وَقُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ فَتَعۡرِفُونَهَاۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

ওয়া কুল্লি হামদুলিল্লা-হি ছাইউরীকুম আ-য়া-তিহী ফাতা‘রিফূনাহা- ওয়ামা-রব্বুকা বিগা-ফিলিন ‘আম্মা-তা‘মালূন।উচ্চারণ

তাদেরকে বলো, প্রসংশা আল্লাহরই জন্য, শিগগির তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দশনাবলী দেখিয়ে দেবেন এবং তোমরা তা চিনে নেবে। আর তোমরা যেসব কাজ করো তা থেকে তোমার রব বেখবর নন। তাফহীমুল কুরআন

এবং বলে দাও, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তিনি তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনসমূহ দেখাবেন। অতঃপর তোমরা তা চিনতেও পারবে। #%৪৭%# তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে অনবহিত নন।মুফতী তাকী উসমানী

আর বলঃ প্রশংসা আল্লাহরই, তিনি তোমাদেরকে সত্ত্বর দেখাবেন তাঁর নিদর্শন, তখন তোমরা তা বুঝতে পারবে। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমাদের রাব্ব গাফিল নন।মুজিবুর রহমান

এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা গাফেল নন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর বল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ্ র ই, তিনি তোমাদেরকে সত্বর দেখাবেন তাঁর নিদর্শন; তখন তোমরা তা বুঝতে পারবে।’ তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক গাফিল নন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর বল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর; অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন, তখন তোমরা তা চিনতে পারবে আর তোমরা যা আমল কর সে ব্যাপারে তোমাদের রব বেখবর নন।’আল-বায়ান

আর বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাবেন আর তা তোমরা চিনতে পারবে। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে তোমার পালনকর্তা অমনোযোগী নন।তাইসিরুল

আর বলো -- "সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র, তিনি শীঘ্রই তোমাদের দেখাবেন তাঁর নিদর্শনসমূহ, তখন তোমরা সে-সব চিনতে পারবে।" আর তোমার প্রভু অমনোযোগী নন তোমরা যা কর সে-সন্বন্ধে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা ও আপন কুদরতের বহু নিদর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং মানুষ তা প্রত্যক্ষও করেছে, যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যা মানুষ বাস্তবায়িত হতে দেখেছে। সামনে সূরা ‘রূম’-এর শুরুতে এর একটা উদাহরণ আসছে। আয়াতে নিদর্শনাবলী বলতে এ জাতীয় নিদর্শনও বোঝানো হতে পারে আবার এটাও সম্ভব যে, এর দ্বারা কিয়ামত বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামত তো একদিন সংঘটিত হবেই আর যখন তা সংঘটিত হবে, তখন অবিশ্বাসীরাও চিনতে ও বুঝতে পারবে যে, তা কিয়ামত। কিন্তু তখন বুঝে তো কোন লাভ হবে না, যেহেতু ঈমান আনার সময় পার হয়ে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯৩. আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহরই(১) তিনি তোমাদেরকে সত্বর দেখাবেন তার নিদর্শন; তখন তোমরা তা চিনতে পারবে।(২) আর তোমরা যা করা সে সম্পর্কে আপনার রব গাফিল নন।(৩)

(১) অর্থাৎ এজন্যই আল্লাহর প্রশংসা যে, তিনি কারও বিপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না করে শাস্তি দেন না। অনুরূপভাবে কাউকে ওযর পেশ করার সুযোগ শেষ করা পর্যন্ত আযাব নাযিল করেন না। আর সে জন্যই তিনি তাঁর আয়াতসমূহ নাযিল করবেন। যাতে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে বলতে না পারে যে, আমাদের কাছে আয়াত আসলে তো আমরা ঈমান আনতাম। (দেখুন: ইবন কাসীর)

(২) যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, অচিরেই আমরা তাদেরকে আমাদের নিদর্শনাবলী দেখাব, বিশ্ব জগতের প্রান্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, অবশ্যই এটা (কুরআন) সত্য।” (সূরা ফুসসিলাত: ৫৩)

(৩) বরং তিনি সবকিছুর উপর সাক্ষী। (ইবন কাসীর) তাঁর কাছে কোন কিছু অজ্ঞাত নয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯৩) বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই,(1) তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখাবেন; তখন তোমরা তা চিনতে পারবে।(2) আর তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।’ (3)

(1) যেহেতু তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকেই আযাব দেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না হুজ্জত কায়েম করেন।

(2) তিনি অন্যত্র বলেছেন,{سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ}  অর্থাৎ, আমি ওদের জন্য আমার নিদর্শনাবলী বিশ্বজগতে ব্যক্ত করব এবং ওদের নিজেদের মধ্যেও; ফলে ওদের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এ (কুরআন) সত্য। (সূরা ফুসসিলাত ৫৩ আয়াত) যদি জীবিতকালে উক্ত নিদর্শনাবলী দেখেও তারা ঈমান আনয়ন না করে, তাহলে মৃত্যুর সময় অবশ্যই ওই সমস্ত নিদর্শন দেখে সত্য চিনে নেবে। কিন্তু সে সময়ের ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়।

(3) বরং তিনি প্রতিটি জিনিসকেই প্রত্যক্ষ করছেন। এতে রয়েছে কাফেরদের জন্য কঠিন ভীতি প্রদর্শন ও বিরাট সতর্কীকরণ।