وَمَكَرُواْ مَكۡرٗا وَمَكَرۡنَا مَكۡرٗا وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ

ওয়া মাকারূমাকরওঁ ওয়া মাকারনা-মাকরওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াশ‘উরূন।উচ্চারণ

এ চক্রান্ত তো তারা করলো এবং তারপর আমি একটি কৌশল অবলম্বন করলাম, যার কোন খবর তারা রাখতো না। ৬৫ তাফহীমুল কুরআন

তারা তো এই চাল চালল আর আমিও এক চাল চাললাম কিন্তু তারা টেরও পেল না। #%৩১%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক কৌশল অবলম্বন করলাম, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।মুজিবুর রহমান

তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক কৌশল অবলম্বন করলাম, কিন্তু এরা বুঝতে পারে নাই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা এক চক্রান্ত করল এবং আমিও কৌশল অবলম্বন করলাম। অথচ তারা উপলদ্ধিও করতে পারল না।আল-বায়ান

তারা এক চক্রান্ত করেছিল আর আমিও এক কৌশল অবলম্বন করেছিলাম, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।তাইসিরুল

আর তারা এক ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত করেছিল, আর আমারও এক পরিকল্পনা উদ্ভাবন করেছিলাম, কিন্ত তারা বুঝতেও পারে নি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৫

অর্থাৎ তারা নিজেদের স্থিরীকৃত সময়ে হযরত সালেহের ওপর নৈশ আক্রমণ করার পূর্বেই আল্লাহ তাঁর আযাব নাযিল করলেন এবং এর ফলে কেবলমাত্র তারা নিজেরাই নয় বরং তাদের সমগ্র সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেলো। মনে হয়, উটনীর পায়ের রগ কেটে ফেলার পর তারা এ চক্রান্তটি করেছিল। সূরা হূদে বলা হয়েছে, যখন তারা উটনীকে মেরে ফেললো তখন হযরত সালেহ তাদেরকে নোটিশ দিলেন। তাদেরকে বললেন, ব্যস আর মাত্র তিন দিন ফূর্তি করে নাও তারপর তোমাদের ওপর আযাব এসে যাবে (فَقَالَ تَمَتَّعُوا فِي دَارِكُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ذَلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ) একথায় সম্ভবত তারা চিন্তা করেছিল, সালেহের (আ) কথিত আযাব আসুক বা না আসুক আমরা উটনীর সাথে তারও বা দফা রফা করে দিই না কেন। কাজেই খুব সম্ভবত নৈশ আক্রমণ করার জন্য তারা সেই রাতটিই বেছে নেয়, যে রাতে আযাব আসার কথা ছিল এবং সালেহের গায়ে হাত দেবার আগেই আল্লাহর জবরদস্ত হাত তাদেরকে পাকড়াও করে ফেললো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তাদের চক্রান্ত এমনভাবে নস্যাৎ করা হল যে, তারা কিছু বুঝে উঠতে পারল না। তা কিভাবে তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করা হয়েছিল? কুরআন মাজীদ সে বিবরণ পেশ করেনি। কোন কোন বর্ণনায় প্রকাশ, তারা যখন চক্রান্ত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেল, পথিমধ্যে পাথরের এক বিশালাকার চাঁই তাদের উপর গড়িয়ে পড়ল এবং তার নিচে চাপা পড়ে সকলেই ধ্বংস হয়ে গেল। তারপর সম্প্রদায়ের সকলের উপর আযাব আসল। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তারা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে যখন হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের বাড়িতে পৌঁছল, তখন ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। এ অবস্থায় ফেরেশতাদের হাতেই তারা বিনাশ হয়। আবার কোন কোন মুফাসসির বলেন, তারা তাদের চক্রান্তমত কাজ করার সুযোগই পায়নি। তার আগেই গোটা সম্প্রদায়ের উপর শাস্তি এসে যায় এবং অন্যদের সাথে তারাও ধ্বংস হয়ে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫০. আর তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমরাও এক কৌশল অবলম্বন করলাম, অথচ তারা উপলব্ধিও করতে পারেনি।(১)

(১) অর্থাৎ তারা নিজেদের স্থিরীকৃত সময়ে সালেহের উপর নৈশ আক্রমণ করার পূর্বেই আল্লাহ তাঁর আযাব নাযিল করলেন এবং এর ফলে কেবলমাত্র তারা নিজেরাই নয় বরং তাদের সমগ্র সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেলো। মনে হয়, উটনীর পায়ের রাগ কেটে ফেলার পর তারা এ চক্রান্তটি করেছিল। সূরা হূদে বলা হয়েছে, যখন তারা উটনীকে মেরে ফেললো তখন সালেহ তাদেরকে নোটিশ দিলেন। তাদেরকে বললেন, ব্যস। আর মাত্র তিন দিন ফুর্তি করে নাও তারপর তোমাদের উপর আযাব এসে যাবে একথায় সম্ভবত তারা চিন্তা করেছিল, সালেহ আলাইহিস সালামের কথিত আযাব আসুক বা না আসুক আমরা উটনীর সাথে তারও বা দফা রফা করে দিই না কেন। কাজেই খুব সম্ভবত নৈশ আক্রমণ করার জন্য তারা সেই রাতটিই বেছে নেয়, যে রাতে আযাব আসার কথা ছিল এবং সালেহের গায়ে হাত দেবার আগেই আল্লাহর জবরদস্ত হাত তাদেরকে পাকড়াও করে ফেললো। (বিস্তারিত দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫০) ওরা চক্রান্ত করেছিল(1) এবং আমিও চক্রান্ত করলাম, (2) কিন্তু ওরা বুঝতে পারেনি। (3)

(1) তাদের এটিই ছিল চক্রান্ত। তারা আপোসে শপথ গ্রহণ করল যে, রাত্রের অন্ধকারে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করব। আর তিন দিন পূর্ণ হবার আগেই সালেহ ও তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেব।

(2) অর্থাৎ, আমি তাদেরকে তাদের ঐ ষড়যন্ত্রের বদলা দিলাম এবং তাদেরকে ধ্বংস করলাম। ‘আমিও চক্রান্ত করলাম’ কর্মের অনুরূপ শাস্তিদানের নীতি হিসাবে বলা হয়েছে।

(3) অর্থাৎ, আল্লাহর ঐ চক্রান্তকে তারা বুঝতেই পারেনি।