ক-লূতাক-ছামূবিল্লা-হি লানুবাইয়িতান্নাহূওয়া আহলাহূছু ম্মা লানাকূলান্না লিওয়ালিয়্যিহী মা-শাহিদনা-মাহলিকা আহলিহী ওয়া ইন্না-লাসা-দিকূ ন।উচ্চারণ
তারা পরস্পর বললো “আল্লাহর কসম খেয়ে শপথ করে নাও, আমরা সালেহ ও তার পরিবার পরিজনদের উপর নৈশ আক্রমণ চালাবো এবং তারপর তার অভিভাবককে ৬৩ বলে দেবো আমরা তার পরিবারের ধ্বংসের সময় উপস্থিত ছিলাম না, আমরা একদম সত্য কথা বলছি।” ৬৪ তাফহীমুল কুরআন
তারা (একত্র হয়ে একে অন্যকে) বলল, সকলে শপথ কর, আমরা রাতের বেলা সালেহ ও তার পরিবারবর্গের উপর হামলা চালাব, তারপর তার ওয়ারিশকে বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিতই ছিলাম না। বিশ্বাস কর আমরা সম্পূর্ণ সত্যবাদী।মুফতী তাকী উসমানী
তারা বললঃ তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর; আমরা রাতে তাকে ও তার পরিবার পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করব, অতঃপর তার অভিভাবককে নিশ্চিত বলবঃ তার পরিবার পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।মুজিবুর রহমান
তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা বলল, ‘তোমরা আল্লাহ্ র নামে শপথ গ্রহণ কর, ‘আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করব ; এরপর তার অভিভাবককে নিশ্চয় বলিব, ‘তার পরিবার-পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করি নাই; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘তোমরা পরস্পর আল্লাহর কসম কর যে, আমরা রাত্রিকালে তার ও তার পরিবারের উপর অবশ্যই আক্রমণ করব, অতঃপর আমরা তার নিকটাত্মীয়দের বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করিনি। আর নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী’।আল-বায়ান
তারা বলল- ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ কর যে, তোমরা রাত্রিযোগে তাকে আর তার পরিবারবর্গকে অবশ্য অবশ্যই আক্রমণ করবে, অতঃপর আমরা তার অভিভাবককে অবশ্য অবশ্যই বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’তাইসিরুল
তারা বললে -- "আল্লাহ্র নামে তোমরা কসম খাও যে আমরা অবশ্যই তাকে ও তার পরিজনবর্গকে রাত্রিকালে আক্রমণ করব, তারপর তার দাবিদারকে আমরা আলবৎ বলব -- 'আমরা তার পরিজনবর্গের হত্যাকান্ড দেখতে পাই নি, আর আমরা তো নিঃসন্দেহ সত্যবাদী।"মাওলানা জহুরুল হক
৬৩
অর্থাৎ সালেহ আলাইহিস সালামের গোত্রের সরদারকে। প্রাচীন গোত্রীয় রেওয়াজ অনুযায়ী তাঁকে হত্যা করার বিরুদ্ধে তাঁর গোত্রীয় সরদারেরই রক্তের দাবী পেশ করার অধিকার ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় তাঁর চাচা আবু তালেবেরও এ একই অধিকার ছিল। কুরাইশ বংশীয় কাফেররাও এ আশঙ্কায় পিছিয়ে আসতো যে, যদি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করে ফেলে তাহলে বনু হাশেমের সরদার আবু তালেব নিজের গোত্রের পক্ষ থেকে তাঁর খুনের বদলা নেবার দাবী নিয়ে এগিয়ে আসবে।
৬৪
হুবহু এ একই ধরনের চক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে করার জন্য মক্কার গোত্রীয় সরদাররা চিন্তা করতো। অবশেষে হিজরতের সময় তারা নবীকে ﷺ হত্যা করার জন্য এ চক্রান্ত করলো। অর্থাৎ তারা সব গোত্রের লোক একত্র হয়ে তাঁর উপর হামলা করবে। এর ফলে বনু হাশেম কোন একটি বিশেষ গোত্রকে অপরাধী গণ্য করতে পারবে না এবং সকল গোত্রের সাথে একই সঙ্গে লড়াই করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
৪৯. তারা বলল, তোমরা পরস্পর আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর, আমরা রাতেই শেষ করে দেব তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে; তারপর তার অভিভাবককে নিশ্চিত করে বলব যে, তার পরিবার-পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি; আর আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।(১)
(১) উদ্দেশ্য এই যে, আমরা সবাই মিলে রাতের অন্ধকারে তার উপর ও তার জ্ঞাতিগোষ্ঠীর উপর হানা দেব এবং সবাইকে হত্যা করব। এরপর তার হত্যার দাবীদার তদন্ত করলে আমরা বলে দেব, আমরা তো তাকে হত্যা করিনি এবং কাউকে হত্যা করতেও দেখিনি। একথায় আমরা সত্যবাদী গণ্য হব। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
হুবহু এ একই ধরনের চক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে করার জন্য মক্কার গোত্রীয় সরদাররা চিন্তা করতো। অবশেষে হিজরতের সময় তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্য এ চক্রান্ত করলো। অর্থাৎ তারা সব গোত্রের লোক একত্র হয়ে তার উপর হামলা করবে। এর ফলে বনু হাশেম কোন একটি বিশেষ গোত্রকে অপরাধী গণ্য করতে পারবে না এবং সকল গোত্রের সাথে একই সংগে লড়াই করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। (আল আজুররী; আশ-শারী'আহঃ ৪/১৬৬০)
(৪৯) ওরা বলল, ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে অবশ্যই হত্যা করব;(1) অতঃপর তার দাবিদারকে নিশ্চয় বলব, তার পরিবার-পরিজনকে হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’ (2)
(1) অর্থাৎ, সালেহ (আঃ) ও তাঁর বাড়ির লোককে হত্যা করব। এই শপথ তারা তখন নিয়েছিল, যখন উট হত্যার পর সালেহ (আঃ) তাদেরকে বললেন, তিন দিন পর তোমাদের উপর আযাব আসবে। তারা বলল, আযাব আসার পূর্বেই আমরা সালেহ ও তাঁর পরিবারকে ধ্বংস করে ফেলব।
(2) অর্থাৎ, তাদেরকে হত্যার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। অথবা হত্যাকারী কে --তাও আমরা জানি না।