ওয়া দাখালাল মাদীনাতা ‘আলা-হীনি গাফলাতিম মিন আহলিহা-ফাওয়াজাদাফীহারজুলাইনি ইয়াকতাতিলা-নি হা-যা-মিন শী‘আতিহী ওয়া হা-যা-মিন আদুওবিহী ফাছতাগা-ছাহুল্লাযী মিন শী‘আতিহী ‘আলাল্লাযী মিন ‘আদুওবিহী ফাওয়াকাঝাহূ মূছা-ফাকাদা-‘আলাইহি ক-লা হা-যা-মিন ‘আমালিশশাইতা-নি ইন্নাহূ ‘আদুওউম মুদিল্লুম মুবীন।উচ্চারণ
(একদিন) সে শহরে এমন সময় প্রবেশ করলো যখন শহরবাসীরা উদাসীন ছিল। ২০ সেখানে সে দেখলো দু'জন লোক লড়াই করছে। একজন তার নিজের সম্প্রদায়ের এবং অন্যজন তার শত্রুসম্প্রদায়ের। তার সম্প্রদায়ের লোকটি শত্রুসম্প্রদায়ের লোকটির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার জন্য ডাক দিল। মূসা তাকে একটি ঘুষি মারলো ২১ এবং তাকে মেরে ফেললো। (এ কাণ্ড ঘটে যেতেই) মূসা বললো, “এটা শয়তানের কাজ, সে ভয়ংকর শত্রুএবং প্রকাশ্য পথভ্রষ্টকারী।” ২২ তাফহীমুল কুরআন
এবং (একদা) সে নগরে এমন এক সময় প্রবেশ করল, যখন তার বাসিন্দাগণ ছিল অসতর্ক। সে দেখল সেখানে দু’জন লোক মারামারি করছে। একজন তো তার নিজ দলের এবং আরেকজন তার শত্রুপক্ষের। যে ব্যক্তি ছিল তার নিজ দলের, সে তার শত্রুপক্ষের লোকটির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্যের জন্য ডাকল। তখন মূসা তাকে একটি ঘুষি মারল আর তা তার কর্ম সাবাড় করে দিল। (তারপর) সে (আক্ষেপ করে) বলল, এটা শয়তানের কাণ্ড। মূলত সে এক প্রকাশ্য শত্রু, যার কাজই ভুল পথে নিয়ে যাওয়া।মুফতী তাকী উসমানী
সে নগরীতে প্রবেশ করল, যখন এর অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। সেখানে সে দু’টি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখল - একজন তার নিজ দলের এবং অপর জন তার শত্রু দলের। মূসার দলের লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারল, এতেই তার মৃত্যু হল। মূসা বললঃ এটা শাইতানের কান্ড, সেতো প্রকাশ্য শত্রু ও পথভ্রষ্টকারী।মুজিবুর রহমান
তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন। এদের একজন ছিল তাঁর নিজ দলের এবং অন্য জন তাঁর শত্রু দলের। অতঃপর যে তাঁর নিজ দলের সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে নগরীতে প্রবেশ করল, যখন এটার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। সেখানে সে দুইটি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখল, একজন তার নিজ দলের এবং অপর জন তার শত্রুদলের। মূসার দলের লোকটি এর শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন মূসা একে ঘুষি মারল; এভাবে সে তাকে হত্যা করে বসল। মূসা বলল, ‘এটা শয়তানের কাণ্ড। সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সে শহরে প্রবেশ করল, যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। তখন সেখানে সে দু’জন লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত অবস্থায় পেল। একজন তার নিজের দলের এবং অপরজন তার শত্রুদলের। তখন তার নিজের দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্য চাইল। অতঃপর মূসা তাকে ঘুষি মারল ফলে সে তাকে মেরে ফেলল। মূসা বলল, ‘এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টকারী প্রকাশ্য শত্রু’।আল-বায়ান
সে শহরে প্রবেশ করল যখন সেখানের লোকেরা অসতর্ক অবস্থায় ছিল। তখন সে দু’জন লোককে সংঘর্ষরত অবস্থায় পেল। একজন তার দলের, অপরজন তার শত্রুদলের। তখন তার দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্যের আবেদন জানালো। তখন মূসা তাকে ঘুসি মারল এবং হত্যা করে ফেলল। মূসা বলল- ‘এটা শয়ত্বানের কাজ। সে নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু, গুমরাহকারী।’তাইসিরুল
আর তিনি শহরে প্রবেশ করলেন যে সময়ে এর অধিবাসীরা অসতর্ক ছিল, তখন তিনি সেখানে দেখতে পেলেন দুজন লোক মারামারি করছে, -- একজন তাঁর দলের আর একজন তাঁর শত্রুপক্ষের, তখন যে ব্যক্তি তাঁর দলীয় সে তাঁর সাহায্যের জন্য চীৎকার করল তার বিরুদ্ধে যে তাঁর শত্রুপক্ষীয়, সুতরাং মূসা তাকে ঘুষি মারলেন, তখন তিনি তাকে খতম করে ফেললেন। তিনি বললেন -- "এইটি শয়তানের কাজের ফলে। নিঃসন্দেহ সে এক শত্রু -- প্রকাশ্যভাবে বিভ্রান্তকারী।"মাওলানা জহুরুল হক
২০
হতে পারে এটা ছিল একেবারে ভোর বেলা অথবা গরমকালের দুপুরের সময় কিংবা শীতকালে রাতের বেলা। মোটকথা, তখন সময়টা এমন ছিল যখন পথ-ঘাট ছিল জন কোলাহল মুক্ত এবং সারা শহর ছিল নিরব নিঝুম।
“শহরে প্রবেশ করলো” এ শব্দগুলো থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, রাজপ্রাসাদ সাধারণ জনবসতি থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। হযরত মূসা যেহেতু রাজপ্রাসাদে থাকতেন তাই শহরে বের হলেন, না বলে বলা হয়েছে, শহরে প্রবেশ করলেন।
২১
মূলে وكز শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ চড় মারাও হতে পারে আবার ঘুষি মারাও হতে পারে। চড়ের তুলনায় ঘুষির আঘাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী। তাই আমি এখানে অনুবাদে ঘুষি শব্দ গ্রহণ করেছি।
২২
এ থেকে অনুমান করা যায়, ঘুঁষি খেয়ে মিসরীয়টি যখন পড়ে গেল এবং পড়ে গিয়ে মারা গেল তখন কী ভীষণ লজ্জা ও শংকার মধ্যে হযরত মূসার মুখ থেকে কথাগুলো বের হয়ে গিয়ে থাকবে। হত্যা করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। হত্যা করার উদ্দেশ্যে ঘুঁষি মারাও হয়নি। কেউ এটা আশাও করেনি, একটি ঘুঁষি খেয়েই একজন সুস্থ সবল লোক মারা যাবে। তাই হযরত মূসা বললেন, এটা শয়তানের কোন খারাপ পরিকল্পনা বলে মনে হচ্ছে। সে একটি বড় বিপর্যয় ঘটাবার জন্য আমার হাত দিয়ে একাজ করিয়েছে। ফলে আমার বিরুদ্ধে একজন ইসরাঈলীকে সাহায্য করার জন্য একজন কিবতীকে হত্যা করার অভিযোগ আসবে এবং শুধু আমার বিরুদ্ধে নয় বরং সমগ্র ইসরাঈলী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিসরে একটি বিরাট হাংগামা সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে বাইবেলের বর্ণনা কুরআন থেকে ভিন্ন। বাইবেল হযরত মূসার বিরুদ্ধে সেচ্ছাকৃত হত্যার আভিযোগ এনেছে। তার বর্ণনা মতে মিসরীয় ও ইসরাঈলীকে লড়াই করতে দেখে হযরত মূসা “এদিক ওদিক চাহিয়া কাহাকেও দেখিতে না পাওয়াতে ঐ মিসরীয়কে বধ করিয়া বালির মধ্যে পুতিয়া রাখিলেন।” (যাহা পুস্তক ২: ১২) তালমূদেও একই কথা বলা হয়েছে। এখন বনী ইসরাঈল কিভাবে নিজেদের মনীষীদের চরিত্রে নিজেরাই কলঙ্ক লেপন করেছে এবং কুরআন কিতাবে তাঁদের ভূমিকা পরিচ্ছন্ন ও কলঙ্কমূক্ত করেছে তা যে কোন ব্যক্তি বিচার করতে পারে। সাধারণ বিবেক-বুদ্ধিও এ কথাই বলে, একজন জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ব্যক্তি, পরবর্তীকালে যাঁকে হতে হবে একজন মহিমান্বিত পয়গম্বর এবং মানুষকে ইনসাফ ও ন্যায়নীতির একটি মর্যাদাশালী আইন ব্যবস্থা দান করা হবে যাঁর দায়িত্ব, তিনি এমন একজন অন্ধ জাতীয়তাবাদী হতে পারেন না যে, নিজের জাতির একজনকে অন্য জাতির কোন ব্যক্তির সাথে মারামারি করতে দেখে ক্রোধে ক্ষিপ্ত হয়ে সেচ্ছায় বিপক্ষীয় ব্যক্তিকে মেরে ফেলবেন। ইসরাঈলীকে মিসরীয়দের কবজায় দেখে তাকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য হত্যা করা যে, বৈধ হতে পারে না, তা বলাই নিষ্প্রয়োজন।
হযরত মূসা আলাইহিস সালামের উদ্দেশ্য ছিল কেবল লোকটির অত্যাচার থেকে ইসরাঈলী ব্যক্তিকে রক্ষা করা, হত্যা করার কোন অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। কিন্তু নিয়তি বলে কথা! এক ঘুষিতেই তার জীবন সাঙ্গ হয়ে গেল।
১৫. আর তিনি নগরীতে প্রবেশ করলেন, যখন এর অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক।(১) সেখানে তিনি দুটি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখলেন, একজন তার নিজ দলের এবং অন্যজন তার শক্রদলের। অতঃপর মূসার দলের লোকটি ওরা শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন(২); এভাবে তিনি তাকে হত্যা করে বসলেন। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাণ্ড(৩) সে তো প্ৰকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।
(১) অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, মূসা আলাইহিস সালাম দুপুর সময়ে শহরে প্রবেশ করেছিলেন। এ সময় মানুষ দিবানিদ্রায় মশগুল থাকত। (ফাতহুল কাদীর) কারণ, তিনি তার সঠিক দ্বীন সম্পর্কে জানার পর ফিরআউনের দ্বীনের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতে আরম্ভ করলে, সেটা প্ৰসিদ্ধি লাভ করে। তাই তিনি বাইরে বের হতেন না। (কুরতুবী)
(২) وكز শব্দের অর্থ ঘুষি মারা। ঘুষির সাথেই লোকটি মারা গেল। (দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৩) কিবতী লোকটিকে হত্যা করা শয়তানের কারসাজী ছিল। কারণ, যে স্থানে মুসলিম এবং কিছুসংখ্যক অমুসলিম অন্য কোন রাষ্ট্রে পরস্পর শান্তিতে বসবাস করে, একে অপরের উপর হামলা করা অথবা লুটতরাজ করাকে উভয়পক্ষে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করে; সেইস্থানে এ ধরনের জীবন যাপন ও আদান-প্ৰদানও এক প্রকার কার্যগত চুক্তি যা অবশ্য পালনীয় এবং বিরুদ্ধাচারণ বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। (ফাতহুল কাদীর)
সারকথা এই যে, কার্যগত চুক্তির কারণে কিবতীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হলে তা জায়েয হত না, কিন্তু মূসা আলাইহিস সালাম তাকে প্ৰাণে মারার ইচ্ছা করেননি; বরং ইসরাঈলী লোকটিকে তার যুলুম থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে হাতে প্রহার করেছিলেন। এটা স্বভাবতঃ হত্যার কারণ হয় না। কিন্তু কিবতী এতেই মারা গেল। (ফাতহুল কাদীর) মুসা আলাইহিস সালাম অনুভব করলেন যে, তাকে প্রতিরোধ করার জন্য আরও কম মাত্রার প্রহারও যথেষ্ট ছিল কাজেই এই বাড়াবাড়ি না করলেও চলত। এ কারণেই তিনি একে শয়তানের কারসাজী আখ্যা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
(১৫) সে নগরীতে প্রবেশ করল এমন এক সময়ে যখন এর অধিবাসীরা অসতর্ক অবস্থায় ছিল,(1) সেখানে সে দু’টি লোককে মারামারি করতে দেখল; একজন তার নিজ দলের এবং অপরজন তার শত্রু দলের।(2) মূসার দলের লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা ওকে ঘুষি মারল; এভাবে সে তাকে হত্যা করে বসল। মূসা বলল, ‘এ তো শয়তানের কাজ।(3) নিশ্চয় সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।’ (4)
(1) এ অবস্থাকে কিছু লোক মাগরেব ও এশার মধ্যকার সময়, আবার কেউ কেউ দুপুরের সময় মনে করেছেন, যখন মানুষ বিশ্রাম নেয়।
(2) অর্থাৎ, ফিরআউনের সম্প্রদায়ভুক্ত কিবত্বীদের একজন ছিল।
(3) একে ‘শয়তানের কাজ’ এই কারণে বলা হয়েছে, যেহেতু হত্যা একটি জঘন্যতম অপরাধ; যদিও মূসা (আঃ)-এর ইচ্ছা হত্যা করা ছিল না।
(4) মানুষের সঙ্গে যার শত্রুতা সুস্পষ্ট এবং মানুষকে পথভ্রষ্ট করার যে চেষ্টা সে করে থাকে, তাও কারো নিকট অস্পষ্ট নয়।