ওয়া হাররমনা- ‘আলাইহিল মার-দি‘আ মিন কাবলুফাক-লাত হাল আদুললকুম ‘আলাআহলি বাইতিইঁ ইয়াকফুলূনাহূলাকুম ওয়াহুম লাহূনা-সিহূন।উচ্চারণ
আর আমি পূর্বেই শিশুর জন্য স্তন্য দানকারিনীদের স্তন পান হারাম করে রেখেছিলাম। ১৪ (এ অবস্থা দেখে) সে মেয়েটি তাদেরকে বললো, “আমি তোমাদের এমন পরিবারের সন্ধান দেবো যারা এর প্রতিপালনের দায়িত্ব নেবে এবং এর কল্যাণকামী হবে?” ১৫ তাফহীমুল কুরআন
আমি পূর্ব থেকেই ধাত্রীদুগ্ধ গ্রহণে তার প্রতি নিরোধ আরোপ করে দিয়েছিলাম। শেষে মূসার বোন বলল, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব, যারা তোমাদের পক্ষ হতে এ শিশুর লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার কল্যাণকামী? মুফতী তাকী উসমানী
পূর্ব হতেই আমি ধাত্রীস্তন্য পানে তাকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার বোন বললঃ তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যারা তোমাদের হয়ে একে লালন পালন করবে এবং এর মঙ্গলকামী হবে?মুজিবুর রহমান
পূর্ব থেকেই আমি ধাত্রীদেরকে মূসা থেকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগিনী বলল, আমি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের কথা বলব কি, যারা তোমাদের জন্যে একে লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পূর্ব হতেই আমি ধাত্রী-স্তন্যপানে তাকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগ্নি বলল, ‘তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যারা তোমাদের হয়ে এটাকে লালন-পালন করবে এবং এটার মঙ্গলকামী হবে ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তার জন্য পূর্ব থেকেই ধাত্রী (স্তন্য পান) নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর মূসার বোন এসে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি পরিবারের সন্ধান দেব, যারা এ শিশুটিকে তোমাদের পক্ষে লালন পালন করবে এবং তারা তার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে’।আল-বায়ান
আগে থেকে আমি তাকে ধাত্রী-স্তন্য পান থেকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার বোন বলল- ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একটা পরিবারের খোঁজ দেব যারা তাকে তোমাদের পক্ষে লালন পালন করবে আর তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী।’তাইসিরুল
আর আমরা আগে থেকেই স্তন্যপান তাঁর জন্য নিষিদ্ধ করেছিলাম। তখন সে বললে, "আমি কি আপনাদের এমন কোনো ঘরের লোকের বিষয়ে বলে দেব যারা আপনাদের জন্য তাকে লালন-পালন করতেও পারে, আর তারা এর শুভাকাঙ্খী হবে?"মাওলানা জহুরুল হক
১৪
অর্থাৎ ফেরাউনের স্ত্রী যে ধাত্রীকে স্তন্যদান করার জন্য ডাকতেন শিশু তার স্তনে মুখ লাগাতো না।
১৫
এ থেকে জানা যায়, ভাই ফেরাউনের মহলে পৌঁছে যাবার পর বোন ঘরে বসে থাকেনি। বরং সে একই প্রকার সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তা সহকারে মহলের আশে পাশে চক্কর দিতে থাকে। তারপর যখন জানতে পারে শিশু কারো স্তন মুখে নিচ্ছে না এবং বাদশাহ-বেগম শিশুর পছন্দনীয় ধাত্রীর সন্ধান লাভের জন্য পেরেশান হয়ে পড়েছে তখন সেই বুদ্ধিমতী মেয়ে সোজা রাজমহলে পৌঁছে যায় এবং ঘটনাস্থালে গিয়ে বলে, আমি একজন ভালো ধাত্রীর সন্ধান দিতে পারি, যে বড়ই স্নেহ ও মমতা সহকারে এই শিশুর লালন-পালন করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে এ কথাও বুঝে নিতে হবে, প্রাচীন কালে বড় ও অভিজাত বংশীয় লোকেরা নিজেদের শিশু সন্তান নিজেদের কাছে লালন পালন করার পরিবর্তে সাধারণত ধাত্রীদের হাতে সোপর্দ করে দিতো এবং তারাই নিজেদের কাছে রেখেই তাদের লালন পালন করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন কাহিনীতেও এ কথার উল্লেখ আছে যে, মক্কার আশেপাশের মহিলারা মাঝে মাঝে মক্কায় আসতো ধাত্রীর সেবা দান করার জন্য এবং সরদারদের সন্তানদেরকে মোটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দুধ পান করাবার জন্য নিয়ে যেতো। নবী ﷺ নিজেও হালীমা সা’দীয়ার গৃহে মরুভূমির বুকে প্রতিপালিত হয়েছেন। মিসরেও ছিল এই একই রেওয়াজ। এ কারণে হযরত মূসার বোন একথা বলেননি, “আমি একজন ভালো ধাত্রী এনে দিচ্ছি” বরং বলেন, এমন গৃহের সন্ধান দিচ্ছি যার অধিবাসীরা এর প্রতিপালনের দায়িত্ব নেবে এবং তারা কল্যাণকামিতার সাথে একে লালন পালন করবে।”
ফির‘আওনের স্ত্রী শিশুটিকে লালন-পালন করার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে দুধ পান করানোর জন্য একজন ধাত্রীর দরকার হল, সুতরাং ধাত্রী খোঁজা শুরু হল। কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন ধাত্রীর দুধই মুখে নিচ্ছিলেন না। হযরত আছিয়া (আ.) একজন উপযুক্ত ধাত্রী খুঁজে আনার জন্য তাঁর দাসীদেরকে চারদিকে পাঠিয়ে দিলেন। ওদিকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর তাঁর মা অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার জন্য হযরত মূসা আলাইহিস সালামের বোনকে পাঠিয়ে দিলেন। বোন খুঁজতে খুঁজতে এক জায়গায় এসে দেখে রাণীর দাসীগণ বড় পেরেশান। তারা উপযুক্ত ধাত্রী খুঁজে পাচ্ছে না। সে এটাকে এক অপ্রত্যাশিত সুযোগ মনে করল। প্রস্তাব দিল এ দায়িত্ব তার মাকে দেওয়া যেতে পারে। তাড়াতাড়ি গিয়ে তাকে নিয়েও আসল। তিনি যখন শিশুটিকে বুকে নিয়ে দুধ খাওয়াতে শুরু করলেন, শিশু মহানন্দে খেতে লাগল। এভাবে আল্লাহ তাআলার ওয়াদা মত শিশু তার মায়ের কোলে ফিরে আসল।
১২. আর পূর্ব থেকেই আমরা ধাত্রী-স্তন্যপানে তাকে বিরত রেখেছিলাম। অতঃপর মূসার বোন বলল, তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব, যারা তোমাদের হয়ে একে লালন-পালন করবে এবং এর মঙ্গলকামী হবে?
(১২) আমি পূর্ব হতেই ধাত্রীস্তন্য পানে তাকে বিরত রেখেছিলাম।(1) মূসার ভগিনী বলল, ‘তোমাদেরকে কি আমি এমন পরিবারের কথা বলব, যারা তোমাদের হয়ে একে লালন-পালন করবে এবং এর হিতাকাঙ্ক্ষী হবে?’ (2)
(1) অর্থাৎ, আমি আমার কুদরতে ও সৃষ্টিগত নির্দেশে মূসাকে তাঁর মাতা ছাড়া অন্য সব ধাত্রীর দুধ পান করা নিষেধ করেছিলাম। সুতরাং বহু চেষ্টা-চরিত্র করার পর কোন ধাত্রী তাঁকে দুধ পান করাতে ও চুপ করাতে সফল হল না।
(2) এ সকল দৃশ্য তাঁর বোন চুপি চুপি প্রত্যক্ষ করছিলেন। পরিশেষে বলে ফেললেন যে, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি পরিবারের কথা বলব, যারা এই শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে?’