার জন্য মিসরের বাদশাহকে উপদেশ দেয়া যেতে পারে। এ সম্পূর্ণ অভিনব কথা আমরা আজ এক ব্যক্তির মুখে শুনছি।
৩৬. অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসল, তারা বলল, এটা তো অলীক জাদু মাত্ৰ!(১) আর আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে কখনো এরূপ কথা শুনিনি।(২)
(১) বলা হয়েছেঃ অলীক জাদু বা বানোয়াট জাদু। (কুরতুবী) তুমি নিজে এটা বানিয়ে নিয়েছ। (ফাতহুল কাদীর)
(২) রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মূসা আলাইহিস সালাম যেসব কথা বলেছিলেন সে দিকে ইংগিত করা হয়েছে। কুরআনের অন্যান্য জায়গায় এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। অন্যত্র এসেছে, মূসা তাকে বলেনঃ “তুমি কি পবিত্র পরিচ্ছন্ন নীতি অবলম্বন করতে আগ্রহী? এবং আমি তোমাকে তোমার রবের পথ বাতলে দিলে কি তুমি ভীত হবে? (সূরা আন-নাযি'আতঃ ১৮–১৯) সূরা ত্বা-হায়ে বলা হয়েছেঃ আর আমরা তোমার রবের রাসূল, তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও। আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে নির্দশন নিয়ে এসেছি। আর যে ব্যক্তি সঠিক পথের অনুসারী হয় তার জন্য রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা। আমাদের প্রতি অহী নাযিল করা হয়েছে। এ মর্মে যে, শাস্তি তার জন্য যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরা ত্বা-হা: ৪৭–৪৮)
এ কথাগুলো সম্পর্কেই ফিরআউন বলে, আমাদের বাপ দাদারাও কখনো একথা শোনেনি যে, মিসরের ফিরআউনের উপরেও কোন কর্তৃত্বশালী সত্তা আছে, যে তাকে হুকুম করার ক্ষমতা রাখে, তাকে শাস্তি দিতে পারে, তাকে নির্দেশ দেবার জন্য কোন লোককে তার দরবারে পাঠাতে পারে এবং যাকে ভয় করার জন্য মিসরের বাদশাহকে উপদেশ দেয়া যেতে পারে। এ সম্পূর্ণ অভিনব কথা আমরা আজ এক ব্যক্তির মুখে শুনছি। অথবা আয়াতের অর্থ আমরা নবুওয়ত ও রিসালাত সম্পর্কে আগে কখনও শুনিনি। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর)
(৩৬) সুতরাং মূসা যখন ওদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সহ উপস্থিত হল, তখন ওরা বলল, ‘এ তো অলীক যাদু মাত্র! আমাদের পূর্বপুরুষকালে কখনও এরূপ ঘটতে শুনিনি।’ (1)
(1) অর্থাৎ, এই দাওয়াত যে, বিশ্ব-জাহানে একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য এটি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কথা। এ কথা না আমরা শুনেছি আর না আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই তাওহীদ সম্পর্কে অবহিত ছিল। মক্কার মুশরিকরাও নবী (সাঃ) সম্পর্কে বলেছিল,{أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} অর্থাৎ, সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার। (সূরা সা’দ ৫ আয়াত)